ফ্লু ও করোনা একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় বিভ্রান্তি

প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২০ / ১২:৩২পূর্বাহ্ণ
ফ্লু ও করোনা একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় বিভ্রান্তি

করোনাভাইরাসের সঙ্গে সিজনাল ফ্লু মিলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সামান্য সর্দি, জ্বর বা গলা ব্যথার উপসর্গ নিয়েও হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে ছুটছে মানুষ। কিন্তু সেখান থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে মানুষের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে চিকিৎসক ও নার্সরা নিজেদের নিরাপত্তাহীনতায় সঠিকভাবে সেবা দিতে পারছেন না বলে দাবি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মানুষকে চিকিৎসকদের ওপর ভরসা রাখতে বলছেন। চিকিৎসক-নার্সদেরও বলছেন নিজেদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোগীদের পাশে থাকতে।

প্রবীণ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মুখে দেশজুড়ে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। সামান্য অসুখেও উৎকণ্ঠিত মানুষ ছুটছে চিকিৎসক, হাসপাতাল বা পরীক্ষার খোঁজে।

কিন্তু এসব জায়গা থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে তারা খুবই অসহায় বোধ করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের জায়গা থেকে যেমন ধোঁয়াশাজনক পরিস্থিতি রয়েছে, তেমনি চিকিৎসক-নার্সদের অনেকে ভয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তবে তাঁদের মনে রাখতে হবে, ঝুঁকি নিয়ে হলেও রোগীদের পাশে থাকাই তাঁদের ব্রত। তাঁরা দূরে ঠেলে দিলে রোগীরা কোথায় যাবে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সাধারণ মানুষের বেশি আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটির প্রয়োজন নেই। কারণ এরই মধ্যে সবার জানা হয়ে যাওয়ার কথা, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও ৮০ শতাংশের বেশি রোগীরই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

কেবল যাদের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া বা আগে থেকে বিভিন্ন রোগের জটিলতা রয়েছে, তাদের হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। সেই সংখ্যাটা তুলনামূলক খুবই কম। এ ক্ষেত্রে কাদের পরীক্ষা লাগবে না লাগবে সেটা চিকিৎসকদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া ভালো।

চিকিৎসকরাই বুঝবেন কার সিজনাল ফ্লু আর কার মধ্যে কোনো ভাইরাসের লক্ষণ আছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সর্দি, কাশি ও জ্বরের রোগী দেখলেই ফিরিয়ে না দিয়ে বরং প্রকৃত উপসর্গ বোঝার চেষ্টা করুন।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও পরীক্ষার পরিসর আরো বাড়ানো দরকার। তাতে মানুষের উদ্বেগ কমবে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা উপকরণও যতটা সম্ভব নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলে আসছি যে ঢালাওভাবে সবার পরীক্ষা করার দরকার নেই। কারণ সিজনাল ফ্লু থেকেও সর্দি, জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথা হয়ে থাকে।

এর সঙ্গে যেহেতু করোনাভাইরাস যুক্ত হয়েছে, তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যাদের উপসর্গ কিছুটা বেশি বা জটিলতা দেখা দেয়, তাদের পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো দেশেই ঢালাওভাবে সবার পরীক্ষা করা হচ্ছে না।

এদিকে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইসমত আরা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের অনেকেই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে ভয় পাচ্ছেন। আমরা নার্সদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি।

এ ক্ষেত্রে তাঁদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা উপকরণের ব্যবস্থা করতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছি। কেবল যাঁরা আইসিইউ, আইসোলেশন ইউনিট ও অপারেশন থিয়েটারের মতো এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন তাঁদের জন্য পূর্ণাঙ্গ পিপিই; বাকিদের জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক বা হ্যান্ড গ্লাভস নিশ্চিত করলেই চলবে।’

বিএমএ-স্বাচিপ যৌথ সংবাদ সম্মেলন : বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন—বিএমএ এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ—স্বাচিপ যৌথভাবে গতকাল বিএমএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

এতে দেশের চিকিৎসকসমাজকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, সরকার এরই মধ্যে সব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা উপকরণের ব্যবস্থা করেছে।

ইতিমধ্যেই অনেক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। আরো প্রক্রিয়াধীন আছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকেও চিকিৎসকদের জন্য আরো নিরাপত্তা উপকরণ দেওয়া হচ্ছে।

রোগীদের ফিরিয়ে না দিয়ে নিজেদের ন্যূনতম নিরাপত্তা সহকারে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে নেতারা চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন