১৫শ’ বিঘা জমিতে টানা চার বছর জলাবদ্ধতা

প্রকাশিত: সেপ্টে ২২, ২০২০ / ০৭:০৪অপরাহ্ণ
১৫শ’ বিঘা জমিতে টানা চার বছর জলাবদ্ধতা

নাটোরের বড়াইগ্রামে টানা চার বছর ধরে দুটি বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপলশহর ও লক্ষীপুর বিলের তিন ফসলি প্রায় ১৫শ’ বিঘা জমি সারা বছর পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এ কারণে এসব জমিতে বর্তমানে কোনো ফসল ফলানো যাচ্ছে না।

এছাড়া একটু ভারিবর্ষণ হলেই বিলপাড়ের প্রায় অর্ধশত বাড়ির উঠানসহ ঘরের ভেতরেও পানি উঠে। এসব কারণে বর্তমানে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় মানববন্ধন ও বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদন করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় চার বছর আগে উপলশহর বাবুপাড়ায় দুটি পুকুর কাটা হয়েছে। এ সময় পুকুরের পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কোনো নালা রাখা হয়নি। অপরদিকে বিলের অন্যপাশ দিয়ে পানি বের হওয়ার সরকারি খালও ভরাট হয়ে গেছে। এতে এ দুটি বিলের পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে গত চার বছর ধরে বৃষ্টির পানি জমে উপজেলার উপলশহর ও লক্ষীপুর বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে গত চার বছর ধরে বিলের তিন ফসলি প্রায় ১৫শ’ বিঘা জমিতে কোনো ফসল ফলন ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অর্থাভাবে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বিলপারের মানুষ।

এছাড়া ভারিব’র্ষ’ণ হলেই বিলপারের অনেক বাড়ির উঠান ও ঘরের মেঝেতে এক হাঁটু পানি জমে। তখন এসব মানুষেরা অবর্ণনীয় ভোগান্তির ‘শিকা’র হন।

রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, পুরো বিলে থৈ থৈ করছে পানি। দীর্ঘদিন যাবত কোনো চাষাবাদ না হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে কচুরিপানা আর জলজ আগাছা জন্মে সে পানিও ঢেকে গেছে।

উপলশহর গ্রামের কৃষক মাখন মিয়া জানান, বিলে আমার পাঁচ বিঘা জমি রয়েছে। এ জমির ধানেই আমার সারা বছরের খাবার চাহিদা মিটত। কিন্তু চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে এ জমি থেকে এক ছটাক ধানও পাই না।

অপর কৃষক আব্দুল বাতেন জানান, বিলে আমার দুই বিঘা জমি আছে। এ জমির তিন মৌসুমের আবাদে আমার সংসারে কোনো অভাব ছিল না।

কিন্তু এখন ছেলেমেয়ের মুখে ভাত তুলে দিতে রাস্তায় রাস্তায় রিকশা-ভ্যান চালাই। আমরা সমস্যাটির দ্রুত সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

রাস্তার ধারে বাচ্চা নিয়ে বসে থাকা আলেয়া খাতুন ও রহিমা বেগম জানান, বাড়ির উঠানে পানি, ঘরের ভেতরে পানি-দাঁড়ানোর জায়গা নেই। কতক্ষণ বদ্ধ ঘরে থাকা যায়। তাই রান্না-খাওয়ার সময়টুকু বাদে সারা সময় রাস্তায় গাছের ছায়ায় বসে থাকি। রাতে কোনো রকমে ঘরে ঢুকে ঘুমাই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে সমস্যাটি সমাধানের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষপে নেয়া হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন