ভারতে মু’সলিমদের ও’পর নি’র্যাতনের ভ’য়ংকর তথ্য

প্রকাশিত: ফেব্রু ২৭, ২০২০ / ০৪:১৯অপরাহ্ণ
ভারতে মু’সলিমদের ও’পর নি’র্যাতনের ভ’য়ংকর তথ্য

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বি’রোধিতাকারী ও স’মর্থকদের মধ্যে সং’ঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জন নি’হতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও ২০০ মা’নুষ আ’হত হয়েছেন।

হ’তাহতদের বেশিরভাগই মু’সলিম। ভারতের বি’রোধী দলীয় নে’তৃবৃন্দসহ অনেকেই এই স’হিং’সতাকে মুসলিম স’ম্প্রদা’য়ের ও’পর প’রিকল্পিত হা’মলা বলে উল্লেখ করেছেন। দিল্লির এমন প’রিস্থিতিতে ভ’য়াবহ আ’তঙ্কে রয়েছেন সং’খ্যালঘু মু’সলিমরা।

সোমবার ওই সং’ঘাতের প্র’থমদিনে এক পু’লিশসহ ৫ জন নি’হত হয়। মঙ্গলবার তা বেড়ে দাঁড়ায় সাতে। এরপরই দিল্লির সং’খ্যালঘু মু’সলিমদের ও’পর চলে প’রিকল্পিত হা’মলা। সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবারের ওই হা’মলায় সর্বশেষ খবরে ৩৪ জ’ন নি’হত হওয়ার কথা জানা গেছে। তবে হ’তাহতের পৃকৃত সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা বুধবার রাতেও আ’হতদের হা’সপাতালে ভ’র্তি হওয়ার খবর মিলেছে।

আ’হতদের মধ্যে কমপক্ষে ৪৬ জ’নের শ’রীরে বু’লেট পাওয়া গেছে। অর্থাৎ তারা আ’হত হয়েছে ব’ন্দুকের গু’লিতে। আরও উ’দ্বেগজনক বি’ষয় হচ্ছে, হা’সপাতালগুলোতে এমন অনেক আ’হতের খোঁজ পাওয়া গেছে যাদের চোখে অ্যা’সিড ঢা’লা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, অ্যা’সিড হা’মলায় দৃষ্টি হা’রিয়েছেন কমপক্ষে চারজন। খুরশিদ নামে এক জনের দু’চোখই ন’ষ্ট হয়ে গিয়েছে। ওই ব্যক্তি তেগ বাহাদুর হাসপাতাল থেকে লো’কনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে আসার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত পাননি। রিকশায় এসেছেন। দুই চো’খ-সহ পুরো মু’খ ঝ’লসে গিয়েছে ওয়কিলের। ফলে এটা স্পষ্ট, প’রিকল্পিত এই দা’ঙ্গায় আ’গুন লা’গানো, পা’থরবাজি, গু’লির স’ঙ্গে চা’লানো হয়েছে অ্যা’সিড হা’মলাও। এমনকি পু’লিশকেও নাকি অ্যা’সিড হা’মলার মু’খে প’ড়তে হয়েছিল।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ভ’য়ংকর কিছু ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ক্ষ’তবিক্ষ’ত মা’নুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের কেউ গু’লিবিদ্ধ, আবার কারো মা’থা থেঁ’তলে গেছে হা’তুড়ির আ’ঘাতে।

এক ব্য’ক্তির শ’রীরে ৫টি গু’লি লেগেছে। এমনকি তার মু’খ এবং মা’থার কয়েক জায়গা ক্ষ’তবিক্ষ’ত হয়ে পুরো শ’রীর র’ক্তে ভিজে গেছে। আরো দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে একেবারে অ’চেতন অ’বস্থায়। তাদের শ’রীরে এ’সিড নি’ক্ষেপ করা হয়েছে।

সেলিম নামে এক ব্যক্তি তার স্ব’জনের ম’রদেহ গ্রহণের জন্য অপেক্ষায় আছেন। ইশরাক হাসান নামে ২৪ বছর ব’য়সী ওই ব্য’ক্তির দেহ ম’র্গে রয়েছে। সেলিম বলেন, ইশরাকের শ’রীরে পাঁচটি গু’লি লেগেছে। মঙ্গলবার বিকেলে মুস্তাফাবাদে গু’লিবি’দ্ধ হয়েছেন তিনি। মা’থা ও বু’কে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ক্ষ’ত রয়েছে। সম্ভবত ত’লোয়ার দিয়ে আ’ঘাত করা হয়েছে তাকে।

২১ বছর বয়সী আবদুস সামাদ গিয়েছিলেন নামাজ পড়তে। মুস্তাফাবাদ এলাকার একটি ম’সজিদে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে ধরে র’ড দিয়ে পে’টানো হয়। তবে তিনি বেঁ’চে গেছেন। বর্তমানে চি’কিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ওই ম’সজিদে যারা যারা ছিল, সবাইকে র’ড দিয়ে পে’টানো হয়েছে।

মুহাম্মদ সাহিল নামে এক ত’রুণের বাবাকে নিজের বাড়ির বাইরে গু’লি করা হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবারের ওই ঘ’টনায় আ’হত বাবাকে বাঁ’চাতে পু’লিশের সহায়তা চেয়ে হ’তাশ হয়েছেন সাহিল।

তিনি আরো বলেন, একপর্যায়ে খুব ক’ষ্ট করে গভীর রাতে বাবাকে হা’সপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাবাকে বাঁ’চাতে পা’রিনি।

শুধু তাই নয় গত কয়েকদিনের ভ’য়াবহ স’হিং’সতায় সং’খ্যালঘু মু’সলিমনদের বহু ঘ’রবাড়ি, দো’কানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পু’ড়েছে আ’গুনে। বাদ যায়নি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ম’সজিদগুলোও। এক ম’সজিদে আ’গুন লা’গিয়ে তার মিনারে গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেছে চ’রমপন্থি হিন্দুরা। সেই ছবি আর ভিডিও ফুটেজ আন্তর্জাতিক সং’বাদ মাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে এখনও।

ভ’য়ে বহু মু’সলিম ঘর-বাড়ি ছে’ড়ে নি’রুদ্দেশে যাত্রা করেছে। ফলে দিল্লি জাফরাবাদ ও মৌজপুরে এলাকার মু’সলিম বসতিগুলোতে এখন ক’বরের নি’স্তব্ধতা বিরাজ করছে। ফাঁ’কা রাস্তা জুড়ে পাথর, ই’ট, ভা’ঙা কাচ, ভা’ঙা লো’হার র’ড। ভিতরের গলি থেকে আজও পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁ’য়া। মৌজপুরের গলির একটি দোকানে আ’গুন নে’ভেনি। বলাবাহুল্য এই দোকানের মা’লিকও একজন মু’সলিম।

এ নিয়ে আনন্দবাজারের ব’ক্তব্য, ‘দোকানের মালিক কোন ধ’র্মের, তা দেখেই আ’গুন লাগানো হয়েছে। এ পাড়ায় ধ’র্মের জো’রে যাদের দোকান বেঁ’চে গিয়েছে, অন্য গলিতে সেই ধ’র্মের জে’রেই দোকান পু’ড়েছে।’

জাফরাবাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বা’সিন্দার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ‘ভিতরের মহল্লায় অ’শান্তি চলছে। কোথায় কতজনের ম’রদেহ পড়ে রয়েছে, কেউ জানে না। পু’লিশ এখনও ঢু’কতে পা’রেনি ভিতরে।’ অর্থাৎ পু’লিশ এখনও সে চে’ষ্টা করেনি বা তাদের সেখানে ঢু’কতে দেয়া হচ্ছে না।

আনন্দবাজার জানায়, খাজুরি খাসের গামরি এক্সটেনশনে মুহম্মদ সাইদ সালমানি মঙ্গলবার দুধ কিনতে বেরিয়েছিলেন। এসময় তার বাড়িটি ঘিরে ফে’লে দা’ঙ্গাকারী হি’ন্দুরা। খবর পেয়ে বাড়ির দিকে ছুটে যান সালমানি। কিন্তু পাড়ার লোকেরা নি’রাপত্তার স্বার্থেই তাকে বাড়ির দিকে যেতে দেননি। ফলে আ’গুনে পু’ড়ে মা’রা যান ৮৫ বছরের মা আকবরি। একই স’ঙ্গে পু’ড়ে অ’ঙ্গার হয়ে যায় তার রোজগারের একমাত্র অবলম্বন দর্জির দো’কানটি ।

তেগবাহাদুর ও লো’কনায়ক জয়প্রকাশ হা’সপাতালের চি’কিৎসকেরা বলছেন, হ’তাহতদের বেশির ভাগই গরিব বা মধ্যবিত্ত। ২৮ বছরের মুবারক হুসেন দ্বারভা’ঙা থেকে বাবরপুরে এসে শ্রমিকের কাজ করতেন। বিজয় পার্কে তার বু’কে গু’লি লাগে। মুদাস্‌সির খান, শাহিদ খান আলভি অটো চালাতেন। ভজনপুরার মারুফ আলিকে ক’পালে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গু’লি করে মা’রা হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন