‘করোনায় বাসাভাড়া না নিলেও চলবে, আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন’

প্রকাশিত: মে ১, ২০২০ / ১১:১৬পূর্বাহ্ণ
‘করোনায় বাসাভাড়া না নিলেও চলবে, আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন’

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকার প্রথম পর্যায়ে ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটির ঘোষণা করে। এরপর কয়েক দফা ছুটি বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। ছুটির কারণে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বলতে গেলে সবাই অর্থনৈতিভাবে চাপে আছেন। যার প্রভাব পড়ছে সবকিছুর ওপর। অনেকেই অসহায় জীবনযাপন করছেন।

এ অবস্থায় ঢাকা শহরের ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করা সিংহভাগ মানুষই প্রতিমাসের বাসাভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আর এই পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়াদের কথা চিন্তা করে এগিয়ে এসেছেন রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকার এক বাসার মালিক শেখ শওকত আলী।

ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় ভাড়াটিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে যেই শহরে, সেই শহরের একজন বাসামালিক ঘোষণা দিয়েছেন যতদিন এই মহামারি করোনা পরিস্থিতি দেশে থাকবে ততদিন তিনি কোনো ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নেবেন না। পাশাপাশি তিনি রাজধানীর সব বাসমালিকের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন। যেন তারাও এ অবস্থায় ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া না নেন।

রাজধানী সায়েদাবাদ এলাকার ব্যবসায়ী এবং বাড়ির মালিক শেখ শওকত আলী জাগো নিউজকে বলেন, আমার দুটি বাড়িসহ কয়েকটি দোকান রয়েছে। যেগুলোতে প্রায় ৩৫ জন ভাড়াটিয়া রয়েছে। এ থেকে প্রতিমাসে অন্তত চার লাখ টাকা ভাড়া পাই। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ভাড়াটিয়াদের মধ্যে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মানবিক দৃষ্টিতেই গত দুই মাসের সব ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি যতদিন থাকবে ততদিন আমি ভাড়া নেব না। কারণ আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন। বছরের পর বছর এসব ভাড়াটিয়া আমাকে তো ভাড়া দিয়েই বসবাস করছে।

এই বিপদের সময় তারাও অনেক বিপদে আছে। এই কিছুদিন ভাড়া না নিলেও, আল্লাহর রহমতে আমার চলে যাবে। যে কারণে বিগত মার্চ ও এপ্রিল মাসের ভাড়া আমি নেইনি। এই পরিস্থিতি যতদিন চলবে, আমি ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে কোনো ভাড়া নেব না।

এছাড়া প্রত্যেক ভাড়াটিয়ার মাঝে চাল, ডাল, আলু, লবণ, চিনি ও সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বিতরণ করছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আশা করব এই পরিস্থিতিতে ঢাকার সব বাড়িমালিক অন্তত এ ধরনের উদ্যোগ নেবেন।

কারণ ঢাকায় যারা ভাড়াবাড়িতে থাকেন তাদের বেতন বা আয়ের অর্ধেকই বাড়িভাড়ায় চলে যায়। এটা মওকুফ করে দিলে মানুষকে আর কারও কাছে হাত পাততে হবে না। এই উদ্যোগ নিলে মধ্যবিত্তসহ সবার উপকার হবে। এতে রাষ্ট্রের ওপরেও চাপ কমবে।

পাশাপাশি তিনি সায়েদাবাদ এলাকার যেসব অসহায় ও দুস্থ পরিবহন শ্রমিক রয়েছেন, তাদের মধ্যেও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করছেন। তিনি বলেন, যেহেতু তারা খুবই কষ্টে আছেন। কারণ তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।

এ অবস্থায় মানবিক কারণে সমস্যায় থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে চাল, ডাল, আলু, তেল, লবণ, সাবান, ছোলা, খেজুর, সেমাইসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। আর ভাড়াটিয়াদের বলে দিয়েছি তাদের কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে যেন তারা আমাকে বা আমার কেয়ারটেকারকে জানান।

ওই এলাকার এক বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, যেখানে অন্যান্য বাড়িমালিক ভাড়ার জন্য ভাড়াটিয়াদের চাপ দিচ্ছে সেখানে শেখ শওকত আলী তার বাসার ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে কোনো ভাড়া নেয়নি দুই মাস। পাশাপাশি যতদিন করোনা পরিস্থিতি চলবে ততদিন তিনি ভাড়া নেবেন না। সেইসঙ্গে নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি।

এই সময়ে এমন উদ্যোগ আসলেই প্রশংসার দাবিদার। শেখ শওকত আলী যেমন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন অন্যান্য বাসামালিকও যদি এভাবে এগিয়ে আসতেন তাহলে সমাজটাই বদলে যেত।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন