গরমে প্রশান্তি পেতে যা করবেন

প্রকাশিত: জুলা ২১, ২০২০ / ১০:২৩অপরাহ্ণ
গরমে প্রশান্তি পেতে যা করবেন

ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল জনজীবন। সূর্যের তীব্রতা যেন বেড়েই চলছে। আকাশে মেঘের আনাগোনা বৃষ্টির আগাম বার্তা মনে হলেও দেখা নেই বৃষ্টির।

অন্যদিকে কাজের খাতিরে করো’না’কা’লীন এ সময়ে নিতে হচ্ছে বাড়তি সুরক্ষার ব্যবস্থা। আর তাতে পাল্লা দিয়ে যেন গরম বেড়ে হয়ে গিয়েছে কয়েকগুণ বেশি। তাই নিজেকে গরম থেকে বাঁচাতে পাশাপাশি করো’না’কা’লীন এ সময়ে কীভাবে সুস্থ থাকা যায় তা জানা জরুরি।

গরমের এ সময়ে দৈনন্দিন রুটিনের দিকে যেমন নজর দেয়া প্রয়োজন তেমনি খাবারের তালিকায় খাবার নির্বাচন, পোশাকের ক্ষেত্রে কাপড় নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন।

গরমে যেহেতু ঘামের পরিমাণ বেশি থাকে তাই এ সময়ে জর্জেট কিংবা সিল্কজাতীয় কাপড় পোশাকের ক্ষেত্রে বেছে না নিয়ে সুতি কাপড় কিংবা কটনের কাপড় হতে পারে আপনার গরমের সঙ্গী। এক্ষেত্রে কালো কিংবা বেগুনি, নীল এ ধরনের রং বেছে না নিয়ে সাদা, ধূসর, সবুজ এ জাতীয় রং নির্বাচন করা উচিত।

অন্যদিকে যাদের কাজের খাতিরে বাইরে যেতে হয় তাদের ক্ষেত্রে পোশাকের বেলায় কিছুটা ঢিলেঢালা পোশাক বেছে নেয়া ভালো। মেয়েদের ক্ষেত্রে তাই সালোয়ার কামিজ, টপস, শার্ট হতে পারে এ গরমে স্বস্তির পোশাক।

অন্যদিকে ছেলেদের ক্ষেত্রে টি-শার্ট, শার্ট বেছে নিতে পারেন। বাসায় থাকার সময় হাফ হাতার সালোয়ার কামিজ, টি-শার্ট হতে পারে এ গরমে স্বস্তিদায়ক পোশাক।

এছাড়া খাবারের তালিকায়ও এ সময়ে লেবু, কমলা, মালটা ভিটামিন সি জাতীয় ফল রাখা উচিত। তৈলাক্ত কিংবা ভাজাপোড়া খাবার না খাওয়াই ভালো এতে গ্যাস্টিকের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ সময়ে ডাবের পানি, শসা, লেবু পানি পান করতে পারেন এতে করে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি আপনি গরমে পাবেন স্বস্তি।

অন্যদিকে গরমের এ সময়ে ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস আছে কিনা সে দিকে খেয়াল করুন। ঘরে ব্যবহার করা পর্দাগুলো বদলে হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। বিছানার চাদরের ক্ষেত্রেও বেছে নিতে পারেন সাদা, ধূসর এ জাতীয় যে কোনো রং।

অন্যদিকে ঘরে যাতে বাড়তি ধুলাময়লা না জমে সেই দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া রান্নাঘরে একটা লম্বা সময় পার করতে হয়। তাই রান্নাঘর পরিষ্কার আছে কিনা, এডজাস্টার ফ্যানে কোনো ধরনের ময়লা জমে আছে কিনা? জানালা পরিষ্কার আছে কিনা এ বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।

এতে করে গরমের এ সময়ে আপনি যেমন স্বস্তিতে কাজ করতে পারবেন তেমনি করো’না’কা’লীন এ সময়ে সুস্থতার ক্ষেত্রেও রাখতে পারবেন বাড়তি নজরদারি। এছাড়া বাড়িতে এ সময়ে কাজে সাহায্য করা মানুষ না থাকায় বাড়তি কাজগুলোও করতে হচ্ছে একা হাতে। তাই গরমে স্বস্তিতে কাজ করা বেশি প্রয়োজন।

অন্যদিকে অনেকেরই চা কফি পান করার অভ্যাস আছে। গরমের এ সময় যতটা সম্ভব কম চা বা কফি পান করা উচিত। এক্ষেত্রে ঘরে তৈরি আমের জুস, লাচ্ছি, লেবুর শরবত খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। ঠাণ্ডা পানি এ সময় পান না করাই ভালো। তবে দৈনিক আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করছেন কিনা সে দিকে খেয়াল রাখুন।

গরমে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেড হয়ে পড়ে তাই পর্যাপ্ত পানি শরীরকে যেমন সুস্থ রাখতে সহায়তা করে তেমনি পানি শূন্যতা থেকেও বাঁচায়। তাই গরমে স্বস্তিতে থাকতে আশপাশের পরিবেশ কেমন তা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা গরম থেকে যেমন বাঁচায় তেমনি আপনাকেও রাখে সুস্থ আর সবসময় প্রাণবন্ত।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন