করোনা সারবে মাত্র ৯০ টাকায় : ডা.তারেক আলম

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২০ / ০৫:৩৩অপরাহ্ণ
করোনা সারবে মাত্র ৯০ টাকায় : ডা.তারেক আলম

‘‘উকুন এবং খোস পাঁচড়ার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ প্রয়োগে প্রাথমিকভাবে করোনার রোগী সুস্থ হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। অষ্ট্রেলিয়ায় ইঁদুরের লিভিং টিস্যুতে প্রয়োগে সুফল পাওয়ার পর দেশের একজন চিকিৎসক কয়েকজন করোনা রোগীর চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করেছেন। তাতে সফলতাও পেয়েছেন।

‘তবে আইসিইউতে ভর্তি জটিল রোগীদের উপর এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়নি। অন্যদের বেলায় তিন-চার দিনের মধ্যে সফলতা এসেছে। যদি এই ওষুধে জটিল রোগীও সুস্থ হন তাহলে হয়তো ৮০ থেকে ৯০ টাকার ওষুধে সেরে উঠবেন করোনার রোগী।”

এ প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপে এমনটাই বলছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. তারেক আলম। এছাড়া এ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে কথা বলেন এই বিশেষজ্ঞ।

কীভাবে এই ওষুধ প্রয়োগের পরিকল্পনা মাথায় আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘গত ২ এপ্রিল অস্টেলিয়ার মোনাস ইউনির্ভারসিটির ফার্মেসি বিভাগ একটি গবেষণা প্রকাশ করে। আমরা যে ওষুধ উকুন বা খোস পাঁচড়ার জন্য ব্যবহার করি, সেই ওষুধ তারা ইঁদুরের টিস্যুতে পরীক্ষা করেন। তাতে দেখা যায়-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাসটি চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার গুণ কমে যায়। এই ওষুধ ৪০ বছর ধরে এফডি এপ্রুভ।

‘এটা দেখার পর ভাবছিলাম বাংলাদেশ আমরা এটা ব্যবহার করতে পারি কি পারি না। যেহেতু বাংলাদেশ মেডিক্যাল নন কোভিড হাসপাতাল। সেকারণে আমাদের এখানে কোভিড রোগী আসার সুযোগ নেই। কিন্তু হঠাৎ করে আমাদের দুই তিনজন চিকিৎসকের কোভিড পজেটিভ হয়ে যায়। হয়তো রোগী তথ্য গোপন করে ভর্তি হয়েছিলো।

‘তখন এই চিকিৎসকদের আমরা দুটি পরামর্শ দেই। এক হলো- হাইডোঅক্সিন ও অ‌্যাজিথ্রোমাইসিন খাওয়া বা কোভিডের যে চলমান চিকিৎসা সেটা গ্রহণ করা। যেহেতু কোভিডে নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, সেক্ষেত্রে তাদের বলি- আপনারা এই ওষুধটি খেয়ে দেখতে চান কি না।

খেলে হয়তো তিন-চার দিনে ভাইরাস মুক্ত হয়ে যেতে পারেন। তারা রাজি হওয়ায় তাদের ডক্সিসাইক্লিন ও আইভারমেকটিন দেওয়া হয়। চার দিন পর তাদের পরীক্ষা করা হলে করোনা নেগেটিভ আসে। কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও ছিল না। এদের কোভিড পজিটিভ হলেও কোনো প্রকার লক্ষণ বা উপসর্গ ছিল না।’’

তিনি বলেন, ‘‘এরপর আমাদের কয়েকজন নার্সের কোভিড পজিটিভ হয়। চিকিৎসকদের উপসর্গ না থাকলেও নার্সদের মধ্যে ডায়রিয়া-শ্বাসকষ্ট-কাশিসহ কোভিডের একাধিক উপসর্গ ছিল। আমরা তাদের কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেই। কিন্তু তারা কোভিড হাসপাতালে যেতে রাজি হয়নি। তারাও এই ওষুধে আগ্রহ প্রকাশ করে।

‘ডায়রিয়া-জ্বর-কাশির জন্য ওষুধের সাথে ডক্সিসাইক্লিন ও আইভারমেকটিন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয় তাদের। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের উপসর্গ ৫০ শতাংশ কমে যায়। পাতলা পায়খানা, কাশি, জ্বর কমে যায় তাদের। তাদেরকে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছি। সামনেও আবার পরীক্ষা করব।”

ডা. তারেক আলম বলেন, ‘‘এছাড়া লালবাগ, মোহাম্মদপুরসহ হটস্পটগুলো থেকে আমাদের কিছু শিক্ষার্থী ফোন করে কয়েকজন করোনা পজিটিভ রোগীর খবর জানায়। একজনের শ্বশুরের পজিটিভ ছিল। মারা যাওয়ার পরে সে (শিক্ষার্থী) এবং তার শাশুড়ি দুই জনেরই পজিটিভ হয়ে যায়।

সূত্র : সময়ের কণ্ঠস্বর

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন