আরব আমিরাত প্রবাসী বাবার সা’থে পি’য়ার আর দে’খা হল না

প্রকাশিত: সেপ্টে ১৭, ২০২০ / ১২:৫৮পূর্বাহ্ণ
আরব আমিরাত প্রবাসী বাবার সা’থে পি’য়ার আর দে’খা হল না

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী বাবার সঙ্গে পিয়ার আর দেখা হলো না মেয়ে দেবস্মিতা পাল পিয়া। তার পিতা দেশটির আবুধাবিতে বাস করে। জন্মের পর থেকে পিতার সাথে কখনোই দেখা হয়নি পিয়ার। পিয়ার বয়স এখন ২ বছর ৪ মাস।

\বাবা দেবাশীষ কুমার পালের সাথে মোবাইলে ভিডিও কলে পিয়ার দিনে কথা হতো দুই-একবার। তাও ছিল প্রায় অ;স্পষ্ট কণ্ঠে। পিতাকে বাস্তবে কোনো দিন দেখেনি, উঠতে পারেনি কোলেও। দুঃ;খের বিষয় হলো আর কখনো দেখাও হবে না তাদের।

কারণ পিয়ার পিতা নি;ষ্প্রা;ণ দে;হ হয়ে ফিরছে বাড়িতে। পিয়ার পিতা দেবাশীষ কুমার পাল (৩১) প্রায় ১১ বছর ধরে থাকতেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে থাকেন।

গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে এক সড়ক দু;র্ঘ;ট;না;য় মা;রা যান তিনি। মৃ;ত দেবাশীষ কুমার পালের বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা বাজার এলাকার পাল পাড়ায়। ওই এলাকার দিনেশ কুমার পালের একমাত্র ছেলে ছিলেন তিনি।

দেবাশীষের জ্যাঠা অশ্বিনী কুমার রায় জানান, আমিরাতের আ;ইনি জ;টিলতা শেষে দেবাশীষের লা;শ দেশে আসতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। পরিবারের লোকজন জানায়, লালমনিরহাট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে লেখাপড়া শেষ করে পরিবারের সচ্ছলতা আনতে দুবাই যান দেবাশীষ।

সেখানে তিনি একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে ‘ফোরম্যানের’ চাকরি করতেন। তার পাঠানো টাকায় সংসারের অভাব অনেকটা দূর হয়েছে, হয়েছে পাকা বাড়ি। একমাত্র বোনকেও বিয়ে দিয়েছেন। তিনি দুবাই থেকে কয়েকবার দেশে এসেছিলেন।

বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করেছেন। সর্বশেষ প্রায় তিন বছর আগে বাড়িতে এসেছিলেন। দেবাশীষের মৃ;ত্যুর মধ্য দিয়ে পরিবারটি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হা;রিয়েছে।

দেবাশীষের জ্যাঠা ও কৃষি কর্মকর্তা অশ্বিনী কুমার পাল প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, সোমবার সকালে বাসা থেকে অফিসের গাড়িতে কর্মস্থলে যান দেবাশীষ।

গাড়ি থেকে নেমে পেছনে আসামাত্র অপর একটি দ্রু;তগতির গাড়ি চাপা দিলে তিনি ঘ;টনাস্থলেই মা;রা যান। জানা গেছে, মৃ;ত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই শুরু হয় কান্না। সেই শো;ক ছ;ড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ওই দিন থেকেই দেবাশীষের মা পারুল রাণী ও স্ত্রী লিমা পাল রত্না (২৩) যেন শো;কে পা;থর হয়ে গেছেন।

খাওয়া-দাওয়া প্রায় ব;ন্ধ করে দিয়েছেন। দেবাশীষের মা পারুল রাণী কাঁ;দতে কাঁ;দতে বলেন, আমরা যাতে ভালোভাবে চলতে পারি সে জন্য স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে আমার ছেলেটি অনেক ক;ষ্ট করে টাকা রোজগার করত। কিন্তু সে এভাবে চ;লে গেল। এখন কবে তার লা;শটি পাব তাও জানি না।

আমিরাত প্রবাসী মৃ;ত দেবাশীষ কুমার পালের স্ত্রী লিমা পাল বলেন, এমন দু;র্ভাগা মেয়ে আমার সে তার পিতাকে কোনো

দিন দেখেনি, বুকে যেতে পারেনি। তার আগেই পৃথিবী ছে;ড়ে চলে গে;ল বাবা। ১মবারের মতো বাবাকে দেখবে কিন্তু বাবা আর কোনোদিন কথা বলতে পারবে না।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন