প্রেমে রাজি না হওয়ায় খাদিজাকে এসিডে ঝলসে দিলো

প্রকাশিত: সেপ্টে ২৭, ২০২০ / ১০:৩২অপরাহ্ণ
প্রেমে রাজি না হওয়ায় খাদিজাকে এসিডে ঝলসে দিলো

রাতে নিজের রুমে বসে একা একা মোবাইলে গান শুনছিল খাদিজা। খোলা ছিল ঘরের জানালা। আর সেই জানালা দিয়েই আসে বোতল ভর্তি এসিড।

এসিড পড়ে খাদিজার শরীরে। পুড়ে যায় শরীরের ৪০ শতাংশ। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে পুড়তে হয়েছে এসিডের আগুনে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া গ্রামে।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এসিডে পোড়া যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী খাদিজা আক্তার মনি। গত বৃহস্পতিবার রাতে জানালা দিয়ে ছোঁড়া বোতল ভর্তি এসিডে খাদিজার শরীরের ৫০ ভাগ পুড়ে গেছে। মেডিক্যালের ডাক্তাররা বলছে তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দিতে। তবে বার্নিশ মিস্ত্রি অসুস্থ বাবা মোসলেম মিয়ার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

খাদিজার পরিবারে সন্দেহ স্থানীয় আপন ও জাহিদ নামে দুই তরুণ তার মেয়ের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে।

জানা গেছে, আপন ও জাহিদ পৃথকভাবে খাদিজাকে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এমনকি প্রায় সময় বিভিন্ন খারাপ প্রস্তাবও দেয় তারা। ওই দুই তরুণ সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তারা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া গ্রামে থেকে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করেন।

মেয়ের শরীরে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় বাবা মোসলেম মিয়া কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি মা’ম’লা করেছেন। ওই মা’ম’লা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ হারুন নামে এক ব্যক্তিকে আ’ট’ক করেছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, নি’র্যা’তনের শি’কা’র খাদিজার পরিবারের স’ন্দে’হের তালিকায় আপন ও জাহিদ নামে দুই তরুণ রয়েছে।

তবে আমরা মামলার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে হারুন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছি। সন্দেহের তালিকায় থাকা ওই দুই তরুণকে গ্রে’প্তা’র করতে পুলিশের অ’ভি’যান অব্যাহত রয়েছে।

খাদিজার বাবা মোসলেম মিয়ার জানান, বর্তমানে এখানকার চিকিৎসকরা বলছেন মেয়েকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কিন্তু আমার আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. রাসেল খান জানান, এসিডে ঝলসে গেছে মেয়েটির শরীরের প্রায় ৪৫-৫০ ভাগ। ৪০ ভাগ অতিক্রম করলেই আমরা কোনো পু’ড়ে যাওয়া রোগীকে কুমিল্লার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাখি না।

কারণ আমাদের আইসিইউ’র চিকিৎসা সেবা নেই। শরীরের অতিরিক্ত স্থান এবং শ্বাসনালী পু’ড়ে যাওয়া রোগীদের জন্য আইসিইউ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন