আমাদের যে ১০ অমূল্য শিক্ষা দিয়েছে করোনাভাইরাস!

প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২০ / ১২:২৫পূর্বাহ্ণ
আমাদের যে ১০ অমূল্য শিক্ষা দিয়েছে করোনাভাইরাস!

গোটা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে মহামারী করোনাভাইরাসের থাবায়। চীনের পর ইউরোপে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনা। করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের প্রাণহানির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে ইতালি।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৪ হাজার ৩২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ হাজার ২১ জন। এদিকে জার্মানিতে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার।

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বিশ্ব পরিস্থিতি থেকে অমূল্য দশটি শিক্ষা নিতে পারি আমরা। সেগুলো হচ্ছে –

১) জাতি, বর্ণ, ধর্ম, গোত্র, ভূখন্ড, সীমারেখা, পতাকা, মানচিত্র, মন্দির, মসজিদ, গীর্জা, প্যাগোডা এসবের কোনটিই একে অপরের শত্রু নয়। মানুষের কমন শত্রু হচ্ছে- অসুখ, ব্যধি। সে জাত-পাত, সাদা-কালো এসবের কিছুই চেনে না।

২) প্রকৃতির মানুষের দরকার নেই। কিন্তু প্রকৃতিকে মানুষের দরকার। শুধু প্রকৃতি হলে হবে না। এটাকে হতে হবে বিশুদ্ধ প্রকৃতি।

৩) প্রতি বছর শুধু চীনে প্রায় ১ লাখ মানুষ বায়ূদূষণে মারা যায়। হাজারো শিশুকে জন্মের পরপরই বিশুদ্ধ অক্সিজেন দিতে হয়। গত কয়েক সপ্তাহে নবজাত শিশুর জন্য বাড়তি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়নি।

কারণ- কলকারখানা, মিল, ফ্যাক্টরি, গাড়ি ইত্যাদি নানা রকমের ফুয়েল চালিত জিনিস বন্ধ থাকায় বাতাসে কার্বন ইমিশন কমে এসেছে। পেট্রোল পোড়া গন্ধ নেই, ধোঁয়ার বিষাক্ত কার্বন নেই। বাতাসে নেমে এসেছে বিশুদ্ধ সজীবতা। প্রকৃতি মানুষের বন্ধু হয়ে মানুষের বাঁচার পথ প্রকৃতি নিজেই দেখিয়ে দিয়েছে।

৪) বিশ্রামের প্রয়োজন। কাজ মানুষকে মেরে ফেলে না যেমন সত্যি। আবার শুধু বিরামহীন কাজ করে গেলে, জীবন থেকে বিশ্রাম না নিলে- জীবনই মানুষকে চিরদিনের জন্য বিশ্রাম পাঠিয়ে দেয়।

ইতালির কয়েকটি শহর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকদিন পর একই খাবার টেবিলে দেখা মিলেছে পিতা-পুত্রের, মাতা-কন্যার। এমন স্বর্গীয় পরিবেশ গৃহে অনেকদিন আসেনি।

৫) অনেকদিন আগে আমি একটা বড় গল্প পড়েছিলাম। গল্পটির মুল কথা হলো-

একজন ব্যক্তির খুব সুন্দর সবুজ লন ছিল। কিছুদিন পর দেখা গেলো- সেই সবুজ লনে অনেকগুলো আগাছার জন্ম হয়েছে। উনি নানা রকমের ওষুধ দিলেন আগাছা বন্ধ করার জন্য। কিন্তু কাজ হলোনা। তারপর একজন বিজ্ঞ লোক পরামর্শ দিলেন- আপনার আশেপাশের বাড়ীগুলোতে গিয়েও আপনি ওষুধ দিয়ে আসুন।

কারণ ঐ সব লনে যদি আগাছা হয়, সেই আগাছার রেণু বাতাসে ভেসে আপনার লনে আসবেই। সুতরাং ওদের লনগুলো আগাছা মুক্ত না করলে আপনার লনও আগাছা মুক্ত হবে না। সুন্দর সবুজ সতেজ হবে না। এই ভাইরাস শিখিয়ে দিয়েছে শুধু নিজে বেঁচে থাকলেই, সুস্থ থাকলেই হবে না। অন্যকে নিয়েই বাঁচতে হবে। সবাইকে নিয়েই সুস্থ থাকতে হবে।

৬) মানুষ মাত্রই দারুণভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। এটা হতে হবে- বাহ্যিক এবং আত্মিক পরিষ্কার থাকা। ইসলামেও বলা হয়েছে- পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ঈমানের অঙ্গ। শুধু এই বাক্যটি মেনে চললে দেখবেন, আপনার নিজের শরীরে, পরিবেশের, সমাজের অনেক সমস্যার সমাধান অটোমেটিকলি হয়ে গেছে।

যার যার ক্ষেত্রে সবাই পরিষ্কার থাকলে আপনার নর্দমায় আবর্জনা হবে না, মশা, মাছি হবে না। ঘর-দরজা-চারপাশ পরিষ্কার থাকলে আপনার মন-শরীর দুটোই প্রানবন্ত থাকে। আর আত্মিক পরিষ্কার থাকলে- আপনি ঘুষ খাবেন না, দুর্নীতি করবেন না, মানুষকে ঠকাবেন না, কাউকে হিংসা, ঘৃণা করবেন না। এক লাইনেই কত বড় শক্তি আর কত সুন্দর ব্যবস্থা রাব্বুল আলামীন আমাদের দিয়েছেন- তা একবারও কি উপলব্ধি করেছেন?

৭) ভাইরাস দেখিয়ে দিয়েছে- যেটা তোমার দরকার নেই সেটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে যেওনা । তোমার ঘোড়া দরকার। কিন্তু ঘোড়ার লালা তোমার দরকার নেই। বাদুড় তোমার গৃহে আসে না। তুমিও বাদুড়ের গৃহে যেওনা। প্রকৃতির ব্যলেন্সকে তুমি নষ্ট করে দিওনা।

কুকুর, বিড়াল গৃহপালিত পশু এদেরকে প্রাণভরে ভালোবাসো। এদের দুঃখে কাতর হয়ো। আদর করো। যত্ন করো। সব ঠিক আছে। কিন্তু কুকুর-বিড়ালকে একেবারে চুমু খেতে যেয়োনা।

তুমি নিজের বুড়ো বাপ-দাদাকে কবে শেষবার চুমু খেয়েছিলে- তোমার মনে আছে? কিন্তু কুকুর-বিড়ালকে চুমু না খেলে তোমার ঘুম আসে না। কুকুর-বিড়ালের লালায় প্রায় চারশত থেকে পাঁচশত রকমের ব্যাকটেরিয়াল স্পেসিস থাকে।

ওপেনকলেজ.ইনফোতে বলা আছে জার্ম ট্রান্সমিশন মানুষ থেকে কখনো পশুতে যায়না। কিন্তু পশু থেকে মানুষে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯%।

৮) যান্ত্রিক জীবনে বিরামহীন কাজের চাপে বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে নিজের আপনজনকে দেখার সুযোগ যাদের হয়নি- তাদের বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে আপনজনের পাশে বসে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে করোনা। চায়নার অসংখ্য বৃদ্ধাশ্রমে গত কয়েক সপ্তাহে স্বজনের আনাগোনা বেড়ে গেছে।

৯) উন্মত্তের মতো শুধু সম্পদের পেছনে ছুটে চলো না, মানুষ। একটু দাঁড়াও। মিলিয়ন ডলারের সিইও’র আয় মুহুর্তেই শত ডলারে নেমে আসতে পারে- এক অদেখা শত্রুর মাধ্যমে।

১০) নিজেকে নিয়ে সবসময় অহংকার, দম্ভ করোনা। সুপার পাওয়ার মুহর্তেই সুপার জিরো হয়ে যেতে পারে- এই কথাটি মানুষ ভুলে যেওনা।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন