নিজের দেশে ফিরতে চাওয়া প্রবাসীদের জন্য নতুন আইন জারি

প্রকাশিত: জুলা ২৯, ২০২০ / ১২:২৭অপরাহ্ণ
নিজের দেশে ফিরতে চাওয়া প্রবাসীদের জন্য নতুন আইন জারি

মরণ ব্যাধি করোনা কারনে হাজার হাজার বাংলাদেশী নিজ দেশে ফিরেছে। অনেকেই শরীরে করন নিয়ে দেশে আসেছেন। তবে করোনার সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সম্ভাবনার মুখোমুখি হয়েছে বিশ্ব। তবে দেশে ফেরার জন্য সোমবার নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে।

একই সময়ে হঠাৎ করে স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের ব্রিটেন কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশনা দেয়ায় গ্রীষ্মে ইউরোপের সব কিছু পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়টি বিশৃঙ্খলায় পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত প্রথম ধাপের সংক্রমণ নিয়ে লড়ছে। কেননা জুনের পর থেকে দেশটিতে আক্রান্তের হার বাড়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রেইন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ সময়ে ট্রাম্পের সাথে তার নিরাপত্তা উপদেষ্টার সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং তিনি ঝুঁকিমুক্ত।

জুনের পর থেকে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র এখনও প্রথম ধাপের সংক্রমণ মোকাবিলা করছে। দেশটির সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস বলছে, গত কয়েক দিনের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে নিরাপত্তা উপদেষ্টার সরাসরি কোনও যোগাযোগ হয়নি এবং তিনি ঝুঁকিতে নেই।

কয়েকটি দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের খবর পাওয়া গেছে, যেসব দেশে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড করেছে। ভিয়েতনাম মধ্যাঞ্চলীয় শহর দানাং থেকে হাজার হাজার পর্যটককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো ভাইরাসটির উৎপত্তি হওয়ার স্থান চীনের মূল ভূখণ্ডে মার্চের পর থেকে স্থানীয়ভাবে অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুজনের বেশি মানুষের জড়ো হওয়া নিষিদ্ধ, রেস্টুরেন্টে রান্না বন্ধ এবং জনসম্মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে হংকং।

মহামারির আরেক প্রাথমিক কেন্দ্র স্পেনে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দেয়ায় শনিবার ব্রিটেন স্প্যানিশ সব ভ্রমণকারীর জন্য দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা দিয়েছে। এতে ইউরোপের পর্যটন খাত খুলে দিতে কয়েক মাস ধরে নেয়া প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থাকছে।

সোমবার ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পেনের মূল ভূখণ্ডসহ বেলেরিক ও কেনারি দ্বীপপুঞ্জে পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদ্রিদকে নতুন ধাক্কা দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদি কোনও সমাধান নয়। ভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব এবং মাস্ক পরিধানের মতো প্রমাণিত কৌশলগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

ডব্লিউএইচও’র জরুরি কর্মসূচির পরিচালক মাইক রায়ান বলেন, ভবিষ্যতের অনির্দিষ্ট সময় ধরে যেকোনো দেশের জন্য তাদের সীমান্ত বন্ধ রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অর্থনীতি চালু, মানুষের কাজে ফেরা, ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে হবে।

ইউরোপ ও এশিয়ায় পুনরায় সংক্রমণ বাড়ছে- এমন কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারা বলেন, দেশজুড়ে শাটডাউনের পরিবর্তে স্থানীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সংক্রমণ ঠেকানো যেতে পারে। সোমবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেজ বলেন, ব্রিটেনের কোয়ারেন্টাইনের সিদ্ধান্তটি ভুল।

তিনি বলেন, সংক্রমণ ফিরে আসার বিষয়ে দুটি অঞ্চলকে ফোকাস করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের তুলনায় স্পেনে সংক্রমণের হার অনেক কম। সোমবার স্পেনের হোটেলগুলো বিদেশি পর্যটকদের করোনা পরীক্ষার অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে। গত বছর স্পেনে ভ্রমণকারী পর্যটকদের এক পঞ্চমাংশই ছিল ব্রিটিশ; এই দেশটি পর্যটনের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।

সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ের পর টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া বিমান পরিবহন সংস্থা ও ভ্রমণ ব্যবসায়ীরা এখন উদ্বিগ্ন যে, পুনরায় খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়টি মারাত্মক হতে পারে। সোমবার ইউরোপের বৃহৎ বিমান কোম্পানি ‘রায়ানএয়ার’ তাদের বার্ষিক যাত্রী পরিবহন লক্ষ্যমাত্রা এক চতুর্থাংশে নামিয়ে এনেছে এবং দ্বিতীয় ঢেউ এলে সেটি আরও কমে যাবে বলে সতর্ক করেছে।

ইউরোপ এখনও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের ভ্রমণকারীদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে পুনরায় খুলে দেয়ায় দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে ৪২ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন প্রায় দেড় লাখ। চীনের মধ্যাঞ্চলের উহান শহরে সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে স্থানীয় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে বর্তমানে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে নতুন করে সংক্রমণ শুরু হয়েছে।

অষ্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভিক্টোরিয়া প্রদেশের কিছু জায়গায় ছয় সপ্তাহের লকডাউন জারি করা হয়েছে। দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় লকডাউন বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জাপান সরকার বলছে, তারা ব্যবসায়ী নেতাদের ভাইরাসবিরোধী পদক্ষেপ জোরালো করার আহবান জানাবেন।

তিনজন স্থানীয় নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ভিয়েতনামের পর্যটন এলাকা দানাং থেকে ৮০ হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। এপ্রিল থেকে গত শনিবার পর্যন্ত ভিয়েতনামে কোনও কমিউনিটি সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন