সিঁড়ির হ্যান্ডেল ও লিফটের বাঁটন থেকেও করোনা ছড়াতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: এপ্রি ১৭, ২০২০ / ০৯:৩৪অপরাহ্ণ
সিঁড়ির হ্যান্ডেল ও লিফটের বাঁটন থেকেও করোনা ছড়াতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, প্রতিদিন সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে প্রায় ১ লাখ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিতরণ করা হচ্ছে। বর্তমানে পিপিই’র কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিপিইর কোনো সং’ক’ট নেই।

পিপিই তৈরি করতে সময় লেগেছে কারণ, এর কাঁচামাল দেশে ছিল না। রপ্তানি বন্ধ ছিল এবং প্রস্তুতকারকও তেমন ছিল না। আমরা আস্তে আস্তে সেই প্রস্তুতকারক সৃষ্টি করেছি। এখন আমরা প্রত্যেক দিন প্রায় এক লাখ পিপিই সারা বাংলাদেশে দিচ্ছি, এই সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি’।

আজ শুক্রবার করো’না’ভা’ইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা জানান। মন্ত্রী বলেন ‘করো’না’ভা’ইরাস নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে আরো বেশি সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। ল’কডাউন আরো কার্যকর করতে হবে।

বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে হাট-বাজার, দোকানে ঘোরাফেরার কারণে সং’ক্র’মণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন অবাধে চলাচল করছে। ত্রাণ বিতরণেও মানুষ আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছে। এসব কারণে ঝুঁ’কি’র আ’শ’ঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, আ’ক্রা’ন্তদের মধ্যে ৪৬ শতাংশই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। এরপর ২০ শতাংশ নারায়ণগঞ্জের। এ ছাড়া গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও মুন্সিগঞ্জেও ক’রো’না আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

সং’ক্র’মণের আরো কারণ ব্যাখ্যা করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘যারা বহুতল ভবনে থাকেন, লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, একে-অপরের সাথে দেখা না হলেও সং’ক্র’মণের হার বাড়ছে। আপনাদের ভবনের লিফটের ভেতরে ও বাইরে বিশেষ করে লিফটের বোতাম, সিঁড়ির হ্যান্ডেল; হ্যান্ডেল জী’বাণুমুক্ত করে রাখুন। এগুলো সং’ক্র’মণের উৎস।

তিনি বলেন, সমস্যা হলো রোগীরা টেস্ট করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না এবং গোপন করে যায়। ফলে চিকিৎসক আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে। এই আচরণ আ’শ’ঙ্কাজনক। আমি আহ্বান করব, বেশি করে টেস্ট করুন, নিজে সুস্থ থাকুন এবং ক’রো’না’ভা’ইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ দিন।

জাহিদ মালেক জানান, করোনার চিকিৎসার জন্য ৫০০ শয্যার মুগদা হাসপাতাল, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, নগর হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল, লাল কুটি হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রায় পস্তুত হয়ে আছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মহাখালির কাঁচাবাজারে ১৩০০ শয্যার কার্যক্রম চলছে। উত্তরার দিয়াবাড়িতে চারটি বহুতল ভবনের ১২০০ শয্যার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সারা দেশের হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সকল বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার আইসিইউসহ ক’রো’না রোগীদের জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে।

সেখানে এখন রোগীরা সেবা নিচ্ছে। জেলা শহরে ৫০ থেকে ১০০ শয্যার ক’রো’না রোগীদের জন্য হাসপাতাল ইতিমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি আইসিইউ সাপোর্টসহ করোনা হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো বেসরকারি হাসপাতালও হাতে আছে। তারাও এগিয়ে আসছেন সেবা দেয়ার জন্যে। ইতিমধ্যে ইউনিভার্সাল হাসপাতাল ১০০ শয্যার এবং আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজ ২০০ শয্যার হাসপাতালটি ক’রো’না রোগীদের জন্য প্রস্তুত করেছি।

সুত্রঃ কালের কন্ঠ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন