ক’রোনাভা’ইরাস যেভাবে ইরান থেকে যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়েছে

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২০ / ১০:২২অপরাহ্ণ
ক’রোনাভা’ইরাস যেভাবে ইরান থেকে যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়েছে

ইরানের কোম শহর হচ্ছে চীনের পর করো’না’ভা’ই’রাসের দ্বিতীয় কেন্দ্রশহর। এই ম’হা’মা’রী ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে অবস্থানকারী শত শত মানুষ আ’ত’ঙ্কি’ত হয়ে ইরান ছেড়ে চলে যায়।

ইরান ছেড়ে আসা ওই নাগরিকরা ইরাক, লেবানন ও উপসাগরীয় অঞ্চলে তারা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে এই ম’হা’মা’রি সেসব অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরান সরকার প্রথমে কোনো ধরনের প্রস্তুতি না নিয়ে বরং গোপন করার চেষ্টা করেছিল। তবে কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর যখন সং’ক্র’মণ ও মৃ’ত্যু’র সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল তখন আর বিষয়টি চা’পা দিতে পারেনি।

অপ্রস্তুত অবস্থায় যেসব মানুষ আ’ক্রা’ন্ত হয়ে উপসাগরীয় অন্যান্য অঞ্চলে সফর করেছে বা আ’ত’ঙ্ক’গ্রস্ত হয়ে সরে পড়তে চেয়েছে মূলত তাদের মাধ্যমেই উপসাগরীয় দেশগুলো আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে।

ইরান সর্বপ্রথম ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম শহরে দুজন ব্যক্তি আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা সেদিনই মারা গিয়েছে।

২১ শে ফেব্রুয়ারি তেহরান সরকারের নীরবতার মধ্যে কর্তৃপক্ষ করোনার সং’ক্র’ম’ণ এবং আ’ক্রা’ন্ত হওয়ার ফলে আরও দু’জনের মৃ’ত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়।

এরপর খুব শীঘ্রই ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে আ’ত’ঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননে সর্বপ্রথম ক’রো’না’ভা’ই’রাস ছড়ায় একজন নারীর মাধ্যমে, ‍যিনি ইরানের কোম শহর থেকে গিয়েছিলেন।

ইরানে ক্রম’ব’র্ধমান আ’ক্রা’ন্ত ও নি’হ’তের সংখ্যা প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য উ’দ্বে’গের কারণ হয়ে পড়ে। যার ফলে ইরাক তার দেশের নাগরিক ছাড়া ইরান থেকে আগত কেউ যাতে ইরাকে ঢুকতে না পারে সেজন্য ক’ঠো’র পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

কুয়েত সরকারও একই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কুয়েত ইরানের সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা আসা পর্যন্ত সাময়িকভাবে বিমান যোগাযোগ স্থগিত করে। সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমেও যাতায়াত ব’ন্ধ করে দেয়।

কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাগরিকদের ইরানের কোম শহরে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেন। এবং যারা ওই শহর থেকে আগমন করবে তাদের জন্য বাধ্যতামূলক কো’য়া’রেনটেইনে থাকতে হবে, অন্যথায় তাদের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান। তবে এসব পদক্ষেপ কোনোই কাজে আসেনি।

উপসাগরীয় দেশগুলো একে একে আ’ক্রা’ন্ত হয় এবং বলা যায়, সবগুলো রাষ্ট্র ইরানের মাধ্যমেই আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে। বরং ২৪ ফেব্রুয়ারি ইরাক, কুয়েত ও বাইরাইন একই সঙ্গে ভা’ই’রা’সে আ’ক্রা’ন্ত হওয়ার কথা জানায়।

সবগুলো দেশে ইরান থেকে আগমনকারীদের মাধ্যমেই এই ভা’ইরা’স ছড়িয়েছে বলে দেশগুলো অ’ভি’যোগ করেছে সৌদি মিডিয়া। কীভাবে ইরান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক’রো’না’ভা’ই’রাস ছড়িয়েছে তার একটা চিত্রও দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল হুররা।

ওই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে ইরান থেকে বিভিন্ন দেশে কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ক’রো’না’ভা’ই’রাস ছড়ায় তার একটা চিত্র তুলে ধরা হয়। নিম্নে তা হুবহু প্রকাশ করা হলো- ইরাক: বাগদাদের দক্ষিণে নাজাফ শহরে এক ইরানি নারীর আগমনের মাধ্যমে এই ভা’ই’রা’সটি দেশে সর্বপ্রথম আবিস্কৃত হয়। অবশ্য সেই নারী নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগেই ইরাক প্রবেশ করেছিলেন।

কুয়েত: কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ইরানের মাশহাদ শহর থেকে আসা এমন তিনজন ব্যক্তির মাধ্যমেই মূলত ভা’ই’রা’সটি প্রবেশ করে। তাদের একজন ৫৩ বছর বয়সী কুয়েতি নাগরিক। অপরজন ৬১ বছর বয়সী সৌদি নাগরিক ও তৃতীয় জন ২১ বছর বয়সী। তার নাগরিকত্ব জানা যায়নি।

এরা তিনজনই ইরান থেকে আসার সময় এই ভা’ই’রা’সটি বহন করে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট সেই কথাই বলে।

বাহরাইন: বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ইরান থেকে আগত বাহরাইনের নাগরিকের জন্য ভা’ই’রা’সটির আগমন ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে।

তাছাড়া হাজার হাজার শিয়া মতাবলম্বী ইরাক, কুয়েত এবং বাহরাইনের পবিত্র স্থানগুলো জিয়ারতে উদ্দেশ্যে বিশেষত কোম ও মাশহাদ শহরে ভ্রমণ করে থাকেন।

অন্যদিকে ইরানের অন্যান্য শহর থেকেও লোকজন এই শহরে আসেন। ইরানের সবচেয়ে পবিত্র নগরী হিসেবে খ্যাত হচ্ছে কোম।

ইমাম আলী ইবনে মূসা আর-রেযার (আ.) বোন হযরত ফাতেমা মাসুমার মাজার এ শহরে হওয়ার কারণেই এ সম্মান প্রদর্শন করা হয়। অমুসলিমরাও এ মাজারে প্রবেশ করতে পারে।

ইরানি রাজনীতিবিদদের ধারণা, ক’রো’না’র’ভা’ই’রাসের বিষয়ে সরকারের স্বচ্ছতার অভাব কেবল নাগরিকদেরই ক্ষ’তি’গ্র’স্থ করেনি; বরং প্রতিবেশী দেশ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকে মা’রা’ত্মক চ’পে’টা’ঘা’ত করেছে।

সরকারের আ’চ’রণ, আ’ক্রা’ন্ত ও নিহত হওয়া সম্পর্কিত প্রকৃত তথ্য এবং পরিসংখ্যানগুলোর উপর তাদের হ’তা’শা, জন’রো’ষ ও অবিশ্বাসের যে পরিস্থিতি ইরানি রাজনীতিতে রয়েছে, তাতে ম’হা’মা’রীটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও অ’তি’রিক্ত মাত্রা যোগ করেছে।

সংবাদ সংস্থা ইসনা’র খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কোম শহরের একজন ইরানি উপমন্ত্রী দেশে ভাইরাসের সং’ক্র’ম’ণের পরিমাণ সম্পর্কে সরকার ‘সত্য কথা বলছেন না’ বলে অ’ভি’যোগ করেছে।

সরকার যে সংখ্যা গো’প’ন করছে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ইরাজ হারারচির ঘটনা। যিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের কাছে ভা’ই’রা’সের কথা অস্বীকার করেছিলেন অথচ সেই মুহূর্তে তিনি নিজে ভা’ই’রা’সের কারণে কপাল মুছছিলেন।

এই ঘটনা প্রমাণ বহন করে যে, ভা’ই’রা’সটি ছড়িযে পড়ার পেছনে দেশটির তথ্য গোপনও দায়ী। পরের দিন প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হারারচি স্বীকার করেছেন যে তিনি ক’রো’না’ভা’ই’রাসে আ’ক্রা’ন্ত ছিলেন, কিন্তু বলেছিলেন যে তিনি এবং তার দেশ ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অবশ্যই এই ভা’ই’রা’সের বি’রু’দ্ধে জিততে পারবেন।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন