বিদেশে মৃ’ত্যু হলো ৭৫০ বাংলাদেশির, ৩৫ হাজার আক্রান্ত!

প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২০ / ১২:৪০পূর্বাহ্ণ
বিদেশে মৃ’ত্যু হলো ৭৫০ বাংলাদেশির, ৩৫ হাজার আক্রান্ত!

ক’রো’না বা কো’ভি’ড-১৯ রোগে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৫০ বাংলাদেশি মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। মোট আ’ক্রা’ন্ত প্রায় হাজারে হাজার। তবে কারও কাছেই সুনির্দিষ্ট তথ্য বা পরিসংখ্যান নেই নানামুখী সীমাবদ্ধতার কারণে।

সরকারী কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের মত দেশে সাধারণের অসুস্থতা বা চিকিৎসার তথ্য যতটা সম্ভব গোপন রাখা হয়। তাছাড়া ওই দেশগুলাতে যে সব বাংলাদেশি আ’ক্রা’ন্ত তারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত, অন্য দেশের নাগরিক। এটাও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাধা।

তবে সেগুনবাগিচার ক’রো’না সেলের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে নিয়মিত যে রিপোর্ট পাচ্ছেন তাতে বিদেশে কর্মরত প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক ক’রো’না আ’ক্রা’ন্ত বলে তা মোটামুটি নিশ্চিত।

সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশির মৃ’ত্যু যুক্তরাষ্ট্রে, সরকারি রিপোর্ট মতে, বিদেশে সবচেয়ে বাংলাদেশি মৃ’ত্যু’বরণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। কমিউনিটি মারফত এ এটি মোটামুটি নিশ্চিত যে দেশটিতে আড়াই শতাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মা’রা গেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে বৃটেন।

কমিউনিটি সূত্রের খবর কেবল হাসপাতালেই কমপক্ষে ২২০ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিকের প্রাণ কেড়েছে ক’রো’না। ওল্ডহোম বা কেয়ার হোমের হিসাব একত্র করলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিকের মৃ’তে’র সংখ্যা তিন শতাধিক হবে বলে ধারণা দিয়েছেন লন্ডস্থ মিশন ও বাংলাদেশ কমিউনিটির দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনে থাকা বাংলাদেশি কূটনীতিক-কর্মকর্তাদের মতে, ক’রো’নায় অনেকেই আ’ক্রা’ন্ত, তবে তাদের হিসাব পাওয়া কষ্টকর। কারণ সরকারীভাবে তো নয়ই কমিউনিটিও আ’ক্রা’ন্তের কোন তথ্য শেযার করতে চায় না।

তবে হ্যাঁ, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো ব্যক্তি মা’রা গেলে কমিউনিটি নানা কাণে সেই খবর পায় এবং তা কোনো না কোনোভাবে মিশন অবধি পৌঁছায়। আর এভাবেই যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের শত শত মৃ’ত্যু’র রেকর্ড বা হিসাবে এসেছে।

সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল শ্রমবাজারের প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশির কর্মরত। এর মধ্যে কেবল সৌদিতেই ২২ থেকে ২৫ লাখ। করোনায় সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক মা’রা গেছেন।

দেশটিতে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১২০ জনের মৃ’ত্যু’র তথ্য রেকর্ড হয়েছে। যা সৌদিতে ক’রো’না আ’ক্রা’ন্ত মোট মৃ’তের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। এরপরেই আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪৬ বাংলাদেশি মা’রা গেছেন। কুয়েতে করোনায় মা’রা গেছেন ২৫ আর কাতারে ৬ জন। তবে উপসাগরীয় বা মধ্য এশিয়ার অন্য দেশে হাজার হাজার বাংলাদেশি আ’ক্রা’ন্ত হলেও মৃ’ত্যুর কোন তথ্য ছিল না।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মানামা থেকে খবর আসে বাহরাইনে ক’রো’নায় আ’ক্রা’ন্ত একজন বাংলাদেশি মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। অবশ্য তাতক্ষনিক তার বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ মিশনগুলোর রিপোর্ট মতে, ইউরোপের মৃ’ত্যুপুরী খ্যাত ইতালিতে হাজার হাজার লোকের ভিড়ে ৯ জন বাংলাদেশিও প্রাণ হারিয়েছেন। ইউরোপের অপর দেশ সুইডেনে মারা গেছেন ৮জন।

ফ্রান্সে ৫, স্পেনে ৫ এবং পর্তুগালে ১ জন বাংলাদেশির প্রাণ কেড়েছে ক’রো’না। কানাডায় ৯ বাংলাদেশির মৃ’ত্যু হয়েছে গত সপ্তাহ পর্যন্ত। এছাড়াও মালদ্বীপ, কেনিয়া, লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও গাম্বিয়ায় একজন করে বাংলাদেশি মা’রা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সেগুনবাগিচা।

আ’ক্রা’ন্ত ৩৫ হাজার প্রবাসী শ্রমিকের অর্ধেকই সিঙ্গাপুরে

এদিকে মিশনগুলোর রিপোর্ট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক’রো’না সেলের হিসাব মতে, বিদেশে আ’ক্রা’ন্ত প্রায় ৩৫ হাজার বাংলাদেশির অর্ধেকই সিঙ্গাপুরে। দেশটিতে মোট বাংলাদেশি ক’রো’না আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে বলে বাংলাদেশ মিশন নিশ্চিত করেছে।

এরপরেই সৌদি আরবের অবস্থান। দেশটিতে শ্রম কাউন্সিলরসহ প্রায় ৯ হাজার বাংলাদেশি ক’রো’না আ’ক্রা’ন্ত। অবশ্য জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট মানবজমিনকে জানিয়েছে- শ্রম কাউন্সেলর মো.আমিনুল ইসলাম (গত ১২ এপ্রিল আ’ক্রা’ন্ত হয়েছিলেন) দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা শেষে এখন অনেকটাই সুস্থ।

ওদিকে ক’রো’না সেলের তথ্য মতে, কাতারে প্রায় সাড়ে তিন হাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিন হাজার, কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ৪ জন স্টাফসহ দেশটিতে প্রায় আড়াই হাজার, বাহরাইনে ৪০০, ইতালিতে ২০০ এবং স্পেনে দেড় শতাধিক বাংলাদেশি ক’রো’নায় আ’ক্রা’ন্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সিঙ্গাপুরসহ ব্যাপকভাবে বাংলাদেশি ক’রো’না আ’ক্রা’ন্ত এমন ৬ দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কূটনীতিকের (বাংলাদেশি) সঙ্গে বৃহস্পতিবার কথা হয়। তাদের দেয়া তথ্য মতে, সৌদি আরব ছাড়া অন্যত্র আ’ক্রা’ন্ত বাংলাদেশিদের অবস্থা অতটা গুরুতর বা সং’ক’টাপন্ন নয়।

তবে সৌদি সরকারও গুরুতরদের অত্যধিক কেয়ার নিচ্ছে। তারপরও ঈদের ছুটিতেই কমপক্ষে ২০ জন মা’রা গেছেন। বাকী দেশগুলোতে অধিকাংশ কর্মীই সুস্থ হয়ে গেছেন বা সুস্থতার পথে রয়েছেন। সিঙ্গাপুরের পরিস্থিতি অন্যদের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন।

দেশটিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি অর্থাৎ ১৭ হাজার আ’ক্রা’ন্ত হলেও স্রষ্টার কৃপা একজন বাংলাদেশিও মারা যাওয়ার ঘটনা নেই। ক’রো’না আ’ক্রা’ন্ত প্রথম বাংলাদেশি প্রায় দু’মাস কোমায় ছিলেন। মিরাকল, অবশেষে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

দীর্ঘ সময় আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকায় তার কণ্ঠস্বরে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন এটি পুনরুদ্ধারে তার চিকিতসা অর্থাৎ স্পীচ থেরাপি চলছে। দেশটির বাংলাদেশ মিশন জানায়, দু’সপ্তাহ আগে সিঙ্গাপুরে এক বাংলাদেশি ক’রো’নার উপসর্গ নিয়ে মা’রা যান।

ঘটনাটি নিয়ে রীতিমত হৈ চৈ পড়ে যায় সিঙ্গাপুর সিটিতে। মৃ’ত ব্যক্তির করোনার টেস্টের রিপোর্ট পজেটিভ এলে বিস্তৃত তদন্ত শুরু হয়। অবশেষে রিপোর্ট আসে ক’রো’নায় নয়, ওই বাংলাদেশির মৃ’ত্যু হয়েছে হার্ট অ্যা”টাকে!’

সুত্রঃ মানবজমিন

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন