২০০ টাকা নেই ট্রলিও নেই, তাই বুড়ো বাবাকে কোলে নিয়ে ছুঁটছেন ছে’লে

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২০ / ০৯:২৯পূর্বাহ্ণ
২০০ টাকা নেই ট্রলিও নেই, তাই বুড়ো বাবাকে কোলে নিয়ে ছুঁটছেন ছে’লে

গত (২১ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জে’লার নাগরপুরের ডাঙ্গা গ্রামে জুম্মা’র নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হন জয়েন উদ্দিন (৯০)। হঠাৎ সড়কে মাটিবোঝাই একটি ট্রাক্টর ধাক্কা দিলে তার বাম পায়ের হাড় ভে’ঙে যায়। এমনিতেই টানা টানির সংসার জয়েন উদ্দিনের।

এরপর গ্রামের মেম্বার জলিল মিয়ার সহায়তায় ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে স’রকারি পঙ্গু হাসপাতালে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমালজি অ্যান্ড অর্থপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন-নিটোর) আসেন তিনি।

গত বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালে এসে টাকার অভাবে ট্রলি পাচ্ছেন না জয়েন উদ্দিন। ট্রলির জন্য ২০০ টাকা দিতে পারেনি জয়েন উদ্দিনের ছে’লে ধলা মিয়া।

ফলে ট্রলিও পায়নি সে। তাই বাধ্য হয়েই বৃ’দ্ধ পিতাকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের ফ্লোরে ফ্লোরে ছুঁটছেন ধলা মিয়া। জয়েন উদ্দিনের বাম পা থেকে র’ক্ত বের হচ্ছিল। এরপরও ট্রলির সুবিধা পাচ্ছেন না জয়েন উদ্দিন।

এই প্রসঙ্গে জয়েন উদ্দিনের ছে’লে ধলা মিয়া বলেন, ‘ট্রলি দেয় না। ট্রলি আছে, অ্যানে বলে ট্রলি নাই। ট্যাকা নিবো। বাবার জমি জায়গা নাই। ট্যাকা পয়সাও নাই। আমি অটো রিকশা চালাই। ট্যাকা পামু কই। কয়েকদিন ঘুম নাই।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায় বাথরুমের সামনে ট্রলি গুলোতে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ডাক্তারদের কাছে পৌঁছাতে পারলেই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ভালো। কিন্তু ডাক্তারদের কাছে পৌঁছানোর আগেই দালালদের খপ্পরে পড়তে হয় রো’গীর স্বজনদের।

নিয়ম অনুযায়ী নিটোরে রো’গীরা এলেই বিনামূল্যে ট্রলি সেবা পাওয়ার কথা। অথচ নিটোরে ভর্তি থাকা রো’গীদের চিকিৎসা সেবা পেতে প্রতি পদে পদে লাগছে টাকা।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন