পরিত্যক্ত ঘোষণার ৩০ বছর পরও ভবনে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কাজ

প্রকাশিত: সেপ্টে ২৬, ২০২০ / ০৮:৪১অপরাহ্ণ
পরিত্যক্ত ঘোষণার ৩০ বছর পরও ভবনে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কাজ

দুটি ভবন ঝুঁ’কিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে ৩০ বছর আগে। তবে সেই পরিত্যক্ত ভবনেই পুলিশের ফাঁড়ি। দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যেই সেখানে পুলিশ সদস্যরা বাস করছেন।

একই সঙ্গে রোদ-বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এ চিত্র লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের হাজিমারা এবং উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিণ চরআবাবিল-ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ বাজারের পাশে পুলিশ ফাঁড়ির।

ফাঁড়ি-পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে-পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভিতরে দুটি ভবনে পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েক বছর থাকার পর তা পরিত্যক্ত ঘোষণা হলে দুটি ভবনেই কার্যক্রম শুরু হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ১৯৮০ সালে পাউবোর ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরে ওই আবাসিক ভবন থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম সরিয়ে নেয়া হয়। আরেকটি হলো চরআবাবিল ইউপির বাণিজ্যিক শহর হায়দরগঞ্জে। তবে সেই পরিত্যক্ত দুই জায়গায় তিনটি ভবনে এখনো চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির বাইরে ও ভেতরের দেয়ালের অনেক স্থানে বড় ফাটল। দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে লোহার রড বেরিয়ে গেছে। কক্ষের ভেতর বাঁশের খুঁটি দিয়ে ছাদ ঠেকা দিয়ে রাখা হয়েছে। ভবনগুলোর কোনো সীমানাপ্রাচীরও নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই পুলিশ সদস্য বলেন, বৃষ্টি এলে অফিসের কাগজপত্র ও আমাদের বিছানাপত্র পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। ঝড় হলে তো বিপদ বেশি। ভবন ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই বাইরে বাঁ পাশের দোকান ঘরে আশ্রয় নেন। ঘরের ভেতর থাকলে সব সময় একটা আতঙ্ক কাজ করে।

হাজিমারা ফাঁড়ির পরিদর্শক আবু ইউসুফ ও হায়দরগঞ্জ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. জসিম বলেন, ভবনগুলোর এমন বেহাল দশা, সবাই এর ভেতরে ঢুকতেই ভয় পান। পুলিশ সদস্যরা এখানে থাকতে চান না, বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। ৫ বছর আগে এখানে ৭ জন ছিলেন। বর্তমানে হাজিমারা ব্যারাকে কর্মকর্তাসহ ১৪ জন রয়েছেন। হায়দরগঞ্জে ব্যারাকে কর্মকর্তাসহ ১২ জন রয়েছেন।

উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান মো. হোসেন মাস্টার, দক্ষিণ চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজী ও দক্ষিণ চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যে ভবনগুলোতে থাকেন, সেটির অবস্থা খুবই খারাপ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চার ইউনিয়নবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরিষদ থেকে ফাঁড়ির জন্য অনুদান দেয়া হয়েছিল। আরও দেয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর-রামগঞ্জ সার্কেল) ইস্পিনা রানী প্রামাণিক বলেন, মেঘনা নদীর তীরবর্তী পাউবোর পরিত্যক্ত রেস্টহাউজে পুলিশ ফাঁড়িটি। বৃহস্পতিবার পরিদর্শনে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সদস্যদের কষ্ট দেখে নিজেই কষ্ট পেয়েছি। ঝুঁকির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাব।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন