পাপিয়া রি’মান্ডে বসেই হু’মকি দিলেন ব্যবসায়ীকে

প্রকাশিত: ফেব্রু ২৭, ২০২০ / ০৫:২৭অপরাহ্ণ
পাপিয়া রি’মান্ডে বসেই হু’মকি দিলেন ব্যবসায়ীকে

রি’মান্ড চলাকালে থানায় বসেই যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীর প্র’তারণার শি’কার এক ব্যবসায়ীকে হু’মকি দেয়ার কথা জানা গেছে। তপন তালুকদার টুকু নামের ওই ব্যবসায়ী কাছ থেকে প্রতারণতার মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন পাপিয়া।

বিমানবন্দর থানায় গিয়ে তিনি পাপিয়ার স্বামী সুমনের বি’রুদ্ধে মা’মলা করা হবে জানালে সুমন হু’মকি দিয়ে বলেন, টাকা দেব না, আপনি প্র’তারণার মা’মলা দেবেন তো, ওই মা’মলায় দুই মাসের বেশি জে’ল হবে না। অ’স্ত্র মা’মলাই খেয়েছি, তাতেই ভ’য় পাচ্ছি না। আর প্র’তারণার মা’মলায় কি হবে?

সূত্র জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হওয়ার চেষ্টায় বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করেন পাপিয়া। কিন্তু যারা এ দায়িত্ব নিয়েছিলেন তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাপিয়ার বি’ষয়টি উপস্থাপন করতে সাহস পাননি।

এ কারণে ওই বিনিয়োগটি বিফলে যায়। শুধু তাই নয়, জে’লা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে খরচ করেছিলেন এক কোটি টাকা। এছাড়া উপঢৌকন হিসেবে কতিপয় প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়েছিলেন বিশেষ উপহার।

ত’দন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে বুধবার বিকালে বিমানবন্দর থানার ওসি বিএম ফরমান আলী যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীর বিমানবন্দর থানার এক মা’মলার রি’মান্ডের দ্বিতীয় দিনে ত’দন্ত কর্মকর্তাদের নানা তথ্য দিয়েছেন পাপিয়া। আমরা যেসব তথ্য পাচ্ছি তাতে অবাক হচ্ছি। যাচাই করা ছাড়া এ বি’ষয়ে কিছু বলা যাবে না।

তিনি বলেন, তাদের প্র’তারণার শি’কার কয়েক ব্যক্তি থানায় এসে আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে গেছেন। আমরা সবকিছুই ত’দন্ত করছি।

এই মুহূর্তে অনেক তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। ওসি বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী এবং দুই সহযোগীর বি’রুদ্ধে বিদেশি মুদ্রা ও জাল টাকার মা’মলা হয়েছে। অ’স্ত্র ও মা’দকের পৃথক মা’মলা হয়েছে শেরেবাংলানগর থানায়।

নরসিংদীতে আরও একটি মা’মলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমানবন্দর থানার একটি এবং শেরেবাংলানগর থানার ২ টি মা’মলায় ৫ দিন করে মোট ১৫ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেছেন আ’দালত।

পাপিয়ার অ’পকর্মের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা জানতে চাইলে বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (ত’দন্ত) কায়কোবাদ কাজী যুগান্তরকে বলেন, তিনি যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল এবং যুব মহিলা লীগ ঢাকা উত্তরের সভাপতি সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের নাম বলেছেন। সব অভিযোগ যাচাই করা যায়নি।

সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাপিয়া নিজে বাঁচার জন্যও উপর মহলের সংশ্লিষ্টতার কথা বলতে পারেন। তাই তার দেয়া তথ্য যাচাই করতে এরই মধ্যে হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জ’ব্দ করা হয়েছে। এখনও ফুটেজ বিশ্লেষণ করার সুযোগ হয়নি। যেসব রাজনৈতিক নেতা, আমলা বা ব্যবসায়ীর নাম এসেছে প্রয়োজনে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পাপিয়া দম্পতির প্র’তারণার শি’কার ব্যবসায়ী তপন তালুকদার টুকু যুগান্তরকে বলেন, পাঁচ মাস আগে আমি ঢাকা থেকে নরসিংদী বন্ধুর বাড়ি যাই। সেখানে দেখা হয় পাপিয়ার সঙ্গে। অনুষ্ঠান শেষে পাপিয়া আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ৪জন সুন্দরী তরুণীকে আমার সামনে নিয়ে আসে। জো’র করে অ’শ্লীল ভিডিও ধারণ করে।

আমাকে হু’মকি দিয়ে বলেন, আপনাকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। নইলে এই ভিডিও সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেবো। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবো। আপনার নামে মানব পাচারের মা’মলা দেয়া হবে। পরে মা’রধর শুরু করে। মান-সম্মানের ভ’য়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা দিই। তাতেও মন গলেনি।

পরে আমাকে বাড়ির ছাদে তিনদিন আ’টকে রাখে। এক পর্যায়ে ব্যাংকের মাধ্যমে দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা দেয়ার পর ছাড়া পাই।

তিনি বলেন, পাপিয়ার গ্রে’ফতারের খবর শুনে আমি বিমানবন্দর থানায় যাই। ওসিকে ঘটনা খুলে বলি। পরে ওসি পাপিয়াকে থানাহাজত থেকে তার রুমে ডেকে আনেন।

এ সময় পাপিয়াকে সালাম দিয়ে আমার ও’পর নি’র্যাতনের ঘটনা বলি। তখন সে হাতজো’র করে আমার কাছে ক্ষমা চায়। থানার ওসির সামনে বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। একজনের নির্দেশে আমি ওটা করেছিলাম। তোমার টাকা’টা ফেরত দেব। তুমি আইনের আশ্রয় নিও না। কিন্তু টাকা পাইনি।

বুধবার ফের থানায় গিয়ে ওসিকে বলি, আমার টাকা না দিলে আমি পাপিয়ার বি’রুদ্ধে মা’মলা করবো। তখন ওসি বলেন, আপনি মা’মলা দিলে নরসিংদীতে দিতে হবে। কারণ আপনার সঙ্গে ঘটনাটি সেখানে ঘটেছে।

পরে ওসির রুমে পাপিয়ার স্বামী সুমনকে ডাকা হলে সুমন হু’মকি দিয়ে বলেন, আপনার টাকা দেবো না। আমাদের নামে আপনি কী মা’মলা দেবেন? বড়জো’র প্র’তারণার মা’মলা দেবেন। এ মা’মলায় দুই মাসের বেশি জে’ল হবে না। অ’স্ত্র মা’মলা খেয়েছি। তাতেই ভ’য় পাচ্ছি না। আর প্র’তারণার মা’মলায় কী হবে?

জানতে চাইলে র‌্যা’বের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম যুগান্তরকে বলেন, মা’মলাটি এখন থানা পুলিশ ত’দন্ত করছে। র‌্যা’বের পক্ষ থেকে ত’দন্তের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর র‌্যা’ব আনুষ্ঠানিকভাবে ত’দন্ত করবে।

তিনি বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী অ’স্ত্র, জাল টাকা এবং ইয়াবা ব্যববসায় জড়িত বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেবল মা’দক ব্যবসাই নয়, পাপিয়া দম্পতি প্রচুর পরিমাণে মা’দক দ্রব্য সেবন করতেন বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে।

র‌্যা’ব কর্মকর্তা সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, ভিআইপিদের ব্ল্যা’কমেইলিংয়ের জন্য বিদেশি তরুণীদের ব্যবহারের বি’ষয়ে যে তথ্য এসেছে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে পাপিয়া যে সুন্দরী তরুণীদের দিয়ে যৌ’ন ব্যবসা চালাতেন সে বি’ষয়টি এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রে’ফতার করে র‌্যা’ব।

গ্রে’ফতার অন্যরা হলেন, পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)। এরপর তাদেরকে নিয়ে ফার্মগেট ও নরসিংদীর বাসায় অ’ভিযান চালানো হয়।

র‌্যা’ব অ’ভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশি পি’স্তল, ২টি পি’স্তলের ম্যাগাজিন, ২০টি পি’স্তলের গু’লি, ৫ বোতল দামি বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেকবই, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড উ’দ্ধার করে।

সূত্র : যুগান্তর

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন