হুজুর সেজে হ’ত্যার মূল প’রিকল্পনাকারীকে ধ’রলেন ওসি

প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২০ / ১২:৩০অপরাহ্ণ
হুজুর সেজে হ’ত্যার মূল প’রিকল্পনাকারীকে ধ’রলেন ওসি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ঘটনা পান ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে হ’ত্যা। হেলালের হ’ত্যার মূল পরিকল্পনাকারী উত্তমকে আ’টক করতে হুজুর সেজেছিলেন থানার ওসি মোখলেছুর রহমান।

পুলিশ জানায়, মাত্র ২০ হাজার টাকার জন্য গত ১৮ জানুয়ারি ২০২০ সালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজে’লার রাজিবপুর ইউনিয়নের বল্বব গ্রামের বাসিন্দা পান ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে (৩৫) শ্বা’সরো’ধ করে হ’ত্যা করা হয়। এদিকে নি’হত হেলালের স্ত্রী মাজেদা খাতুন তার স্বামী নি’খোঁজ মর্মে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জি’ডি) করেন। জি’ডির সূত্র ধরেই হেলাল হ’ত্যাকান্ডে জ’ড়িত ৯ জনকে আ’টক করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, জি’ডির সূত্র ধরে আক্কাস ওরফে আকাশ নামের একজনকে আ’টক করা হয়। আ’টক আকাশকে জি’জ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ১৮ জানুয়ারি হেলাল উদ্দিন পান বিক্রি করে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

বাড়ির কাছাকাছি যাওয়ার পর রাত দেড়টার দিকে হেলালের মুখ চা’পা দিয়ে অ’পহরণ করে নিয়ে যায় হ’ত্যাকারীরা। এরপর পরিকল্পিতভাবে হেলালকে হ’ত্যার পর লা’শ একটি টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভেতর ফে’লে দেয়।

এরপর টয়লেটের ট্যাংক মাটিচা’পা দিয়ে লা’শ ঢেকে রাখে। গত ১৮ জানুয়ারি টয়লেটের ভেতর মাটিচা’পা অবস্থায় লা’শ উ’দ্ধার করা হয়। এরপর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৌশলে খু’নের র’হস্য উন্মোচন করা হয়।

ওসি জানান, আকাশকে আ’টকের পর তাকে কৌশলে জি’জ্ঞাসাবাদ করলে সে ফারুক নামে জ’ড়িত আরেক জনের নাম বলে দেয়। ফারুক জানায়, রিপন নামের আরেকজন জ’ড়িত। রিপনকে আ’টক করে জ্ঞিাসাবাদ করা হলে সে জানায়, হ’ত্যার মূল পরিকল্পনাকারী উত্তম নামের একজন। সে সিলেটে অবস্থান করছে।

ওসি মোখলেছুর রহমান বেশভূসায় হুজুর সেজে টিম নিয়ে সিলেটে অ’ভিযান পরিচালনা করেন। ওসির সফল অ’ভিযানে গ্রে’ফতার হয় উত্তম। গ্রে’ফতার উত্তম পুলিশের কাছে স্বীকার করে জানিয়েছে, এ হ’ত্যাকান্ডে ফারুক, রুবেল, কাঞ্চন, আমিন, এনামুল, আকাশ, শামছুল, সোহেলসহ আরো অনেকেই জ’ড়িত।

উত্তম জানিয়েছে, হ’ত্যার আগে সে হেলালকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছিল। বাকীরা এসময় হেলালের মুখ গামছা দিয়ে বেঁ’ধে রাখে। এরপর ধান ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধা’রালো অ’স্ত্রের আ’ঘাতে এবং শ্বা’সরো’ধে হেলালকে হ’ত্যা করা হয়। মৃ’ত্যু নিশ্চিতের পর লা’শ একটি টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভেতর ফে’লে দেয়। এরপর টয়লেটের ট্যাকের ভেতর মাটিচা’পা দিয়ে লা’শ ঢেকে রাখে।

মৃ’ত্যুর আগে হেলাল তাদেরকে বলেছিল যে, আমি তোমাদের চিনেছি, তোমরা কারা? হ’ত্যার ২১ দিন পার হলেও হাল ছাড়তে নারাজ ছিলেন, সাহসী ও দক্ষ অফিসার ই’নচার্জ (ওসি) মোখলেছুর রহমান। লেবাস বদল করে ফোর্স নিয়ে সক্ষম হন খু’নিকে গ্রে’ফতার করতে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন