কতক্ষণ থাকবে সুপার সাইক্লোন আম্পান?

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২০ / ১২:৩৭পূর্বাহ্ণ
কতক্ষণ থাকবে সুপার সাইক্লোন আম্পান?

বঙ্গোপসাগরে চোখ রাঙাচ্ছে সুপার সা’ই’ক্লোন ‘আমফান’। ভ’য়ং’কর রূপে ধেয়ে আসা এ ঘূর্ণি’ঝ’ড় ২০ মে (বুধবার) খুব ভোর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে যে কোনো সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে বাংলাদেশের নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ পর্যন্ত উপকূলজুড়েই আছড়ে পড়তে পারে।

ইতিমধ্যে এটি এতটাই শক্তি সঞ্চয় করেছে যে, ‘সুপার সা’ই’ক্লোনে’ রূপ নিয়েছে এটি। তবে বাংলাদেশ উপকূলে আ’ঘা’ত হানার সময় এর গতি কিছুটা কমে ‘এক্সট্রিম সিভিয়ার সাইক্লোন’ বা ‘অতিপ্রবল ঘূর্ণি’ঝ’ড়ে’ রূপ নিতে পারে।

এতে ঘূর্ণিঝ’ড়টি ২০০৭ সালের সিডরের মতোই শক্তি নিয়ে আসতে পারে। এমনটাই আভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘূর্ণিঝড়ের বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫-১৭৫ কিমি। তবে পরিস্থিতি তেমন হলে আম্পানের সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৯৫ কিমি পর্যন্ত।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই ঘূর্ণিঝড় এখন সুপার সাইক্লোনের চেহারা নিয়ে সমুদ্রের উপরে রয়েছে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০-২৩০ কিমি। কিন্তু আম্পান যখন স্থলভাগের দিকে এগোবে, তখন ঝড়ের বেগ কমবে।

অর্থাৎ, তখন আর সুপার সাইক্লোন থাকবে না, এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোন হিসেবে আছড়ে পড়বে। সাধারণত, এ ধরনের ঘূর্ণি’ঝ’ড় স্থলভাগের দিকে যত এগোবে, তত শক্তিক্ষয় হবে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের আবহাওয়াবিদ সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ”সমুদ্রের ওপরে রয়েছে সুপার সাইক্লোন। আম্পানের ক্ষেত্রে, যখন এটি অতিক্রম করবে, তখন এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোন হিসেবে ধেয়ে যাবে।

ঘূর্ণিঝ’ড়ের বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫-১৭৫ কিমি। আম্পানের সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৯৫ কিমি। ” মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ঘূর্ণিঝ’ড় আম্পান সুপার সাইক্লোন পর্যায়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ব্যাপারে সোমবার রাতে বুয়েটের আইডব্লিউএফএম (পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটট)-এর সিনিয়র গবেষক ড. মোহন কুমার দাশ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝ’ড় আম্পান মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সুপার সা’ই’ক্লোন পর্যায়ে থাকবে।

মহাসাগরে এপ্রিল ও মে মাসে প্রায় কোন ঘূর্ণিঝড় উৎপন্ন হয়ে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারের উপকূলে আঘাত করেছে’।

করো’না’ভা’ইরাস মহা’মা’রীর এ সময় “শূন্য ক্যাজুয়ালিটি ” পলিসি নির্ধারণ করে দু’র্যো’গ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিতে হবে। সাধারণ জনগণ যেন সতর্কতা বুঝে, মানে ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতন হয় এটির যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি জানান, এর আগে এপ্রিলে আ’ঘা’ত হা’না ঘূ’র্ণি’ঝ’ড় ছিল মালা (২০০৬), নার্গিস (২০০৭), বিজলি (২০০৯), মারুথা (২০১৭) ও ফনি (২০১৯)।

আর মে মাসে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ছিল আকাশ (২০০৭), আইলা (২০০৯), লায়লা (২০১০), ভিয়ারু (২০১৩), রোয়ানু (২০১৬), মরা (২০১৭)।

সুত্রঃ যুগান্তর

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন