৫১ মুসল্লি হত্যার দায় স্বীকার সেই শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদীর

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২০ / ০৩:৩৭অপরাহ্ণ
৫১ মুসল্লি হত্যার দায় স্বীকার সেই শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদীর

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫১ মুসল্লিকে হত্যাকারী অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী অপ্রত্যাশিতভাবেই বৃহস্পতিবার দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।-খবর এএফপির

তার এই অবাক করা সিদ্ধান্তে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডান ও সেখানকার মুসলমান সম্প্রদায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে অল্পতেই বিচার শেষ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া এই সময়টাতে নতুন নাৎসি অপপ্রচার নিয়েও আতঙ্কে ছিল নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

স্ব-স্বীকৃত সাদা শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন ট্যার‌্যান্ট এর আগে হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ৫১টি হত্যার অভিযোগ, ৪০টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিজের আগের সিদ্ধান্ত বদলাতে মানসিকভাবে স্থির হলে দ্রুতই আদালতের শুনানির আয়োজন করা হয়। তার সামনে যখন অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হচ্ছিল, তখন অকল্যান্ড কারাগার থেকে ভিডিওলিংকের মাধ্যমে ক্রাইস্টচার্চের উচ্চ আদালতকে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি দোষী।’

জবানবন্দি দেয়ার সময় ক্যামেরার দিকে একাগ্রচিত্তে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। নিজের এই মত বদলানোর ক্ষেত্রে সাবেক এই জিম প্রশিক্ষক কিংবা তার আইনজীবীর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এর মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রথমবারের মতো দোষী সাব্যস্ত হওয়া কোনো সন্ত্রাসী হলেন এই অস্ট্রেলীয়।

দক্ষিণ প্রশান্তমহাসাগরীয় দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই। কিন্তু বাদবাকি জীবন তাকে কারাগারেই কাটাতে হবে। সন্ত্রাসী ও হত্যার অভিযোগের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আইন রয়েছে।

শুনানিতে জনসাধারণের কাউকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া হয়নি। ট্যার‌্যান্ট ও তার আইনজীবী ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

হামলার ঘটনায় আহত ও হতাহতদের পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আক্রান্ত দুই মসজিদের একজন প্রতিনিধিকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া হয়।

শুনানিকালে বিচারপতি ক্যামেরন ম্যান্ডার বলেন, এটি দুঃখজনক, যখন আসামি দোষ স্বীকার করলো, তখন বর্তমানে আরোপ করা কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে আহত ও হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত থাকতে পারলোনা।

তিনি বলেন, আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এবং আহত ও হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকতে পারার মতো পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে সাজা দেয়ার কোনো উদ্দেশ্য নেই।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন