বিয়ের পরও মিন্নি নিয়মিত আমাদের বাসায় নয়নের কাছে আসতো : নয়ন বন্ডের মা

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হ*ত্যা*কা*ণ্ডের আগের দিনও সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের বাসায় গিয়েছিলেন নি*হ*ত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। জাগো নিউজকে এ কথা জানিয়েছেন রিফাত শরীফ হ*ত্যা* মা*ম*লার প্রধান আসামি এবং পুলিশের সঙ্গে ব*ন্দুক*যুদ্ধে নি*হ*ত নয়ন বন্ডের মা শাহিদা বেগম।

তিনি বলেন, ‘রিফাত শরীফ হ*ত্যা*কা*ণ্ডের ঘটনা ঘটে ২৬ জুন (বুধবার)। এর আগের দিন মঙ্গলবারও মিন্নি আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করে।’ ‘আমার ছেলে তো মা*রা*ই গেছে। আমার তো আর মি*থ্যা বলার কিছু নেই। মিন্নি যে মঙ্গলবারও আমাদের বাসায় গিয়েছিল তা আমার প্রতিবেশীরাও দেখেছে।’

নয়ন বন্ডের মা আরও বলেন, ‘শুধু হ*ত্যা*কা*ণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবারই নয়; রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পরও মিন্নি নিয়*মিত আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করত। মোটর*সাইকেলে মিন্নিকে রিফাত শরীফ কলেজে নামিয়ে দিয়ে চলে যেত। এরপর মিন্নি আমাদের বাসায় চলে আসত। আবার কলেজের ক্লাস শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে মিন্নি আমাদের বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যেত।’

রিফাত হ*ত্যা*কা*ণ্ডের সঙ্গে মিন্নি জড়িত দাবি করে ন*য়নের মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘রিফাতের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের খবর পাওয়ার পর আমি আমার ছেলেকে অনেক নিষেধ করেছি, যোগাযোগ না রাখতে। কিন্তু আমার ছেলে নয়ন কখনও আমার কথা শুনত না। ওর মনে যা চাইতো ও তা-ই করত। নয়ন যদি আমার কথা শুনত তাহলে এমন নির্মম ঘটনা ঘটত না।’

রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নিয়মিত নয়ন বন্ডের বাসায় আসা-যাওয়া এবং হ*ত্যা*কাণ্ডে*র আগের দিনও নয়ন বন্ডের বাসায় যাওয়ার বিষয়ে শনিবার সকালে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কি*শোরের ফোনে কল দিয়ে মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিন্নি অসুস্থ। গতকাল তাকে ডা*ক্তার দেখানো হয়েছে। মিন্নি এখন ঘুমাচ্ছে। তাই মিন্নি কথা বলতে পারবে না।’ এছাড়া মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে হলে বরগুনা জেলা পু*লিশের অনুমতি লাগবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কু*পি*য়ে হ*ত্যা* করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রিফাতকে কু*পি*য়ে *হ*ত্যা*র একটি ভিডিও ওইদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেস*বুকে ছ*ড়িয়ে প*ড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধা*রা*লো রা*ম*দা দিয়ে রিফাতকে একের পর এক কো*প দিতে থা*কে দুই যুবক। ওই সময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দুই যুবককে বারবার প্রতিহতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ঘটনাটি পুলি*শের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিফাতকে কু*পি*য়ে হ*ত্যা*র ভিডিওতে যে দুই যুবককে দেখা যায় তাদের একজনের নাম নয়ন বন্ড এবং আরেকজন রিফাত ফরাজী। তারা ছি*ন*তাই ও মা*দ*ক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত। এসব ঘটনায় তারা একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রে*ফ*তার হন।

গত শনিবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে থাকা একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়। সেখানে রিফাত হ*ত্যা*কাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগে ও পরে মিন্নির আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। রিফাত হ*ত্যা*কা*ণ্ডের পরের দিন অর্থাৎ ২৭ জুন মিন্নি গণমাধ্যমের কাছে কাঁদতে কাঁদতে দাবি করেন, আমার চোখের সামনেই আমার স্বা*মীকে কু*পি*য়ে হ*ত্যা* করেছে তারা। অনেক চেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁ*চাতে পারিনি আমি। আমি তাদের বিচার চাই।

ভাইরাল হওয়া দ্বিতীয় ভিডিওটি ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের। ভিডিও ফুটেজটির ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে দেখা যায়, নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ ১০-১২ জন রিফাতকে মা*র*ধর করতে করতে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বের হচ্ছে। এদের মধ্যে একজন পেছন থেকে রিফাতকে ধ*রে রেখেছে। বাকি দুজন দুই হাত ধরেছে। ৫ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ফুটেজে মিন্নিকে দেখা যায়, তার বাম হাতে একটি পার্স ছিল। সে পার্স হাতে স্বাভাবিকভাবে হাঁট*ছিল। একবার ডানেও তাকিয়েছেন কলেজের দিকে।

৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে যখন নয়নের সঙ্গীরা রিফাতের মা*থায় হা*ত দিয়ে আ*ঘা*ত করেন তখনও স্বাভাবিক ছিলেন মিন্নি। ৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে যখন সব বন্ধুরা একসঙ্গে রিফাতের ওপর ঝাঁ*পি*য়ে পড়েন তখন প্রথমবারের ম*তো দৌড়ে যান মিন্নি। প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন দা বের করে কো*পা*নো* শুরু হয়। পেছন থেকে মিন্নিকে প্রতিরোধ করতে দেখা যায়।

ওই ঘটনার পর ন*য়নরা যখন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায় তখন একজন মিন্নিকে তার পার্সটি মাটি থেকে তুলে দেন। নয়*নদের চলে যাওয়া দেখেন মিন্নি। এরপর স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে হাঁট*তে থাকেন তিনি। ওই ঘটনার ৮ মিনিট পর একটি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা।

নতুন এ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে আসে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি। মিন্নিকে জিজ্ঞা*সাবাদের বিষয়ে জা*নতে চাইলে বরগুনার পুলি*শ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন ওই সময় জাগো নিউজকে বলেন, ‘তদন্ত স্বচ্ছ ও সাবলীল করতে যা যা প্রয়োজন তাই করা হবে। সে এ মা*ম*লার একজন সাক্ষী, তদন্তের স্বার্থে একবার নয় প্রয়োজনে ১০ বার তার সঙ্গে কথা বলা হবে।’

গত শুক্রবার থেকে রিফাত ও মিন্নির বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, মিন্নি এ মা*মলা*র প্রধান সাক্ষী। তার নিরাপত্তার জন্য তার বাড়ির বাইরে পুলিশ রাখা হয়েছে। গত শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ভিডিও ফুটেজটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মিন্নিকে আ*টক করে জিজ্ঞা*সাবাদের দাবি তোলেন।

শম্পা আক্তার নামে ঢাবির এক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘মিন্নি জড়িত বোঝা যায়, তার কোনো ভূমিকাই নেই যখন ধরে নিয়ে যায়। দেশবাসীর চাওয়া ওকে যেন শা*স্তি দেওয়া হয়। এমন নোংরা মে*য়ের জন্য সব ভালো মেয়েরও বদনাম হয়।’ ইতি আক্তার নামে একজন বিবিএ’র শিক্ষার্থী লেখেন, ‘রিফাতের স্ত্রী অবশ্যই জড়িত। এই ভিডিও দেখার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রে*ফ*তার করছে না কেন?’

জেসমিন জাহান নামে আরেক শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, ‘মিন্নির হাঁটার গতি স্লো মোশনে রিপ্লে দেখানোর মতো।’ মুন্না নামের আরেকজন লেখেন, “প্রথমে মিন্নির সামনে থেকে যখন দু*র্বৃত্ত*রা তার স্বামীকে ছিনিয়ে নিয়ে মা*র*ধর করছিল তখন মিন্নির ‘স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ দেখে আমি বিস্মিত।”

দেশব্যাপী আলোচিত ওই হ*ত্যা**কা*ণ্ডে দায়ের করা মা*ম*লার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ব*ন্দু*কযু*দ্ধে নিহত হন। ওইদির ভোররাতে বরগুনার পুরা*কা*টা এলাকায় ব*ন্দু*কযু*দ্ধের ঘটনা ঘটে। নয়ন বন্ডের নি*হ*ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। সূত্র: জাগো নিউজ

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত