ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে মৃ’তের সংখ্যা কমল

প্রকাশিত: এপ্রি ২০, ২০২০ / ১১:৫৮অপরাহ্ণ
ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে মৃ’তের সংখ্যা কমল

করো’না ভ’য়ানক তা’ণ্ডব চালিয়েছে ইউরোপের দেশগুলোতে। ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে করো’নার থাবায় হাজার হাজার মানুষ মা’রা গেছেন। তবে গত কয়েকদিন ধরে করোনায় আক্রান্ত ও মৃ’ত্যুর সংখ্যা কমছে। মনে করা হচ্ছে, ল’কডাউন মেনে চলায় নতুন করে আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা কমেছে।

গত সপ্তাহ থেকে ইতালিতে ক’রোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মৃ’ত্যু’র সংখ্যা কমা শুরু হয়েছে। ফ্রান্সেও গত সপ্তাহে সবচেয়ে কম মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। জার্মানিতে মূত্যুর হার ৬০ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাজ্যে গত রবিবার সবচেয়ে কম প্রাণহা’নি হয়েছে।

গত রবিবার ইতালিতে চারশ ৩৩ জন করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মারা’ গেছেন। গত সাতদিন ধরে সবচেয়ে কম প্রাণহা’নি হয়েছে এদিন। দেশটির সিভিল প্রটেকশন এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে। তবে ১৪ এপ্রিলে গত সাতদিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহা’নির ঘটনা ঘটে। ওই দিন ছয়শ দুই জন মানুষ মা’রা যান।

ফ্রান্সেও কমেছে মৃ’ত্যুর সংখ্যা। মার্চের ২৯ তারিখের পর সবচেয়ে কম প্রাণহা’নির ঘটনা ঘটেছে রবিবার। এদিন তিনশ ৯৫ জন মানুষ করোনায় প্রাণ হা’রান। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত রবিবার জার্মানিতেও সবচেয়ে কম প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দেশটিতে একশ চারজন ক’রোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে প্রাণ হারান। জার্মানির ফেডারেল রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) জানিয়েছে, জার্মানিতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ ক’রোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মা’রা গেছেন।

যুক্তরাজ্যে কমেছে করোনার প্রাণ’হা’নির সংখ্যা। দেশটিতে করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়ে গত শনিবার আটশ ৮৮ জনের মৃ’ত্যু হয়। কিন্তু রবিবারে এই সংখ্যাটি অনেকটাই কমে আসে।

রবিবার পাঁচশ ৯৬ জনের প্রাণহা’নির ঘটনা ঘটে। গত সপ্তাহে সাতশ ২০ থেকে আটশ ৫০-এর দিকে সংখ্যাটি ঘুরাফেরা করে। কিন্তু শনিবার থেকে কমতে শুরু করে।

এদিকে, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে করোনায় নতুন করে আ’ক্রান্তের হারটিও কমেছে। চলতি সপ্তাহ থেকে ক’রোনার আ’ক্রা’ন্তের হার নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে।

কড়া বিধি-নিষেধ আরোপ আর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্যই ক’রো’নায় আ’ক্রা’ন্তের হার নিচের দিকে নামছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

সং’ক্র’মণ ও মৃ’ত্যুর হার কিছুটা কমার পর ইউরোপের দেশগুলোতে বিধি-নিষেধ শিথিল করা শুরু হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ দেশেই ল’কডাউন চালু থাকবে।

গত সপ্তাহে ইতালি কিছু দোকান খুলে দেয়। দেশটিতে মার্চের ৯ তারিখ থেকে কড়া ল’কডাউন শুরু হয়। এখনো চলছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কন্টি জানিয়েছেন, ল’কডাউন তুলের নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো আসেনি।

এই সপ্তাহ থেকেই জার্মানিতে কিছু দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। মে মাসের ৪ তারিখ স্কুল-কলেজ খোলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল।

ফ্রান্সেও কমেছে করোনার সংক্রমণ। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড ফিলিপ জানিয়েছেন, খুব ধীর গতিতে করো’নার সং’ক্রমণ কমছে। তার দেশে মে মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত চলতে পারে ল’কডাউন।

যুক্তরাজ্যেও করো’নার সং’ক্র’মণ কমেছে। কিন্তু লকডাউন তুলতে রাজি নয় দেশটির সরকার। ব্রিটেনের সরকার এক ঘোষণায় জানিয়েছে, সং’ক্র’মণ ঠেকাতে আরো কয়েক সপ্তাহ লক’ডাউন চলবে। কারণ ক’রোনা ঠেকানোর আর কোনো উপায় নেই কারো হাতেই।

ক’রো’নাভাইরাস প্রথম ছড়িয়ে পড়ে চীনের উহানে। আর এখন ১৮৫টি দেশের ২৪ লাখ মানুষ ক’রো’নায় আ’ক্রা’ন্ত। আর এক লাখ ৬৫ হাজার দুইশ মানুষ করোনার মারণ থাবায় প্রাণ হারিয়েছেন। ক’রো’নার হাত থেকে সুস্থ হয়ে বেঁচে ফিরেছেন ছয় লাখ ২৮ হাজার আটশ মানুষ।

সূত্র: নিউজউইক।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন