করোনা আ’ক্রান্ত যুবক পালিয়ে যাওয়ায় দণ্ড পেলো স্বেচ্ছাসেবী

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২০ / ১২:১৪পূর্বাহ্ণ
করোনা আ’ক্রান্ত যুবক পালিয়ে যাওয়ায় দণ্ড পেলো স্বেচ্ছাসেবী

বান্দরবান নার্সিং কলেজ ভবনে স্থাপিত ক’রো’না ওয়ার্ড থেকে এক যুবকের পালিয়ে যাওয়ার খেশারত হিসেবে যুবকের পরিচিত আরেক স্থানীয় যুবককে কা’রা’দণ্ড ও অর্থদ’ণ্ড দিয়ে রাতের অন্ধকারে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দ’ণ্ডপ্রাপ্ত যুবক ক’রো’না স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শুরু থেকেই হাসপাতাল ও মানবিক সহায়তা কাজে যুক্ত ছিলেন। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার বিকেলে ঘটানাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষো’ভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ক’রো’না পরিস্থিতিতে জেলা সদরে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কর্মরত অন্যরাও তাদের বন্ধুকে কারাদ’ণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারছে না।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট ও বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান বলেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য প্রমাণাদি এবং সাক্ষি-সাবুদের ভিত্তিতে মাহমুদুর রহমান মাহিনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও তিন মাসের কারাদ’ণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের চবাজার থেকে বান্দরবানে ঢুকে পড়া নুরুল আবসার (৩১) নামের এক যুবককে বান্দরবান সদর হাসপাতাল সংলগ্ন নার্সিং কলেজের কোয়ারেন্টিনে নিয়ে আসা হয়।

সে হাসপাতালের রেজিস্টারে স্থানীয় অভিভাবক/পরিচিতজন হিসেবে মাহিনের নাম ও তার মোবাইল নম্বর লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু কো’য়ারেন্টিনে আসার ২/৩ ঘণ্টার মধ্যেই কৌশলে পালিয়ে যায়।

এ কারণে রেজিস্টারে লেখা মাহিনের মোবাইল নাম্বারে কল দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ডেকে নিয়ে এসে নুরুল আবছারকে খুঁজে বের করার জন্য চাপ দিতে থাকে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে কা’রাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সূত্রটি জানায়, এর আগেও ২/১ জন কোয়ারেন্টিন থেকে পালিয়ে গেলেও এবারই প্রথম ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানোর ঘটনা ঘটে। মাহিনের সাথী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এ ঘটনাকে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী বলেছেন, ঘটনাটি তিনি অনেক দেরিতে জানিতে পেরেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ক’রো’না পজিটিভ ব্যক্তির পরিচয় নিয়েও নানা ধরনের গোপনীয়তার ঘটনা ঘটছে বান্দরবানে। গত ৩ মে লামা উপজেলার এক যুবকের নমুনায় ক’রো’না পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ তাকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।

সোমবার ক’রো’না পজিটিভ শনাক্ত হওয়া বান্দরবান সদর উপজেলার আরেক ব্যক্তিকেও চট্টগ্রামের লোহাগড়ার লোক হিসেবে দাবি করছে বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগ। এ দুটি ঘটনা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অং সুই মারমা জানিয়েছেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সং’ক’টের কারণে আলাদা ভবনে স্থাপিত করোনা ওয়ার্ড পরিচালনা করতে গিয়ে তারা হিমসিম খাচ্ছেন।

তিনি জানান, সরকার নতুন নিয়োগ দেওয়া ডাক্তারদের মধ্য থেকে ১০ জনকে বান্দরবানে পোস্টিং দিয়েছে। মঙ্গলবার তারা বান্দরবানে যোগ দিয়েছেন। নতুন ডাক্তাররা কাজ শুরু করার পর আরো সমন্বিতভাবে করোনা ওয়ার্ড পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সুত্রঃ কালের কন্ঠ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন