ঈদ কেনাকাটায় নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২০ / ০৬:২৩অপরাহ্ণ
ঈদ কেনাকাটায় নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

ক’রো’না-সং’ক্র’মণ ঠেকাতে মানুষে-মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও হাট-বাজারে সেই সামাজিক দূরত্ব অনেকেই মানছেন না।

হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রায়ই একে অন্যের গা-ঘেঁ’ষে দাঁড়াচ্ছেন। হাঁচি-কাশির শি’ষ্টাচার রক্ষা করছে না। এর ফলে ক’রো’না-সং’ক্র’মণের ঝুঁ’কি বাড়বে বলে আ’শ’ঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকানে আগের মতই মানুষের আড্ডা চোখে পড়ছে। প্রশাসনের নির্দেশনার তো’য়াক্কা করছে না কেউ। ঈদ কে সামনে রেখে জনতার ভিড় দিন কে দিন বেড়েই চলেছে।

তাড়াশ উপজেলা সদর বাজারে দেখা গেছে, গার্মেন্টের দোকান, বিপনিবিতানগুলোতে ক্রেতারা ভিড় করছেন। তাদের মাঝখানে ১০ ইঞ্চি জায়গাও ফাঁকা নেই। অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেননি।

হাতে গ্লাভস নেই। দোকানি ও ক্রেতার মাঝখানেও তেমন দূরত্ব রক্ষা করা হয়নি। এ ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাকে যেখানে-সেখানে কফ-থুথু ফেলতে দেখা গেছে। কয়েকজন ক্রেতা জানান, তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে জানেন।

কিন্তু কেনাকাটা করতে এসে পরিস্থিতির কারণে ঠিকমতো সেই দূরত্ব রক্ষা করতে পারেন না বলে দাবি করেছেন। আর বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলেও তারা কেউ শোনেন না।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অবস্থিত চায়ের দোকানগুলো এখনো খোলা রয়েছে। তারা আগের মত দিব্যি বেচাকেনা করছে। বাজারে যেভাবে ভিড়ের কারণে সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘিত হয়, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপ’র্য’য় ঘটে যেতে পারে।

তাছাড়া ওষুধের দোকান, মুদি দোকান ও সবজির দোকান ব্যতিত সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। উপজেলার অনেক বাজারে এই নির্দেশনা মানছে না।

প্রায় সব দোকান খোলা রাখা হয়েছে। চিত্র দেখে মনে হয় দোকান খোলা রাখার প্রতিযোগীতায় মেতেছে তারা। তাড়াশ বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, মানুষের মধ্যে কোনো সচেতনতা নেই।

আগের মতই বাজারে চলাফেরা করছে। অনেকেই বাড়িতে না থেকে বাজারে আড্ডা জমাচ্ছে। এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জামাল মিয়া শোভন বলেন, করোনা একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষে সর্বনিম্ন ৩ ফুট ও সর্বোচ্চ ৬ ফুট পর্যন্ত দূরত্বে ছড়াতে পারে।

তাই মানুষে-মানুষে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। যারা সচেতন মানুষ, তারাই সরকারি বিধিনিষেধ কিছুটা মানছেন। আর অধিকাংশ মানুষ সামজিক দূরুত্ব বা স্বাস্থ্য বার্তা মানছে না।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, আমাদের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ও দোকানপাট বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রামক থেকে বাঁচতে মানুষকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে জ’রি’মানা করাসহ সচেতন করা হচ্ছে।

সুত্রঃ কালের কন্ঠ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন