কঙ্গোর সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রাণ গেল করোনায়

প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২০ / ০১:১৬অপরাহ্ণ
কঙ্গোর সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রাণ গেল করোনায়

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর সাবেক রাষ্ট্রপতি জ্যাক জোয়াকিম ইয়োম্বি ওপাঙ্গো সোমবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফ্রান্সে মারা গেছেন। তার পরিবারের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

ওপাঙ্গোর ছেলে জিন-জ্যাক জানিয়েছেন, তারা বাবা ইয়োম্বি ওপাঙ্গো কভিড-১৯-এ প্যারিসের একটি হাসপাতালে মারা যান। ওপাঙ্গো ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগে অসুস্থ ছিলেন বলে জানান তার ছেলে।

ইয়োম্বি ওপাঙ্গো কঙ্গোর উত্তর কুভেটি অঞ্চলে ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। রাষ্ট্রপতি মেরিয়েন এনগৌবি নিহত হওয়ার পর তিনি কঙ্গোর রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করেন।

অস্থির, তেল সমৃদ্ধ প্রাক্তন ফরাসি উপনিবেশটি এনগাউবির ১৯৬৮-৭৭ শাসনকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে জোটভুক্ত হয়েছিল। ইয়োম্বি ওপাঙ্গো ১৯৭৭-৭৯ দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর দীর্ঘকালীন শাসক ডেনিস সাসৌ নাগুয়েসো তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন।

সাসৌ এনগুয়েসোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার অভিযোগে, ইয়োম্বি ওপাঙ্গো ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কারাগারে বন্দী ছিলেন। ১৯৯১ সালে জাতীয় কেন্দ্রীয় কনফারেন্সের কয়েক মাস আগে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যা মধ্য আফ্রিকার দেশটিতে বহু-দলীয় রাজনীতি প্রবর্তন করেছিল।

ওপাঙ্গো র‌্যালি ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে ১৯৯২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি হেরেছিলেন।

ইয়োম্বি ওপাঙ্গো পরবর্তীকালে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি পাস্কাল লিসৌবার সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ১৯৯৪ এবং ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৯৭ সালে কঙ্গোতে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে, ইয়োম্বি ওপাঙ্গো ফ্রান্সে নির্বাসনে যান। অবশেষে ২০০৭ সালে তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। তবে তার স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তিনি ফ্রান্স এবং কঙ্গোর মধ্যে সময় ভাগ করে থাকতেন।

এদিকে কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮১ জন এবং মারা গেছে ৮ জন।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৮১৫। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ হাজার ৭১৬ জন।

এই ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৭ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬১ হাজার ৫০ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৫৫ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৬৭ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ২৯ হাজার ৪৮৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইতালি। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ১১ হাজার ৫৯১ জন। ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি স্থান চীনকেও পেছনে ফেলেছে স্পেন। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ৭১৬ জন। চীনে ৩ হাজার ৩০৫ ফ্রান্সে ৩ হাজার ২৪ জন। ইরানে ২ হাজার ৭৫৭ জন। আর যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১৪৮ জন। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৪০৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন