পদ্মাসেতুর স্প্যানের মালামালের শেষ চালান আসছে

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২০ / ১১:০৫পূর্বাহ্ণ
পদ্মাসেতুর স্প্যানের মালামালের শেষ চালান আসছে

পদ্মাসেতুর স্প্যানের মালামালের শেষ চীনা চালান যাত্রা শুরু করেছে। শিনহোয়াংদাও বন্দর হতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে সমুদ্র পথে জাহাজটি রওনা হয়েছে। চীনা পতাকাবাহী এমভি কং সিউ সং জাহাজ মূল সেতুর মালামালহুলো বহন করছে। এ চালানটি দেশে পৌঁছালে সেতুর সকল মালামাল বাংলাদেশে আসা সম্পূর্ণ হবে।

জানা গেছে, এম ভি কং সিউ সং জাহাজে সেতুর ১৮০টি ট্রাস কম্পোনেন্টসহ ২ হাজার ৪১টি স্ট্রীলের তৈরি বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। সেতুর সর্বশেষ মালামাল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক কসকো শিপিং লাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি সাংহাই ও

সিঙ্গাপুর পোর্টে ৭ দিন বিরতি (মালামাল লোড/আনলোড) দিয়ে ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস শুল্ক পরিশোধ ও ক্লিয়ারেন্স এর পর মংলা হয়ে ১৫ জুন চালানটি মাওয়া এসে পৌঁছার কথা রয়েছে।

পদ্মা বহুমুখি সেতুর মূল সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান রয়েছে। প্রতিটি স্প্যানে ১১০-১১৮ টি স্টীলের ট্রাস কম্পোনেন্ট (কর্ড, মেম্বার বা নোড) এর সমন্বয়ে তৈরি ট্রাস। মূল সেতুর ৪১টি স্প্যানে সর্বমোট ৪ হাজার ৫৮৭ স্ট্রীলের ট্রাস কম্পোনেন্ট প্রয়োজন হবে।

৪ হাজার ৫৮৭টি স্টীলের ট্রাস কম্পোনেন্ট মূল সেতুর স্প্যান (স্কলিটন) তৈরি করবে। তাছাড়াও রেলওয়ের জন্য ১ হাজার ৩১২টি স্টীলের স্ট্রিনজার বিম, ২ হাজার ৬২৪টি স্টীলের রেলওয়ে সাপোর্ট ব্রাকেট, ১ হাজার ৩১২টি স্টীলের রেলওয়ে স্প্যাব ব্রাকেট, ৮

হাজার ২১৪ টি গ্যান্ট্রি মেইনটেনান্স ব্রাকেট, ১ হাজার ৩৪৬টি গ্যাস পাইপ লাইন ব্রাকেট, ৯৩০টি হ্যাচ কভার, ৯১০টি এ্যাকসেস ল্যাডার, ৪৮টি ট্রান্সভার্স শেয়ার কি, ২১টি গ্যাস পাইপ লাইন লুপ, ১ হাজার ৩১২টি ওভারহেড ক্রেন স্টীলের গার্ডার প্রয়োজন হবে।

পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি এখন ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে মূল সেতু বেশি এগিয়ে। মূল সেতুর অগ্রগতি ৮৭ শতাংশ। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি দ্বিতল হবে, যার ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। সেতুর এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন