তিন শিক্ষক পেলেন ‘হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিচালনা’, ২ দায়িত্ব পেলেন বাবুনগরী

প্রকাশিত: সেপ্টে ২০, ২০২০ / ১২:০৪পূর্বাহ্ণ
তিন শিক্ষক পেলেন ‘হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিচালনা’, ২ দায়িত্ব পেলেন বাবুনগরী

বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা আহমদ শাহ শফীকে আজ শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে তাঁর প্রিয় প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দা’ফ’ন করা হয়।

তিনি ছিলেন ওই মাদ্রাসার সদ্য সাবেক মহাপরিচালক। তাঁর দা’ফ’নের কয়েক ঘণ্টা মধ্যেই মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে।

মাদ্রাসার সাবেক সহকারী পরিচালক মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মাদ্রাসাটির প্রধান শায়খুল হাদীস ও নাজিমে তালিমাতের (শিক্ষা পরিচালক) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার রাতে মাদ্রাসাটির শূরা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়।

মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া তিন পরিচালক হলেন শিক্ষক মুফতি আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ আহমদ ও মাওলানা ইয়াহিয়া। গত ১৭ জুন জুনায়েদ বাবুনগরীকে সরিয়ে শেখ আহমদকে সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

আর সহকারী শিক্ষা পরিচালকের পদে ছিলেন আহমদ শফীর ছোট ছেলে আনাস মাদানি। ছাত্রদের বি’ক্ষো’ভের মুখে গত বৃহস্পতিবার আনাস মাদানিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে শূরা কমিটির সদস্য মাওলানা সালাউদ্দীন নানুপুরী রাতে সাংবাদিকদের বলেন, আগামী শূরা কমিটি পর্যন্ত মাদ্রাসার তিনজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাদ্রাসা পরিচালনা করবেন।

এ ছাড়া শিক্ষা পরিচালক করা হয়েছে জুনায়েদ বাবুনগরীকে। সহকারী শিক্ষা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা শুয়াইব। প্রধান শায়খুল হাদীস করা হয়েছে জুনায়েদ বাবুনগরীকে।

শুরা কমিটির সভায় মাদ্রাসার মহাপরিচালক নির্ধারণ করা হয়নি। ছয় মাস পর পরবর্তী শূরা কমিটির সভায় মহাপরিচালক নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে আজ দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রিয় প্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এর সদ্যসাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা আহমদ শফীর ‘জা’না’জা অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রামসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ এই জানাজায় অংশ নিয়ে তাঁদের বড় হুজুরের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। পরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই তাঁকে দা’ফ’ন করা হয়।

দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল ৪টায় মাদ্রাসায় বৈঠকে বসেন শূরা কমিটির সদস্যরা। বৈঠক শেষ হয় রাত ৮টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা নোমান ফয়েজী।

শূরা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুফতি নূর আহমদ, শেখ আহমদ, মাওলানা শুয়াইব, ওমর ফারুক, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মাওলানা আশফাক আলী, মাওলানা আহমেদ দিদার প্রমুখ।

শূরা কমিটির সভার আগে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুতে উনার পরিবারের সঙ্গে আজকে আমরাও শোকাহত।

শুধু আমরা নয়, হাটহাজারী এলাকার জনগণ থেকে সারা দেশের মানুষ আজকে শো’কা’হত। আমি আপনাদের কাছে, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে আরজ করছি, সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ-তায়ালা যেন উনাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।’

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘আল্লামা শফীর জায়গা পূরণ হওয়ার নয়। এটা অনেক কঠিন।’

হেফাজতে ইসলামের আমির কে হবেন এমন প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘এটা তো আমি বলতে পারব না, এটা আল্লাহ তায়ালা জানেন। তবে আমরা চেষ্টা করব উনার আদর্শ বাস্তবায়ন করার।

সেটা হাটহাজারী মাদ্রাসা ও হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারেও। উনি হেফাজতের আমির ছিলেন। এখন কাউন্সিল হবে, কাউন্সিলে নির্ধারণ করা হবে কে হেফাজতে ইসলামের আমির হবেন। এককভাবে কেউ ঠিক করতে পারবে না।’

‘আর মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব তিনি জীবিত থাকাকালীন লিখে গেছেন, মাদ্রাসার শূরা কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনা করবে। মাদ্রাসার শূরা কমিটি নির্ধারণ করবে মাদ্রাসার মহাপরিচালক কে হবেন।’ বলছিলেন বাবুনগরী।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন