হোম কোয়ারেন্টিনে যা করবেন

প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২০ / ০৩:৫০অপরাহ্ণ
হোম কোয়ারেন্টিনে যা করবেন

সারা বিশ্ব আতঙ্কিত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে। ভাইরাসটি সারা বিশ্বে এত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে যে এটিকে বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভাইরাস মোকাবিলার সর্বোত্তম পন্থা ‘সচেতনতা’। তাই পৃথিবী জুড়েই লাখ লাখ মানুষকে থাকতে বলা হচ্ছে হোম বা বাড়ির কোয়ারেন্টিনে। বাংলাদেশেও আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তি আছেন হোম কোয়ারেন্টিনে। এরা সবাই প্রাবাসী।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ জোর দিচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের দিকে। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না অনেকখানিই। কোয়ারেন্টিনে থাকা উচিত এমন অনেকেই থাকতে চান না সরকারি ব্যবস্থাপনায় বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। সেজন্য বেশিরভাগ প্রবাসীই এখন আছেন হোম কোয়ারেন্টিনে। কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তি আছেন রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্প, উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, গাজীপুরের পুবাইলের মেঘডুবি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে। যদিও আমাদের সমাজ বাস্তবতায় হোম কোয়ারেন্টিনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

বিদেশ থেকে আসা কোনো প্রবাসী দেশে ফিরলে তার মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে তার পরিবারসহ স্বজনদের মধ্যে। এরই মধ্যে এক বিদেশ ফেরত প্রবাসীর মাধ্যমে এক নারী ও দুই শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের ঢাকার একটি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের বাড়ির বাইরে বের না হতে সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে। এই যখন অবস্থা তখন হোম কোয়ারেন্টিনে আপনি কীভাবে থাকবেন বা কী কী করবেন, তা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো :

যা যা করবেন হোম কোয়ারেন্টিনে

কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় বাড়ির অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতে হবে। তা সম্ভব না হলে অন্তত তিন ফুট বা এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আলো বাতাস ঢুকতে পারে এমন ঘরে থাকতে হবে। ঘুমানোর জন্য আলাদা বিছানা ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে আলাদা আলাদা গোসলখানা ও শৌচাগার ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব না হলে গোসলখানা ও শৌচাগারে জানালা খুলে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয় এমন স্থান বা জিনিসের সংখ্যা কমিয়ে ফেলতে হবে। বাড়ির সদস্যদের খুব নিকটে অর্থাৎ এক মিটারের ভেতরে যেতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

বুকের দুধ খাওয়ান এমন মা তার শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারবেন। তবে শিশুর কাছে যাওয়ার আগে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে ও ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। শিশুর জন্য পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী দিতে হবে। খেলার আগে ও পরে খেলনা সামগ্রীগুলো জীবাণুমুক্ত করতে হবে। কোয়ারেন্টিনে থাকা শিশুকে বোঝাতে হবে কেন তাকে এখানে রাখা হচ্ছে। কোয়ারেন্টিনে কোনো পশু-পাখি রাখা যাবে না। প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক পরে থাকার সময় এটি হাত দিয়ে ধরা যাবে না। মাস্ক ব্যবহারের সময় সর্দি, থুতু, কাশি, বমি ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক খুলে নতুন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহৃত মাস্ক ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলে সাবান–পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীরা কোয়ারেন্টিনে থাকার সময়ে সেসব বিষয়ে মাথায় রাখবেন

কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির ব্যবহৃত বা তার পরিচর্যায় ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস, টিস্যু ইত্যাদি অথবা অন্য আবর্জনা ওই ঘরে রাখা ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলতে হবে। এসব আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে না ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। একজনের ব্যক্তিগত সামগ্রী আরেকজন ব্যবহার করবেন না। কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির থালা, গ্লাস, কাপসহ বাসনপত্র, তোয়ালে, বিছানার চাদর অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না। এসব জিনিসপত্র ব্যবহারের পর সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। দৈনন্দিন রুটিন, যেমন খাওয়া, হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি মেনে চলতে হবে। সম্ভব হলে বাসা থেকে অফিসের কাজ করতে হবে। বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা ওপরের নিয়মগুলোর পরিপন্থী নয়, এমন যেকোনো বিনোদনমূলক কাজে যুক্ত হওয়া যাবে।

পরিবারের কোনো সুস্থ সদস্য অর্থাৎ যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার, অ্যাজমা ইত্যাদি নেই, এমন একজন ব্যক্তি পরিচর্যাকারী হিসেবে নিয়োজিত হতে পারেন। তিনি ওই ঘরে বা পাশের ঘরে থাকবেন। অবস্থান বদল করবেন না। কোয়ারেন্টিনে আছেন, এমন ব্যক্তির সঙ্গে কোনো অতিথিকে দেখা করতে দেওয়া যাবে না।

পরিচর্যাকারী যা যা করবেন

পরিচর্যাকারী খালি হাতে ওই ঘরের কোনো কিছু স্পর্শ করবেন না। কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তার ঘরে ঢুকলে, খাবার তৈরির আগে ও পরে, খাবার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পরে, গ্লাভস পরার আগে ও খোলার পরে বা যখনই হাত দেখে নোংরা মনে হবে, তখনই দুই হাত পরিষ্কার করতে হবে।

ঘরের মেঝে, আসবাব, শৌচাগার ও বাথরুম প্রতিদিন অন্তত একবার পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কারের জন্য এক লিটার পানির মধ্যে ২০ গ্রাম বা দুই টেবিল চামচ ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে তা দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। ওই দ্রবণ সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে নিজের কাপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালে ইত্যাদি গুঁড়া সাবান বা কাপড় কাঁচার সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে বলতে হবে। কাপড় ভালোভাবে শুকাতে হবে। নোংরা কাপড় একটি লন্ড্রি ব্যাগে আলাদা রাখতে হবে। মলমূত্র বা নোংরা লাগা কাপড় ঝাঁকানো যাবে না এবং নিজের শরীর বা কাপড়ে যেন না লাগে, তা খেয়াল করতে হবে।

কোয়ারেন্টিনে থেকে আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ

কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় কোনো উপসর্গ যেমন ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর, কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি দেখা দিলে অতি দ্রুত আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় জেনে নিতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোয়ারেন্টিন শেষ হবে। চিকিৎসকের সিদ্ধান্তমতে একজন থেকে অন্যজনের কোয়ারেন্টিনের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ সময়সীমা ১৪ দিন।

আইইডিসিআরের হটলাইনের নম্বর

০১৫৫০০৬৪৯০১, ০১৫৫০০৬৪৯০২, ০১৫৫০০৬৪৯০৩, ০১৫৫০০৬৪৯০৪, ০১৫৫০০৬৪৯০৫, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন