আশুলিয়ার আরেক ‘পাপিয়া’ হলেন মনিকা!

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২০ / ০৩:২০অপরাহ্ণ
আশুলিয়ার আরেক ‘পাপিয়া’ হলেন মনিকা!

সাভারের আশুলিয়ায় অ’প’রাধ রাজত্ব গড়ে তুলেছেন বহিষ্কৃত এক যুব মহিলা লীগ নেত্রী। তার অ’পকর্মের শিকার হয়ে অনেকেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছেন।

মা’দক ও নারী ব্যবসা, চাঁদাবাজি, দখল ছাড়াও মিথ্যা নারী নি’র্যাতন মা’মলায় অনেককেই ফাঁ’সিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অ’ভিযোগ উঠেছে তার বি’রুদ্ধে। মা’দক ও দেহ ব্যবসার অ’ভিযোগে বহিষ্কৃত হলেও মনিকা নিজেকে পরিচয় দেন কেন্দ্রীয় মহিলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বলে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে মনিকার কোনো সদস্য পদ নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

কিন্তু স্থানীয় নেতা ও যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রীসহ হাই প্রোফাইল ব্যক্তির সাথে সখ্যতার কারণে প্রভাব বিস্তার করেছেন নিজ এলাকায়। বেপরোয়া মনিকা যেনো হয়ে উঠেছেন আশুলিয়ার ‘পাপিয়া’।

মা’দকদ্রব্য অধিদপ্তরের অ’ভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়া থা*না যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী মনিকা হাসান ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্য মা’দক এবং দেহ ব্যবসার সাথে জ’ড়িত। এমনকি মনিকা তার নিজ বাড়িতেই এসব অ’নৈতিক কাজ পরিচালনা করেন। মা’দক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অ’ভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘মনিকা হাসান ইয়াবা ডিলার, তার দুলাভাই আফজাল হোসেন এবং মামাতো ভাই জাহিদ ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসায়ী।

এছাড়া মনিকার বড় খালা আয়শা বেগম, খালু রনি ও খালাতো বোন নার্গিস ইয়াবা ব্যবসায়ী। শুধু মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরই নয়; মনিকার মামা কাজল মিয়া, মামী নাজমুন নাহার, খালু শহীদ ভুঁইয়া, বোনজামাই জসিম উদ্দিন ও খালাতো ভাই রাজু মিয়ার নামেও আশুলিয়া থা*নায় রয়েছে আরো চারটি মা’দক মা’মলা।

অ’ভিযোগ রয়েছে, মনিকা হাসান মা’দকদ্রব্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মা’দক ব্যবসায়ী চিহ্নিত হওয়ার পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার এলাকার ধামসোনা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মঈনুল ইস’লামের নিকট মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র চান। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় ওই ইউপি সদস্যের বি’রুদ্ধে নানা অ’পপ্রচার চালাতে থাকে মনিকা। পরে বিপাকে পড়ে ওই ইউপি মেম্বার থা*নায় একটি লিখিত অ’ভিযোগ করেন।

এছাড়া আশুলিয়া থা*না যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমুন নাহার কাজল ও সাধারণ সম্পাদক সাবিনা আক্তার লাভলী অ’পপ্রচার, হয়’রানি ও হুমকি প্রদানের অ’ভিযোগ এনে মনিকার বি’রুদ্ধে থা*নায় ডায়েরি করেন। এমনকি তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হা’মলা, মা’রধর ও ভাঙচুরের অ’ভিযোগে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেত্রী মনিকার বি’রুদ্ধে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে একটি মা’মলা চলমান রয়েছে।

আশুলিয়া থা*না যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমুন নাহার কাজল অ’ভিযোগ করেন, মা’দক ব্যবসার সাথে জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগে মনিকাকে বহিষ্কার করা হলে সে আমা’র বি’রুদ্ধে নানা অ’পপ্রচার চালাতে থাকে। একপর্যায়ে আমা’র স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে মিথ্যা নারী নি’র্যাতন মা’মলায় ফাঁ’সিয়ে কারাগারে পাঠায়।

আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আজাদ নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘মনিকা নামে ওই যুবলীগ নেত্রী এক নারীকে দিয়ে মিথ্যা ধ’র্ষণ মা’মলার মাধ্যমে তাকে ব্লাকমেইল করেছে।’

এদিকে আশুলিয়ার দক্ষিণ বাইপাইল এলাকার আব্দুল মজিদের মেয়ে যুবলীগ নেত্রী বেপরোয়া মনিকা হাসানের নানা অসামাজিক কর্মকা’ণ্ডে ভীতসন্ত্রস্থ ও অ’তিষ্ঠ এলাকাবাসী। কিন্তু মিথ্যা নারী নি’র্যাতন মা’মলায় ফাঁ’সার ভয়ে তার বি’রুদ্ধে মুখ খুলতে চায় না এই এলাকার কেউই।

এসব অস্বীকার করে মনিকা হাসান বলেন, ‘২০১৭ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি মহিলা যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হয়েছেন। তার ও পরিবারের বি’রুদ্ধে আনা মা’দকসহ অন্যান্য অ’ভিযোগ মিথ্যা। একটি রাজনৈতিক মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ফাঁ’সানোর চেষ্টা করছে।’

ঢাকা জে’লা মহিলা যুবলীগের আহ্বায়ক শিলারা ইস’লাম জানান, ‘গত এক বছর আগে মনিকা আশুলিয়া থা*না যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক থাকাকালীন তাকে চিনতাম। পরে মা’দক সংশ্লিষ্টতার অ’ভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার সাথে আমা’র কোনো যোগাযোগ নেই। এখন তার বি’রুদ্ধে কোনো অ’ভিযোগ থাকলে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই ব্যবস্থা নেবেন।’

সাভার উপজে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা বলেন, ‘মনিকার বিষয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অ’ভিযোগ জানানো হবে। তারাই ত’দন্ত করে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন।

তবে তার সাথে ঘনিষ্ঠ ছবির প্রসঙ্গে ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক এমপি সাবরিনা আক্তার তুহিন বলেন, ‘আমা’র সাথে পাপিয়া ও আশুলিয়ার মনিকার কোনো সখ্যতা নেই। তবে মনিকার বি’রুদ্ধে মা’দকের অ’ভিযোগ থাকলে প্রশা*সনকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।’

এ ব্যাপারে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ’পু উকিল জানান, ‘যুব মহিলা লীগের অনেক নেত্রী কিংবা তাদের সাথে অনেক মেয়েই এসে আমা’র গলা ধরে ছবি তোলে। এতে আমি কি করবো? তবে এখন থেকে সতর্ক হয়েছি। কাউকে না চিনলে এখন আর ছবি তুলবো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আশুলিয়ার মনিকা হাসান নামে ওই নারী যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নয়। যদি সে এই পরিচয় দিয়ে অ’পকর্ম করে থাকে তাহলে তার বি’রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা জে’লা পু’লিশ সুপার মা’রুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘আশুলিয়ার যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত ওই নেত্রীর বি’রুদ্ধে মা’দক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া চাঁদাবাজি, দখল ও মিথ্যা মা’মলা দিয়ে ব্লাকমেইলের বিষয়ে কেউ অ’ভিযোগ করলে আম’রা এ বিষয়ে ত’দন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।—মানব কণ্ঠ

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন