সিঙ্গাপুরে করোনায় ২৩ হাজার প্রবাসী শ্রমিক আ’ক্রান্ত

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২০ / ১২:৪৬অপরাহ্ণ
সিঙ্গাপুরে করোনায় ২৩ হাজার প্রবাসী শ্রমিক আ’ক্রান্ত

সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্তের বেশির ভাগই অভিবাসী শ্রমিক বলে জানা গেছে। গত এপ্রিল মাসের শুরুতে দেশটিতে করোনায় আ’ক্রান্তের সংখ্যা ছিল হাজারখানেক। এক মাসের বেশি সময়ে সে সংখ্যা বেড়ে এখন ২৬ হাজার ৮৯১ জন।

তাদের মধ্যে ২৩ হাজারের বেশিই অভিবাসী শ্রমিক। অর্থাৎ দেশটিতে মোট আ’ক্রান্তের ৮৮ শতাংশই অভিবাসী শ্রমিক। যদিও দেশটিতে মারা গেছেন মাত্র ২১ জন।

শুক্রবার (১৫ মে) সিএনএন জানায়, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাংলাদেশ এবং ভারতের মতো দেশের এসব নাগরিক ভিড়ে ঠাসা ডরমেটরি থেকে সং’ক্রমিত হয়েছেন।

সিঙ্গাপুরের কর্মীবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থাৎ প্রায় ১৪ লাখ অভিবাসী শ্রমিক সেখানে বসবাস করেন। তাদের বেশিরভাগই নির্মাণ খাত, সাধারণ শ্রমিক এবং গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নিযুক্ত।

প্রায় তিন লাখ শ্রমিক দেশটির ৪৩টি ডরমেটরিতে বাস করেন বলে জানিয়েছেন জনশক্তিমন্ত্রী জোসেফাইন তেও। ডরমেটরিগুলোতে অধিকহারে করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ার পেছনে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণ দায়ী করেছেন।

এর মধ্যে অন্যতম হল অল্প জায়গায় বেশি লোকের বসবাস। ডরমেটরির প্রতিটি কক্ষে প্রায় ১০ থেকে ২০ জন বাসিন্দা থাকেন। তারা টয়লেট এবং গোসলখানা শেয়ার করেন।

তারা সাধারণ জায়গায় খাওয়া-দাওয়া সারেন এবং একে অপর থেকে ফুটখানেক দূরত্ব বজায় রেখে ঘুমান। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব।

তাই রুমের একজন করোনায় আ’ক্রান্ত হলে অন্যদের মাঝে খুব দ্রুত ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া বর্তমানে রুমে অবস্থান করতে হলেও অনেকেই সামাজিক দূরত্ব মানছে না।

তারা দলবদ্ধভাবে আড্ডা দিচ্ছে, তাস খেলছে যা ইতোমধ্যে আমরা ফেসবুক ভিডিওতে দেখেছি। এপ্রিল মাসে সিঙ্গাপুরে দৈনিক এক হাজার করে নতুন আ’ক্রান্ত হতে শুরু করে।

কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ রুখতে ডরমেটরিগুলো লকডাউন এবং সংক্রামিত বাসিন্দাদের স্থানান্তরিত করে। সিঙ্গাপুরে এখনও কমপক্ষে ২৩ হাজার ৭৫৮ জন ডরমেটরির বাসিন্দা করোনা আ’ক্রান্ত হয়েছেন।

দেশটির বাকি অংশ যেখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে অভিবাসী শ্রমিকরা ১ জুন পর্যন্ত লকডাউনে থাকবেন। প্রায় ৭১৯.৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫৭ লাখ।

এর মধ্যে ৪৭ লাখ সিঙ্গাপুরিয়ান, স্থায়ী বাসিন্দা ও অন্যান্য পাশ হোল্ডার। ৩ লাখ ২৩ হাজার ওয়ার্ক পাশ হোল্ডার শ্রমিক ডরমেটরিতে থাকেন এবং ৬ লাখ ৬৪ হাজার ওয়ার্ক পাশ হোল্ডার, যারা ডরমেটরির বাইরে থাকেন।

২৩ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরে করোনা আ’ক্রান্ত প্রথম রোগী ধরা পড়ে। তারা সবাই চীন থেকে সিঙ্গাপুরে ফিরেছিলেন। ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম কোনো বাংলাদেশি করোনায় আ’ক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

ডরমেটরিতে বসবাসকারী ৩ লাখ ২৩ হাজার অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ২৩ হাজার ৭৫৮ জনই করোনা পজিটিভ। অর্থাৎ ৫.৩ শতাংশই করোনায় আ’ক্রান্ত। ৬ লাখ ৬৪ হাজার ওয়ার্ক পাশ হোল্ডার, যারা ডরমেটরির বাইরে থাকেন তাদের মধ্যে ৫৭৭ জন করোনাভাইরাসে পজিটিভ।

করোনায় আ’ক্রান্ত ও মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারের কাছেও নেই কোনো দেশ। ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আ’ক্রান্তের সংখ্যা ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৫ জন। এছাড়া এতে আ’ক্রান্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ৮৮ হাজার ৫০৭ জন।

বিশ্বের ৪৬ লাখ ২৮ হাজার ২২৮ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এ ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩ লাখ ৮ হাজার ৬৪২ জন। অন্যদিকে শনাক্তকৃতদের মধ্যে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩২ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। শনিবার (১৬ মে) পরিসংখ্যান ভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডো মিটারে সবশেষ পরিসংখ্যান জানাচ্ছে এমন তথ্য।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ২৬ লাখ ১৬ হাজার ৫৪৯ জনের সং’ক্রমণ মৃদু এবং ৫৪ হাজার ৫ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন