ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করুন: সেতুমন্ত্রী

প্রকাশিত: জুলা ৪, ২০২০ / ০২:২৯অপরাহ্ণ
ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করুন: সেতুমন্ত্রী

আসছে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে মালিকগণকে বরাবরের মতো এবারও সহমর্মিতার নজির স্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে সরকারি বাসভবনে এক ভিডিও বার্তা তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য শিল্পসমূহ ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে ছুটি প্রদানে বিজেএমইএ এবং বিকেএমইএ’র প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

ঈদুল আজহার তিনদিন আগে থেকে সড়ক মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কৃষি, শিল্প ও রফতানিমুখী পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ত্রাণ, জ্বালানি, ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য,পচনশীল পণ্যসহ জরুরি সার্ভিস এর আওতামুক্ত থাকবে। ঈদের আগে-পরে ৮ দিন সড়ক-মহাসড়ক সংলগ্ন সিএনজি স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।’

পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘ফিটনেস বিহীন যানবাহন কোরবানির পশুরহাটে চলাচলে বিরত থাকতে হবে। ইতোমধ্যে ফিটনেস বিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

পশুরহাটের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে মন্ত্রী আবারও স্মরণ করে দিয়ে বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কের ওপরে কিংবা আশপাশে পশুরহাট বসানো যাবে না। প্রয়োজনে এবছর কমসংখ্যক হাট বসানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে অনলাইনে পশু বেচা-কেনার বিষয়টিও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতির সাথে অনেক মানুষের জীবন ও জীবিকা সংযুক্ত। পশুপালন, এ্যনিম্যাল ফার্মিং,পশুর চামড়া রফতানিসহ ঈদ-অর্থনীতি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

জীবনের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শেখ হাসিনা সরকারের যে অবস্থান তা এগিয়ে নিতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহ্বান জানান তিনি।

বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের সাথে অমানবিক আচরণ এবং শিক্ষার্থীরা মেসে থাকছে ভাড়া নিয়ে, তাদের মালপত্র ফেলে দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সংকটে অনেকের আয় কমেছে, হারিয়েছে চাকুরি। আবার কেউ কেউ পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে একে অপরের প্রতি সমব্যথী হতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণখাতের অধিকাংশ ঋণগ্রহিতা প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী করোনার আকস্মিক অভিঘাত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবনযাপনে ফেলেছে নেতিবাচক প্রভাব। অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে চলছে, অন্যদিকে ঋণগ্রহিতাদের অনেকে ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে।’

‘মতাবস্থায় তাদের ওপর কিস্তি শোধের বাড়তি চাপ – জীবনযুদ্ধ থেকে তাদের ছিটকে দিতে পারে, ভেঙে দিতে পারে মনোবল।
শেখ হাসিনা সরকার অর্থনীতির প্রতিটি খাতকে চাঙা রাখতে বাজেটে প্রণোদনাসহ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে’- বলেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন