গুগলের নজরদারিতে ‘নীলছবি’র আসক্তরা

বিশ্বের নীল ছবির বাজারে ভারতের স্থান তৃতীয়। ভারত ছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশেই নীল ভিডিও দেখার প্রবণতা রয়েছে। তবে এই প্রবণতার হারে আসক্ত কেউ কম-কম, কেউ বেশি-বেশি। আবার কেউ অনেক বেশি। তবে এক বিষয়ে প্রত্যেকের মিল রয়েছে আর তা হলো লুকিয়ে নীলছবি দেখা; কিন্তু সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই অভ্যাসেও বাধা আসতে পারে। লুকিয়ে দেখলেও, গুগলের কাছে গোপন থাকে না আপনার নীলছবি দেখার অভ্যাস!

মাইক্রোসফ্ট, পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটি এবং কার্নেজি মেলন ইউনিভার্সিটির যৌথ সমীক্ষার রিপোর্টে কপালে ভাঁজ পড়বে অনেকেরই। কারণ, কমপক্ষে ২২,৪৮৪টি নীলছবির ওয়েবসাইটের ওপর পরীক্ষার পর রিপোর্টে দাবি, ৯৩% ওয়েবসাইটই ব্যবহারকারীর নেট-গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে। ‘ওয়েবএক্সরে নামক সফ্টওয়ারের সাহায্যে এই ট্র্যাকিং করা হয়।

চাঞ্চল্য এখানেই নয়, রিপোর্টে আরো জানা গেছে—নীলছবির ওয়েবসাইট ছাড়াও ফেসবুক, গুগলের মতো ‘নামি’ সাইটও ইউজারের নেট-গতিবিধি ট্র্যাক করে। গুগল যেখানে ৭৪% গতিবিধি ট্র্যাক করে থাকে ফেসবুক সেখানে ১০% ক্ষেত্রে তা করে থাকে।

নীলপ্রেমীদের জন্য খারাপ খবর আরো রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ঐ রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রাউজারের ইনকগনিটো মুড (Incognito)-ও এই ট্র্যাকিংয়ের থেকে সুরক্ষিত নয়। অর্থাত্, ইনকগনিটো মুডে নীল দেখে আপনি যদি ভাবেন,‘কেউ জানছে না।’ আসলে তা নয়। সেই গতিবিধিও ট্র্যাক করতে পারে গুগল বা ফেসবুক। প্রশ্ন আসবেই, এর থেকে ঐ ওয়েবসাইটের লাভ কী? আপনার সার্চিং প্রেফারেন্স বা ইন্টারনেট ঘাঁটার প্রবণতার ভিত্তিতেই বিজ্ঞাপন দেয় ফেসবুক, গুগলের মতো সাইট।

উল্লেখ্য, শুধু ২০১৭ সালে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম নীল সাইট Pornhub-এ ২৮৫ কোটি দর্শক নীল দেখেছিল। অর্থাত্ প্রতি সেকেন্ডে ৫০ হাজার নীলছবিদেখা হয়েছিল। এর থেকেই স্পষ্ট বিশ্বে নীল আসক্তি কোন পর্যায় পৌঁছেছে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত