মৎস্য শিল্পেও লেগেছে করোনার থাবা

প্রকাশিত: এপ্রি ২৭, ২০২০ / ০৯:৫৬অপরাহ্ণ
মৎস্য শিল্পেও লেগেছে করোনার থাবা

মহা’মা’রী করো’না’ভা’ই’রাসের থা’বায় অনেকটা বড়সড় ক্ষ’তির মুখে দেশের মৎস্য শিল্প। করোনার কারণে চাষিদের বিশাল ক্ষতির পাশাপাশি মৎস্য রপ্তানিতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ফিস ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় চিংড়ি। গত অর্থবছরে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪ হাজার ২৫৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা আয় করেছে।

দেশের মৎস্য শিল্প মানুষের পুষ্টি চাহিদার ৬৩ শতাংশ পূরণ করছে। বর্তমানে মাছ চাষ এবং এ ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী।

এদিকে বিক্রয়ের জন্য উপযুক্ত মাছগুলোও বিক্রি করতে পারছে না মৎস্য চাষিরা। মাছ বিক্রি করে সে টাকার কিছু অংশ দিয়ে মাছের খাবার কিনে আনতেন। সেটি আর সম্ভব হয়ে ওঠছে না। ফলে মৎস্য উৎপাদন হু’ম’কির মুখে পড়ছে, নিয়মিত মাছ না আসায় ঝিমিয়ে গেছে সারা দেশের আড়তগুলোও।

বাংলাদেশ ফিস ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হামিদুল হক বলেন, করোনার প্রভাবে অনেক ক্ষ’তিগ্রস্ত মৎস্য শিল্প। মৎস্য সেক্টরে ক’রো’না ভা’ই’রাসের সৃষ্ট দুর্যোগের বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

মৎস্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষ’তির পাশাপাশি মৎস্য রপ্তানিতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। পুকুরে বিক্রয়ের জন্য উপযুক্ত মাছ রয়েছে যা সাম্প্রতিক দু’র্যো’গের জন্য বাজারজাত করতে পারছেন না।

এগুলো বিক্রি না করে এই বৈশাখ নতুন পোনামাছ ছাড়তেও পারবে না চাষিরা। নি’র্বিঘ্নে এই কাজগুলো চালিয়ে যাওয়ার জন্য যদিও সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে তবুও সবার মধ্যে একটা ভীতি কাজ করছে।

যারা নিজে ফিড বানিয়ে খাওয়ান তারা ফিডের কাচামাল পরিবহন ও ফিড মিল বন্ধের জন্য প্রয়োজন ফিড মাছকে খাওয়াতে পারছেন না। মাছ প্রয়োজনীয় খাবার না পেলে বেড়ে উঠবে না। ফলে খামারীরা ব্যবসায়ীকভাবে ভীষণ ক্ষ’তিগ্রস্ত হবেন, পরবর্তীতে কর্মচারীদের বেতন,

ফিড দোকানের বকেয়া,খামারে লিজ বা ভাড়া দিতে না পারলে খামার বন্ধ করে দেয়া ছাড়া অনেকেরই আর কিছুই করার থাকবে না। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ খামারিদের খাদ্য বন্ধ করে দিতে হয়েছে এমন কি কেউ কেউ কিছুটা খাদ্য এখনো দিচ্ছেন কিন্তু কতক্ষণ দিতে পারবেন তা খামারি নিজেও জানেন না।

এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য সরকারের সহযোগিতা ভীষণ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের জন্য ৪ শতাংশ সুবিধায় ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগ্রহী প্রান্তিক চাষিরা যেন এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে তার জন্য উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ ফুলপুরের দৌলত হ্যাচারি অ্যান্ড ফিশারিজের মালিক রিফাত আহমেদ বলেন, একমাস আগে এক মণ পাপদা মাছের দাম ছিল ১৪ হাজার টাকা। এখন ৮ হাজার টাকাও নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

আবার পরিবহনের চলাচলে সমস্যা, উৎপাদনের সমস্যা দেখিয়ে মাছের খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে ৪০-৫০ লাখ পিস পাপদা মাছের পোনার অর্ডার ছিল, পুকুরের মাছ বিক্রি করতে না পেরে সবগুলো অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে চাষিরা।

এ করোনার কারণে আমি ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেছি। এভাবে যদি এক মাস চলতে থাকে তাহলে আমাদের ব্যবসায় ধস নেমে যাবে।

সুত্রঃ কালের কন্ঠ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন