এমপি দুর্জয় ওমান প্রবাসীদের জন্য মানবতার হাত বাড়ালেন

প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২০ / ১০:৫৬অপরাহ্ণ
এমপি দুর্জয় ওমান প্রবাসীদের জন্য মানবতার হাত বাড়ালেন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার মহিদুল ইসলাম নামে এক যুবক ভাগ্য বদলের জন্য বেশ কয়েক বছর আগে ওমানে পাড়ি জমান। বিদেশি টাকা রোজগার করে পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু ভালো থাকতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সারা বিশ্বে অদৃশ্য করো’না’ভা’ইরাসের প্রা’দুর্ভাব ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা বাড়ছে। যোগ হচ্ছে আরো মৃত্যুর সংখ্যা। এ কারণে কর্মহীন হয়ে পরে মহিদুলসহ আরো অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক।

তাদের কর্মস্থল ছিল ওমানের মাসকাটে। এক দিকে কাজ নেই অপরদিকে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একজন রিনিউ করে দেবার কথা বলে লাপাত্তা হন। এ সময় কোনো মতো অর্ধাহার-অনাহারে দিন চলতে থাকে তাদের।

এর মধ্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দেয়। দলের মধ্য একজন ক’রো’না শনাক্ত হয়। সব মিলে দিশেহারা মহিদুল মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিসিবির পরিচালক এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপিকে পুরো ঘটনা ফেসবুকের মেসেঞ্জারে জানান।

তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমলে নিয়ে তিনি ছুটে যান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলমের কাছে। পরে তার মাধ্যমে মহিদুলসহ প্রবাসী সবার খাবারসহ সকল ব্যবস্থা করে দেন তিনি। নিজ নির্বাচনী এলাকার একজনকে দূর দেশে বিপদে এগিয়ে হাওয়ায় এলাকায় সবার কাছে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

এমপি দুর্জয় জানান, কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে মহিদুল ইসলাম নামের একজনের একটি ম্যাসেজ পাই। তিনি ম্যাসেজে জানান, তার বাড়ি আমার নির্বাচনী আসনের দৌলতপুর থানায়। তিনি এবং তার সাথের কয়েকজন শ্রমিক ওমানের মাসকাটে নিদারুণ করুণ জীবন যাপন করছে।

তার স্পনসর টাকা নিয়ে নিয়েছে পাসপোর্ট রিনিউ করার কথা বলে অথচ পাসপোর্ট রিনিউয়ের কোনো খবর নেই। গত দুই মাস কাজ না করতে পারায় তাদের হাতে অবশিষ্ট কোনো টাকাও নেই। খাবারের অভাবে এমনিতেই কষ্টের এই দুর্দিনে আবার তাদের মধ্যে ক’রো’না রোগীও শনাক্ত হয়েছে।

‘ম্যাসেজটা পাওয়ার পরেই তাদের মানসিক অবস্থার কথা ভেবে খুব মন খারাপ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাদের সাথে যোগাযোগ করে ডিটেইলস জানতে চাই আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ছবি তুলে পাঠাতে বলি’।

‘আমাদের মন্ত্রী পরিষদের যে কয়জন সদস্যকে কোনো প্রয়োজনে নক করলে সবচেয়ে দ্রুত পজিটিভ ফিডব্যাক পাওয়া যায় মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম ভাই তাদেরই একজন।

আজ পর্যন্ত কখনও এমন হয়নি যে কোনো প্রয়োজনে তাকে নক করেছি আর তিনি তার অবস্থান থেকে হাত বাড়িয়ে দেননি। সেই ভরসা থেকেই এবারও মানবিক আবেদন নিয়ে তার শরনাপন্ন হই। তাকে ঘটনাটি জানাই’।

‘মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম ভাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী তখনই মহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক তার ও তার সঙ্গীদের জন্য খাবার পাঠানো হয়।

সেইসাথে কিছু নগদ অর্থও দেওয়া হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা মহিদুল ইসলামের স্পন্সরের সাথে যোগাযোগ করে তার ভিসা রিনিউ সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের উদ্যোগও গ্রহণ করেন’।

‘প্রবাসীরা আমাদের সম্পদ, আমাদের অর্থনীতির ভীত তাদের ঘামে অর্জিত রেমিটেন্সের উপর দাঁড়ানো। তাদের কারও জন্য সামান্য কিছু করতে পারাই মন আর দায়িত্ববোধের প্রশান্তি। আমরা তাদের জন্য যতোটুকু করতে পারবো তার অনেক বেশিই তারা বহু আগে থেকে আমাদের জন্য করে আসছেন’।

‘সর্বোপরি এই করোনা মহামারীর ক্রান্তিকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও নির্দেশনা অনুযায়ী সবাই যে আত্মনিবেদন নিয়ে কাজ করছে তার প্রশংসা না করে পারি না।

মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম ভাইয়ের মতো দায়িত্বশীল মানুষ যার নির্দেশনায় বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

মানুষের সেবায় যে প্রশান্তি তা একবার কেউ পেলে সারাজীবন এই পথে নিবেদিত থাকবে বলেই বিশ্বাস করি। আর আমাদেরতো এই আলোর পথের দিশারি ও দিকপাল হিসেবে রয়েছেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু কন্যা, আমাদের জয় হবেই। ইনন শা আল্লাহ’।

সুত্রঃ কালের কন্ঠ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন