পেঁয়াজের বাজার এক রাতেই লাগামহীন

প্রকাশিত: সেপ্টে ১৬, ২০২০ / ০৩:০১পূর্বাহ্ণ
পেঁয়াজের বাজার এক রাতেই লাগামহীন

ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর পরই পেঁয়াজের ঝাঁজ আরো বেড়ে বাজারে অস্থির অবস্থা তৈরি হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই লাগামহীন এখন পেঁয়াজের দাম।

গত বছরের একই সময়ে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে অনেকেই এখন বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনে মজুদও করে রাখছে। আর ব্যবসায়ীরা তার সবটুকু সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছে, ভারত অভ্যন্তরীণ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর কয়েকজন পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানায়, পেঁয়াজের দাম যেমন বেড়েছে তেমনি বিক্রিও বেড়েছে প্রচুর। গত বছর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে বাজারের যেভাবে আগুন লেগেছিল, এবারও ঠিক তেমন হতে যাচ্ছে। এ আগুন নেভাতেও বেশ সময় লাগতে পারে বলে মনে করছে তারা।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারের চেয়ে পাইকারি বাজারে ক্রেতার ভিড় বেশি। জমজমাট বাজারের ভেতরে হঠাৎ নজর গেল ফিরোজ শাহ খোকন নামের এক ক্রেতার দিকে। এক মিনতির (মুটে বা কাজের লোক) মাথায় তিনি ২০ কেজি দেশি পেঁয়াজ উঠিয়ে দিচ্ছেন। কিনেছেন ১০০ টাকা কেজি দরে।

ফিরোজ শাহ খোকন পেঁয়াজ কিনেছেন পাইকারি বিক্রেতা রুবেলের কাছ থেকে। রুবেল এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘অন্যদিনের চেয়ে আজ অনেক বিক্রি বেড়েছে। এখন মানুষ বাসায় নিয়ে পেঁয়াজ রাখছে।’

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারের চেয়ে পাইকারি বাজারে ক্রেতার ভিড় বেশি। ছবি : মোহাম্মদ ইব্রাহিম এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্রেতা ফিরোজ শাহ বললেন, ‘২০ কেজি পেঁয়াজ আড়াই মাস চলবে।

গত বছর ঠিক এই সময়ে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে হু হু করে দাম বেড়ে গিয়েছিল। বহুদিন বেশি দাম দিয়ে পেঁয়াজ কিনে খেতে হয়েছিল।

সেই ভয়ে এবার একসঙ্গে ২০ কেজি কিনলাম। কাল খুচরা পেঁয়াজ কিনেছিলাম ৬০ টাকা কেজি দরে। অথচ আজ ১০০ টাকা কেজি দরে পাইকারি কিনলাম। ভাবেন, কেন এতগুলো পেঁয়াজ কিনেছি।’

পাশে নজর যেতেই দেখা গেল, আবদুর রহমান (৬০) নামের এক পাইকারি বিক্রেতার সামনে কয়েকজন সাধারণ ক্রেতা (বাসাবাড়ির জন্য) এসে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি খুব দ্রুত পেঁয়াজ বের করছেন বস্তা থেকে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একটু কথা বলতে চাইলেই বৃদ্ধ বলে বসলেন, ‘আজ মাফ করা যায় না চাচা? একা একা বিক্রি করে পারছি না। আজ খুব চাপ। এত চাপ বহুদিন দেখিনি। ১০ বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করে ফেলেছি এরইমধ্যে।’

আবদুর রহমানের দোকানে মামুন নামের এক ক্রেতা পাঁচ কেজি দেশি পেঁয়াজ কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘দাম বেড়ে যাওয়ার ভয়ে বউ জোর করে পেঁয়াজ কিনতে বাজারে পাঠিয়ে দিয়েছে।’

মাহবুব বাবু নামের এক ব্যবসায়ী ভারতীয় পেঁয়াজের বিক্রেতা। আজ সন্ধ্যা ৬টায় কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, ‘আজ এখন পর্যন্ত ৪০ কেজির বস্তা ২৫টা বিক্রি করেছি।

রাতের ভেতরে আরো ১০ বস্তা বিক্রি হবে বলে আশা করছি। অথচ অন্যদিন ১০ বস্তাও বিক্রি হয় না। আজ প্রতি কেজি বিক্রি করেছি ৬৪ টাকা দরে। কিনেছি ৬০ টাকা ৩০ পয়সা করে।’

পাইকারি ও খুচরা দুই বাজারেই ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে দেশি পেঁয়াজ। খুচরা বিক্রেতা সামাদ হোসেন বলেন, ‘কাল বিক্রি করেছি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

আজ ১০০ টাকা। কাল আরো দাম বাড়তে পারে। আগুন লেগে গেছে পেঁয়াজে। এই আগুন আরো বেশি জ্বলতে পারে। আগুন নিভতে অনেক দেরি হবে মনে হচ্ছে।’

রাজধানীর শুক্রাবাদ কাঁচাবাজারের খুচরা বিক্রেতা আল মাহমুদ এসেছেন পেঁয়াজ কিনতে। তিনি দুই মণ পেঁয়াজ কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম বাড়বে নিশ্চিত। সেজন্য কিনতে এসেছি। আজ একটু বেশি নিলাম।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন