আমদানিকারকরা ভারতীয় পেঁয়াজ আনতে তৈরি

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২০ / ১২:১৩পূর্বাহ্ণ
আমদানিকারকরা ভারতীয় পেঁয়াজ আনতে তৈরি

ভারত নিজেদের কৃষকের স্বার্থে দীর্ঘ পাঁচ মাস পর পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি মৌসুমে ওই দেশে ভালো ফলন হওয়ায় ভারতে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ভারতের আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে রপ্তানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কিছুই জানানো হয়নি বাংলাদেশকে।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আসার দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও দেশে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। গত দু-তিন দিনে পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে নেমেছে। এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে পারছে ভোক্তা।

হিলির পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বলছেন, আগামী ১০ মার্চ থেকে দেশে আসতে পারে ভারতীয় পেঁয়াজ। আর প্রতি টন পেঁয়াজের দাম পড়তে পারে ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার। গত সেপ্টেম্বরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করার আগে দাম বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার বেঁধে দিয়েছিল।

কম দামে পাওয়ার আশায় আমদানিকারকরা পেঁয়াজ আনতে তোড়জোড় শুরু করেছেন। সরকারের অনুমতি নিতেও আবেদন করছেন অনেক আমদানিকারক। হিলিতে ব্যবসায়ীরা ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে আইপি আবেদন করেছেন।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের ২৯ সেপ্টম্বর হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। আর রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গিয়েছিল হু হু করে।

২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ২৫০ টাকা ছাড়িয়েছিল। তবে সরকার বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার সামাল দেওয়া চেষ্টা চালায়। তার পরও দীর্ঘদিন তা ১০০ টাকার ওপরে ছিল।

ভারত থেকে পেঁয়াজ এলে দাম আরো কমবে। ঢাকার আমদানিকারকরা বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখনো চূড়ান্ত কিছু জানায়নি। বিশেষ করে রপ্তানিতে পেঁয়াজের দাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় স্পষ্ট নয়।

ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানি করতে প্রস্তুত। সব কিছু জানার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। এরই মধ্যে কেউ কেউ ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথাও বলছেন।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজি শহি বলেন, ‘দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।

১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি চেয়ে আবেদন করেছি। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওপারে পত্র দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ১০ মার্চ থেকে হিলি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে।’

দেশের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত বুধবার পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার খবরে কমছে দাম। দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি কমলেও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম এখনো বাড়তি। আমদানিতে বাড়তি দামের কারণে এই দাম কমেনি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

খুচরা বাজারের দেশি পেঁয়াজ এখন পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আর পাইকারিতে এই পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে কোনো কোনো পাইকারি ব্যবসায়ী এখনো বিক্রি করছেন ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। মাসের হিসাবে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩৭ শতাংশ। এক মাস আগে এই পেঁয়াজের দাম ছিল ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে ২২ শতাংশ।

পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজি মাজেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এখন অপেক্ষায় আছেন, ভারত কখন রপ্তানির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে। তারা রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু রপ্তানিতে পেঁয়াজের দাম কেমন পড়বে সেটা জানায়নি।

আমদানিকারকরা পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে প্রস্তুত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেলেই সব প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ তিনি বলেন, ভারতের পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমে যাবে। আবার আগের দামে ফিরবে পেঁয়াজের বাজার।’

হিলি থেকে আমাদের প্রতিনিধি গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন জানান, হিলিতে পেঁয়াজের ঝাঁজ কমতে শুরু করেছে। ১০ মার্চ থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হতে পারে, এমন সংবাদে দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজে দাম কমেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। এতে শান্তি ফিরছে খুচরা ক্রেতাদের মধ্যে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কোয়ারেন্টাইন অফিসার ইউনুফ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেক আমদানিকারক পেঁয়াজ আমদানির আইপি ইস্যুর জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন। অনলাইনে এরই মধ্যে অনেকে আবেদন করেছেন। আইপি ইস্যু করা হবে ঢাকা থেকে।

হিলির খুচরা বিক্রেতারা জানান, দুই দিন আগে যে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। হঠাৎ পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় খুশি খুচরা ক্রেতা।

দিনাজপুর প্রতিনিধি এমদাদুল হক মিলন জানান, হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমতি চেয়ে গতকাল হিলি উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছেন।

আমদানিকারক মাহফুজার রহমান বাবু বলেন, ‘এখন দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয়েছেন সবাই।

বন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমতি চেয়ে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে আবেদন করেছেন। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা ২৫ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন