অসুস্থ তরুণীকে হাসপাতালেই ধ’র্ষ’ণ, তদন্ত কমিটি গঠন!

প্রকাশিত: সেপ্টে ২১, ২০২০ / ০১:১৩পূর্বাহ্ণ
অসুস্থ তরুণীকে হাসপাতালেই ধ’র্ষ’ণ, তদন্ত কমিটি গঠন!

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক কিশোরী হাসপাতালের অভ্যন্তরেই ধ’র্ষ’ণের শি’কা’র হওয়ার অ’ভি’যোগ উঠেছে।

এ ঘটনার ৯ দিন পর শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অ’ভি’যোগ উঠেছে, হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয় ওই ধ’র্ষ’ণের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনাটি ধা’মা’চাপা দেয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের চাপে প্রায় ৯ দিন পর ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জানা গেছে, পুরো হাসপাতালটি সিসি ক্যামেরাবেষ্টিত। ভু’ক্ত’ভোগীর পরিবারের দাবি, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় ওই দিনের ফুটেজ দেখলে ধ’র্ষ’ক শনাক্ত করা যাবে।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রশীদ জানান, এ ঘটনায় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম সাদিককে প্রধান ও ডা. মুনিরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে এ ঘটনা যার দ্বারা ঘটুক তার বি’রু’দ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, ১১ সেপ্টেম্বর ওই তরুণী ধ’র্ষ’ণের শি’কা’র হয়। তখন হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন ডা. স্বপন কুমার সুর, নার্স দুলালী, সুমি আক্তার ও ওয়ার্ড বয় মাজেদুর রহমান।

ধ’র্ষি’তার মা জানান, ৩ সেপ্টেম্বর তার মেয়েকে জ্ব’র ও শরীর ব্যথা নিয়ে সাটুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করি। সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে ১২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র (ছুটি) দেবে বলে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে নার্সরা জানান। ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের এক যুবক তাকে ধরে নিয়ে তার ইচ্ছার বি’রু’দ্ধে জো’র’পূ’র্ব’ক ধ’র্ষ’ণ করে।

মেয়েটি এক পর্যায়ে অ’জ্ঞা’ন ও র’ক্তা’ক্ত হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে ধ’র্ষ’ক পা’লি’য়ে যায়। এদিকে তরুণীর অতিরিক্ত র’ক্ত’ক্ষ’রণ হলে ওই রাতেই তাকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্মরত চিকিৎসক।

এদিকে ধ’র্ষি’তার মা মেয়েকে বেডে না পেয়ে সামনে এগিয়ে দেখেন বারান্দায় পড়ে আছে মেয়ে। কাছে গিয়ে দেখেন তার অতিরিক্ত র’ক্ত’ক্ষ’রণ হচ্ছে।

এ সময় ধ’র্ষি’তার মা ডাক্তার-নার্স ডাকলে নার্সরা ওই তরুণীর অবস্থা বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি করে ডাক্তার ডেকে আনেন। পরে চিকিৎসক ধর্ষিতাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

ধর্ষিতার বাবা বলেন, আমি একজন হতদরিদ্র ও ভ্যানচালক। ধ’র্ষ’ককে আমি ও আমার স্ত্রী চিনতে পারিনি। হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ওই ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে ধ’র্ষ’ককে চেনা যাবে। আমি গরিব বলে মেয়ের বিয়ের কথা চিন্তা করে কাউকে জানাইনি এবং অ’ভি’যো’গও করিনি।

তিনি অ’ভি’যো’গ করে বলেন, ওই সময় ডাক্তার বা নার্সদের ডেকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এরফান আনসারী জানালেন, ১২ সেপ্টেম্বর এক কিশোরীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তার গোপনাঙ্গে অতিরিক্ত র’ক্ত’ক্ষ’রণসহ ছিঁড়ে যাওয়ায় ক্ষতস্থানটি রিপিয়ার করে দেয়া হয়েছে।

সাটুরিয়ার ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা তরুণী ধ’র্ষ’ণে’র ঘটনা ন্য’ক্কা’রজনক ও নি’ন্দ’নীয়। হাসপাতালের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা। কেউ দো’ষী হলে তাকে আইনের হাতে সো’প’র্দ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন