ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আ’ঘাত হা’নার আগেই বোরো ধান কাটার নির্দেশনা

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২০ / ০৯:৫৯পূর্বাহ্ণ
ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আ’ঘাত হা’নার আগেই বোরো ধান কাটার নির্দেশনা

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আ’ঘাত হানার আগেই পাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে কৃষকদের নির্দেশনা দিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। রোববার (১৭ মে) বিকেলে দুর্যোগ কমিটির এক সভায় এ নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান।

বিভাগের সব জেলা ও উপজেলার প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করারও নির্দেশনা দেন তিনি। পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম, জরুরি খাদ্য ও পানীয়’র ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে, ভোলায় এক হাজার একশ’ চারটি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া, চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আনতে নৌযান ও স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত আছে। প্রতিটি সাইক্লোন শেল্টারে সামাজিক দূরত্ব মেনে উপকূলবর্তী মানুষকে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ ১৯ মে (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় দেশের আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া খাদ্যদ্রব্যও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে এ সব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সব রকমের প্রস্তুতি নিয়েছি।

ইতোমধ্যেই শনিবার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মিটিং করেছি। উপকূলীয় জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়সহ যেকোনো দুর্যোগে স্থায়ী কার্যাদেশ (এসওডি) অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয় সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আম্পান সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৪৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৮০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৭৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ২৫৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

সূত্র : সময় নিউজ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন