ডিসি সুলতানার দেয়া ৭৩ জনের নিয়োগ বা’তিলের দাবি

প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২০ / ০২:০০পূর্বাহ্ণ
ডিসি সুলতানার দেয়া ৭৩ জনের নিয়োগ বা’তিলের দাবি

কুড়িগ্রামে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীনের কর্মকালীন ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে দুই দফায় নিয়োগ পাওয়া ৭৩ জনের নিয়োগ বা’তি’লের দাবিতে মানবব’ন্ধন করেছেন জেলার ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনাকারীরা।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিচালক ফোরামের আয়োজনে প্রেস ক্লাবের সামনে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে মা’ন’ব’বন্ধ’ন করেন তারা।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়কারী মাহতাব আলী, জেলা ফোরামের সভাপতি সাইদুর রহমান, সেক্রেটারি নবীউল ইসলাম ও সদস্য হাছিনা খাতুন প্রমূখ।

মান’ব’ব’ন্ধনে বক্তারা অ’ভি’যোগ করে বলেন, বিগত ২০১০ সালের নভেম্বর মাস থেকে বিনা বেতনে সামান্য পারিশ্রমিক নিয়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনা করে আসছেন তারা।

এমতাবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিগত ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে পরিপত্র জা’রি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তারা আশা করেছিলেন নিয়োগে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কিন্তু সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন গত বছরের অক্টোবর মাসের দিকে ২৩ জন ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেন।

এই নিয়োগের বি’রু’দ্ধে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের সেকেন্দারপাড়া গ্রামের রহিমুল্ল্যা মিয়ার ছেলে আব্দুল আউয়াল মিয়াসহ ২৬ জন ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনাকারী উচ্চ আদালতে রিট করলে কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে না ম’র্মে রুল জারি করে ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে এই আদেশের কপি পাওয়া যায়।

তারা অ’ভি’যো’গ করে আরও বলেন, জেলা প্রশাসক চলতি মার্চ মাসে আরও ৫০ জন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগে ৮৫৭ জন আবেদন করেন।

গত ৬ মার্চ এদের লিখিত পরীক্ষা নেয়ার পর ১৫০ জনের মতো পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে পরদিন ৭ মার্চ তাদের কম্পিউটার চালানোর পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

এরপর পরদিন ৮ মার্চ এদের মধ্য থেকে ৯৮ জনের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ওই দিন ৫০ জনকে নিয়োগপত্র দিয়ে ১৬ মার্চের মধ্যে যোগদানের জন্য বলা হয়। অর্থ্যাৎ মাত্র ৩ দিনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এভাবে দুই দফায় ৭৩ জনকে দেওয়া নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান তারা।

এদিকে ব্যাক ডেটে দায়িত্ব দিয়ে বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন। তিনি ১৬ মার্চ তারিখ দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাফিজুর রহমানের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন বলে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে কৃষ্ণপুর চরুয়াপাড়া এলাকার বাড়িতে গিয়ে আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে জো’র’পূ’র্বক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর তাকে মাদক মা’ম’লায় ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জ’রি’মানার দ’ণ্ড দিয়ে মধ্য রাতে কা’রা’গারে পাঠান ভ্রাম্যমান আদালত।

এ ঘটনায় জ’ড়ি’ত থাকার অ’ভি’যো’গে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীনকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন