এ যেন লা’শের মিছিল! ১০ জনের জানাযা সম্পন্ন

প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২০ / ০৩:৩০অপরাহ্ণ
এ যেন লা’শের মিছিল! ১০ জনের জানাযা সম্পন্ন

হবু কনেকে আংটি পরাতে গিয়ে হবিগঞ্জে ম’র্মা’ন্তিক সড়ক দুর্ঘ’টনায় বরসহ নি’হত ১০ জনের জানাজা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৭ মা’র্চ) সকালে জানাজা শেষে নি’হতদের মধ্য সাতজনকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। অন্য তিনজনের ম’রদেহ নিজ এলাকা বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে ভোরে হবিগঞ্জ থেকে নি’হত ১০ জনের ম’রদেহ ফতুল্লার পাগলা মু’সলিমপাড়া ও চিতাশাল নিয়ে আসা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ৯টায় পাগলা শাহি মহল্লা কবরস্থানে পাঁচজন ও দেলপাড়া কবরস্থানে দুইজনকে দাফন করা হয়। আর বাকি তিনজনের ম’রদেহ বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে নি’হতদের ম’রদেহ বাড়িতে আনার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। ম’রদেহ বাড়িতে আসার সংবাদে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ তাদের বাড়িতে ছুটে আসে। একসঙ্গে ১০ জনের মৃ’ত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে এসেছে। কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু ও প্যানেল চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার নি’হতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়েছেন।

নি’হতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পাগলা কুসুমপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী হবু বর ইমন খাঁন (২৬), তার বাবা আব্বাস উদ্দিন খাঁন (৫৫), তার ভাই রাব্বি খাঁন (২৩), মামাতো ভাই রাজিব আহমেদ (২৭), খালাতো ভাইয়ের বউ আসমা বেগম (২৮), চাচাতো ভাই খলিল (২৫), হাজী মহসীন (৭০), ইম’রান মিয়া (২৪), মামী সুমনা বেগম (২৮) ও নি’হত সুমনা বেগমের শি’শু সন্তান খাদিজা আক্তার (৪)।

ইমনের স্থায়ী ঠিকানা বরিশালে। কিন্তু থাকতেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। সেখান থেকে স্বজনদের নিয়ে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে হবু কনেকে আংটি পরাতে যাচ্ছিলেন।

নি’হতদের মধ্যে আব্বাস উদ্দিন, ইমন, রাব্বী, রাজিব ও হাজী মহসীনের ম’রদেহ দাফন করা হয় পাগলা শাহি মহল্লা কবরস্থানে। আর সুমনা ও তার শি’শু সন্তান খাদিজার ম’রদেহ দাফন করা হয় দেলপাড়া কবরস্থানে। অন্যদিকে ইম’রান, খলিল ও আসমা’র ম’রদেহ বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ম’রদেহ দাফন করা হবে।

কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও পাগলা শাহি মহল্লা কবরস্থান কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, আব্বাস উদ্দিন আমা’র প্রতিবেশি। তিনি একটি ব্যাংকে চাকরি করতেন। তার ছেলে ইমন কাতার থাকতো। ইমনের বিয়ে পাকাপোক্ত করতে বৃহস্পতিবার (৫ মা’র্চ) রাতে আব্বাস তার ছেলেসহ আত্মীয়-স্বজন নিয়ে সুনামগঞ্জে পাত্রী দেখতে রওনা হন। কিন্তু পথে ম’র্মা’ন্তিক দুর্ঘ’টনার কবলে বাবা-ছেলেসহ ১০ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে তাদের ম’রদেহ বাড়িতে আনা হয়।

তিনি বলেন, আমি একসঙ্গে এতো লোকের জানাজায় কখনও অংশগ্রহণ করিনি। তাদের জানাজায় শরিক হয়ে নিজের আবেগকে সামলাতে পারিনি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন