না’মাজের জায়গা চেয়ে স্ট্যা’টাস, শি’বির ত’কমা দিয়ে ছাত্রীকে নি’র্যাতন

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২০ / ০৪:১৩অপরাহ্ণ
না’মাজের জায়গা চেয়ে স্ট্যা’টাস, শি’বির ত’কমা দিয়ে ছাত্রীকে নি’র্যাতন

ভিন্নমতের কারণেই নি’র্যাতনের শিকার হন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সেই ছাত্রী। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ছাত্রীটিকে উ’ন্নত চিকি’ৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তার ক্ষ’তস্থান থেকে সং’ক্রমন হয়েছে বলে স্ব’জনরা জানিয়েছেন।

তাঁদের মতে, ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে ছাত্রীটিকে হু`মকি দেওয়া হয়েছিল। হু`মকিদাতাদের বি’রুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করায় এবং তা প্র’ত্যাহার করে না নেওয়ায় নি’র্যাতন করা হয়েছে। তবে তার আগে শি’বির করার অ’ভিযোগ তোলা হয় ওই ছাত্রীর বি’রুদ্ধে।

ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, গত ১ মা’র্চ বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে একাডেমিক ভবনের সিঁ’ড়ি দিয়ে নামা’র সময় হঠাৎ ১২ থেকে ১৫ জন মুখো’শধা’রী তাঁর পথরো’ধ করে। পরে পঞ্চম তলার নি’র্জন স্থানে নিয়ে বেদম মা’রধর করে। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হাতে থাকা জ্যামিতি বক্স থেকে এর কাঁ’টা-কম্পাস দিয়ে শ`রীরের বিভিন্ন স্থান খুঁ’চিয়ে খুঁ’চিয়ে জ’খম করে তারা।

তার স্বজনেরা জানিয়েছেন, তাঁর বুক, পিঠ, হাতসহ শ`রীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁ’টা-কম্পাস দিয়ে অ’সংখ্য খুঁচিয়ে জ’খম করা হয়েছে। চিকি’ৎসক জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর শ`রীরে অসংখ্য আ’ঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সু’চালো কিছুর আ’ঘাতে শ`রীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষ’ত সৃষ্টি হয়েছে।

ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের নামাজের জায়গা চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যা’টাস দিলে গণিত বিভাগের ছাত্র মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাত তাকে শি’বিরের ত’কমা দেন। এর আগেও কয়েকবার হেন’স্তা ও হা’মলার শি’কার হয়েছেন তিনি।

ছাত্রীর বড় বোন জানান, হা’মলার পর নিরাপ’ত্তার অ’ভাবে বোনকে তিন দিন বাসায় চিকি’ৎসা দেওয়া হয়। পরে অব’স্থার অবনতি হলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হা*সপা*তালে ভর্তি করা হয়। তবে তাঁর ক্ষ’তে সং’ক্রমণ দেখা দেওয়ায় ঢাকায় নেওয়া হয়।

কোটা সং’স্কার আ’ন্দোলন সময় স’ক্রিয় থাকায় তাকে হু`মকি দেয়া হতো। তিনি জানান, তাঁর বোনকে ২০১৮ সালে একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে হু`মকি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়, ‘ছাত্রদল করো, ধ’র্ষণের পর হ’ত্যা করে কী’র্তনখোলা নদীতে ফেলে দেব।’

এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় জিডি করা হয়েছিল। এরপর জি’ডি প্র’ত্যাহার করার জন্য নানাভাবে তাঁর বোনকে হু`মকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যা’ম্পাসে তাঁর বোনের ওপর এ জ’ঘন্য হা’মলা হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নি’র্যাতন ও সহিং’সতা গুজব প্রতিরো’ধে উপাচার্যের নিকট স্মা’রকলিপি কতিপয় শিক্ষার্থীরা। তাতে ছাত্রীকে নি’র্যাতনের ঘটনাকে অ’বিশ্বা’স্য ও মি’থ্যার অ’ভিযোগে বিচার দাবি কার হয়। এতে আলিম সালেহীন নামে সমাজবি’জ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রের স্বাক্ষর রয়েছে।

তার বি’রুদ্ধে আগেও হেন’স্তা করার অ’ভিযোগ তুলেছেন ওই ছাত্রী। এ ব্যাপারে আলিম সালেহীন বলেন, ‘ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, তবে কোনো হু`মকি দেইনি।

ওই ছাত্রীর অ’ভিযোগ, বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান হেনা রাণী তাকে বলেছিলেন, ‘তোমাকে মা’রছে, কি করছে, দেখার বিষয় না।’ এসময় সাদা কাগজ দিয়ে লিখতে বলেন, ‘এখানে লেখো, তোমা’র শি’বির স’ম্পৃক্ততা আছে।’ বিভাগের শিক্ষক সুজিত বালাও বলেছেন, ‘তিনি ছাত্রদল করেন, পাস করতে পারবেন না।’

তবে হেনা রাণী অ’ভিযোগ অ’স্বীকার করে বলেছেন, ‘তার বি’রুদ্ধে আনা অ’ভিযোগ মিথ্যা। সেদিন তিনি মহিউদ্দিন এবং ওই শিক্ষা’র্থীকে ডেকে বুঝিয়েছেন। জি’ডির বিষয়ে তিনি জানতেন না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সুব্রত কুমা’র দাস বলেন, ‘এ ঘটনায় ছাত্রীর পক্ষ থেকে কোনো অ’ভিযোগ পাননি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বুধবার রাতে তিনি ঘটনাটি জেনেছেন।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন