দক্ষিণ কোরিয়া করোনা নিয়ন্ত্রণের পর স্বাভাবিক জীবন ফিরছে

প্রকাশিত: মে ২, ২০২০ / ০৯:৪১অপরাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়া করোনা নিয়ন্ত্রণের পর স্বাভাবিক জীবন ফিরছে

করো’না মহা’মা’রী নিয়ন্ত্রণে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়ায় স্বাভাবিক জীবন ফিরতে শুরু করেছে। দেশটিতে শনিবার মাত্র ছয়জনের শরীরে এই বৈশ্বিক মহা’মা’রী শনাক্ত হয়েছে, যাদের সবাই বিদেশ থেকে আসা।

এখন দক্ষিণ কোরিয়ার গণপরিবহন, রেস্তেরাঁ, খেলার মাঠে মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। মহা’মা’রীতে নিস্ত’ব্ধ হয়ে পড়া পার্কগুলোতে কোলাহল ও উচ্ছ্বাস ফিরেছে। পরিবার নিয়ে পার্কে এসে সময় কাটাচ্ছেন লোকজন।

বিপণিবিতানগুলোও সপ্রাণ হয়ে উঠেছে। করোনা প্রকোপ কমায় সামাজিক দূরত্ব কিছুটা শিথিল। এতে লোকজন আবার স্বাভাবিক কর্মকান্ডে কর্মসংস্থানে যেতে শুরু করেছেন।

শুক্রবার কোভিড -১৯ রোগের হালনাগাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী চুং সিয়ে-কিউন বলেন, সরকার আগামী বুধবার থেকে কেন্দ্রীয় দু’র্যো’গ ও সুরক্ষা কাউন্টারমেজার সদর দফতরের অধীনে রাষ্ট্রীয় জাদুঘর,

আর্ট গ্যালারি, কোরিয়ার জাতীয় লোক সংগ্রহশালা, কোরিয়ার সমসাময়িক ইতিহাসের জাতীয় যাদুঘর, জাতীয় হাঙ্গুল জাদুঘর এবং গ্রন্থাগারগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অবশ্য এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু শর্তও রয়েছে। যেমন, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আর দর্শনার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ফরম পূরণ করতে হবে।

এছাড়াও স্থানীয় প্রেক্ষাগৃহ এবং বড় বড় পর্যটন এলাকাগুলোতে আগামী সপ্তাহ থেকে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন।

স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান হচ্ছে সব অনলাইনে। দক্ষিণ কোরীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এপ্রিলের মাঝামাঝি ক্লাস আবার শুরু হলে আমরা নতুনভাবে পাঠদানের চিন্তাভাবনা করছি।

গির্জাগুলো আবার খুলে দেয়া হয়েছে। তবে সেখানে প্রার্থনা করতে যারা যাচ্ছেন, তাদের মাস্ক পরে দূরত্ব বজায় রেখে বসার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে দেশটির সব মসজিদ খুলে দেয়ার কথা ভাবছেন কোরীয় মুসলিম ফেডারেশনের(কেএমএফ)।

সব স’তর্কতার মাঝেও গণপরিবহণ থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে শপিংমলের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা এবং কোন অনুষ্ঠান বা কোন ভবনে ঢুকতে গেলে আগে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সাবওয়ে স্টেশনগুলো নিয়মিতভাবে জীবাণুনাশক স্প্রে করে স্টেশনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। এন্টিভাইরাস দেয়া আছে সকল ট্রেনের ভেতরে হাতলগুলোতে।

বিশ্বের অন্যতম করোনা হটস্পট থেকে কোনো রকম লকডাউন ছাড়াই এমন সাফল্য বিরল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন বলেন, এটাই আমাদের জনগণের শক্তি। গত ১৫ এপ্রিল দেশটিতে সামাজিক দূরুত্ব কঠোরভাবে মেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় নির্বাচন।

দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা কেন্দ্র (কেসিডিসি) তথ্যমতে, সেখানে মোট ক’রো’না আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭৮০ জন। এদের মধ্যে মা’রা গেছেন ২৫০ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯ হাজার ১২৩ জন।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে ছুটিতে গিয়ে আ’ট’কে পড়েছে ৩ শতাধিক ইপিএস কর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

কোরিয়ার জনজীবন স্বাভাবিক হওয়ার কারণে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য কোরিয়াস্থ বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি প্রেরণ করেন।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আটকে পড়া সবাকে দেশটিতে ফেরত পাঠাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এদেশে প্রবেশ করার পর সবার জন্য ১৪দিনের হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সুত্রঃ যুগান্তর

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন