৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ‘৩০০ টাকার পেঁয়াজ’

প্রকাশিত: মে ৫, ২০২০ / ০৬:২১অপরাহ্ণ
৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ‘৩০০ টাকার পেঁয়াজ’

চট্টগ্রাম নগরবাসীর এখন প্রতিদিন সকালের ঘুম ভাঙছে ‘পেঁয়াজ পেঁয়াজ’ ডাক শুনে। ভ্রা’ম্যমাণ রিকশাভ্যানে করে অলিগলিতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। আর কেজি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। একটু নিম্নমানের পেঁয়াজ আবার কেজি ৩০ টাকায়।

অথচ তিনমাস আগের কথা চিন্তা করুন পেঁয়াজ নিয়ে ছিল চরম অস্থিরতা; ছিল হা’হাকার। দাম কেজিতে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। দাম ধরা’ছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ায় একজন ক্রেতা এককেজি দূরে থাক; আধা কেজি, আড়াই শ গ্রাম পেঁয়াজ কিনে বাড়ি গেছেন। কমিয়ে দিয়েছিলেন খাওয়া। আর এখনকার চিত্র তার উল্টো।

করো’না’ভা’ইরাসের সরকারী ছুটিতে লো’কজন ঘরে আ’টকে পড়ায় সেই দামি পেঁয়াজ এখন ঘরের দোরগোড়ায় চলে এসেছে। পছন্দমতো বাছাই করে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন; আগে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কেনার সুযোগ পেতেন।

জানতে চাইলে খুলশী এলাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা ভ্যানগাড়ির চালক আব্বাস উদ্দিন বলেন, লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে দোকানে যেতে চাইছে না বলেই আমরা পেঁয়াজ নিয়ে প্রত্যেকের বাড়ির কাছেই চলে এসেছি।

প্রতিদিন ৪/৫ বস্তা খাতুনগঞ্জ থেকে কিনে দিনেই বিক্রি শেষ করি। আমার পেঁয়াজ মায়ানমারের কেজি ৪০ টাকা। গলির মুখে দোকানির চেয়ে আমাদের পেঁয়াজ কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কম। সুতরাং লোকজন দ্রুতই কিনে নেন।

পেঁয়াজের দাম কমতে কমতে এমন অবস্থায় নেমেছে সেটার প্রমাণ মিলে নগরজুড়ে ভ্যানগাড়িতে করে হাঁক ডেকে বিক্রি করা দেখে। নগরের বিভিন্ন মোড়ে, অলিগলি এমনকি কাঁচাবাজারের সামনেও প্রতিযোগিতা দিয়ে বিক্রি চলছে এই পেঁয়াজ।

কাজীর দেউড়ী কাঁচাবাজারের দোকানি নাসির উদ্দিন বলছেন, বাজারে এখন ভারতীয় পেঁয়াজ নেই। শুধু মায়া’নমার ও দেশি পেঁয়াজ আছে। কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছি।

খাতুনগঞ্জ থেকে কিনে এনে ধোলাই, পরিবহন খরচ এবং দোকান ভাড়া যোগ করেই বিক্রি করতে হচ্ছে ওই দামে। আর আমাদের পেঁয়াজের মান নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু ভ্যানগাড়ির পেঁয়াজ তো আসলো বিক্রি করে দিল। তার বাড়তি কোনো খরচ নেই।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে পেঁয়াজ চাহিদার বেশিরভাগই দেশে উৎপাদিত হয়। বাকিটা আমদানি হয় প্রধানত ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে, এবং মায়ান’মার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে।

চট্টগ্রাম বন্দরে পেঁযাজ সাধারণত আসে না। কেবল সংকটের সময় বিভিন্ন দেশ থেকে আসে এই পেঁয়াজ। তবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এখন পেঁয়াজ আসে না বললেই চলে।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছিল ভারতে লক’ডাউনের আগে; সেই পেঁয়াজ একমাস টানা বিক্রি হয়েছিল। ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসায় দেশি এবং মা’য়ানমার পেঁয়াজের সরবরাহ দিয়েই এখন বাজার চলছে। কিন্তু টেকনাফ দিয়ে আসা পেঁয়াজ কেনা দামের চেয়ে লস দিয়ে বিক্রি করছেন আমদানিকারকরা।

জানতে চাইলে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আম’দানিকারক জারিফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মনজুর মোরশেদ বলছেন, গত সপ্তাহে মায়ান’মারের পেঁয়াজ কেজি ৩৩ টাকায় বিক্রি করেছি কেজিতে ৭ টাকা ল’স দিয়ে। কেজি এখন যে ৩৮ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছি সেগুলোও খরচ পড়েছে কেজি ৪০ টাকা, অর্থ্যাৎ ২ টাকা ল’স।

গত দুইমাসে ১৫ ট্রলারে পেঁয়াজ এনে শুধু আমি ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা লস দিয়েছি। এখনও লস দিচ্ছি কিন্তু এই ক্ষ’তি পু’ষিয়ে আনতে আমাকে আরো কতদিন ব্যবসা করতে কে জানে। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানের সময় সেটি কি আমলে নিয়েছে, বিচার করেছে? যোগ করেন তিনি।

খাতুনগঞ্জের একাধিক আড়তদার ক্ষো’ভে’র সুরে বলেন, আদার দাম বাড়লো বলে সেনাবাহিনী-র‌্যাব দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অ’ভি’যান চালিয়েছে, জরি’মানা করেছে। কিন্তু এখন যে কেনা দামের চেয়ে কম দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সেটার জন্য তো একটু সহানুভূতি পাইনি।

আসলে আমরা হচ্ছি হুজু’গি, দাম বাড়লেই সোশ্যাল মিডিয়া মাতিয়ে তুলি, গণমাধ্যম স্বোচ্চার হয় কিন্তু দাম কমে ল’সে বিক্রি হলে কারও দেখা নেই। এটাই বাস্তবতা।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, দেশের আমদানিকারকদের অনেকের ধারনা ছিল ভারত ৩ মে’র পর ল’ক’ডাউন তুলে নেবে।

এরপর পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে। সেই কারণে টেকনাফ দিয়ে মায়ান’মারের পেঁয়াজ আসাও কমেছিল। কিন্তু লকডাউন না তোলায় একটু সরবরাহ কমায় দাম কেজিতে ২/৩ টাকা বেড়েছে ঠিক কিন্তু এই পেঁয়াজের আমদানি খরচ পড়েছে এরচেয়ে বেশি। এভাবে ল’স দিয়ে কতদিন ব্যবসা করা যাবে। আর বাজারে তো আগের মতো ক্রেতা নেই।

সুত্রঃ কালের কন্ঠ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন