ছেলে-স্ত্রীর পর প্রাণ হারালেন শহিদুলও

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২০ / ১০:৫০পূর্বাহ্ণ
ছেলে-স্ত্রীর পর প্রাণ হারালেন শহিদুলও

রাজধানীর মগবাজারের দিলু রোডের একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চার বছরের ছেলে কে এম রুশদি ও স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের পর না-ফেরার দেশে চলে গেলেন শহিদুল কিরমানি রনিও।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার ভোরে মৃত্যু হয় তাঁর। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া এনটিভি অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে মগবাজারের ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচজনে।

এর আগে গতকাল রোববার ভোরে হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় জান্নাতুল ফেরদৌসের। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থলেই মারা যায় তাঁদের একমাত্র সন্তান এ কে এম রুশদিসহ তিনজন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া গতকাল বলেন, ‘জান্নাতুল ফেরদৌসের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শহিদুলেরও শরীরের অনেক অংশ পুড়ে যায়।’

দিলু রোডের ওই ভবনে গত বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রথমে ওই ঘটনায় শিশু রুশদিসহ তিনজন নিহত হয়। ঘটনার দিন রুশদির দাদা এ কে এম শহিদুল্লাহ এনটিভি অনলাইনকে জানান, রুশদি স্থানীয় একটি স্কুলে প্লে শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। জান্নাতুল ও শহিদুলের একমাত্র সন্তান সে। তাঁরা নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটনা গ্রামের বাসিন্দা।

শহিদুলের ছোট বোন নাসরিন আক্তার ঘটনার দিন বলেছিলেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জে থাকি। ফোনের মাধ্যমে খবর পাই, ভাই ও ভাবি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছে। আমার ভাই ও ভাবি একটা কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাঁরা ওই বিল্ডিংয়ের তিনতলায় ভাড়া থাকতেন। তাঁদের একটাই সন্তান। শুনেছি ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

নিহত পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম নন্দনপুর এলাকার মোহম্মদ উল্লাহর ছেলে আবদুল কাদের লিটন (৪০)। লিটনের শ্যালক জহির আলম জানান, লিটন ওই ভবনের নিচতলার একটি ছোট কক্ষে থাকতেন।

ভবনের দোতলায় ক্ল্যাসিক ফ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি বায়িং হাউসের অফিস সহকারী ছিলেন। তিনি আট থেকে দশ বছর ধরে সেখানে চাকরি করতেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে গ্রামে থাকে। আগুন লাগার পর ধোঁয়ার কারণে রুমের গেট খুলতে না পাড়ায় শ্বাস আটকে তিনি মারা যান।

ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অসুস্থ হয়ে ঢামেকে ভর্তি হওয়া মনির হোসেন বলেন, ‘রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। কীভাবে আগুন লাগে, বলতে পারি না। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সিঁড়ি দিয়ে বাসায় ঢুকে আমাদের উদ্ধার করেন।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন