শাসকদলের অনেকের মনোরঞ্জন করতেন পাপিয়া, ডিএনএ টেস্ট করা হোক: আলাল

প্রকাশিত: ফেব্রু ২৬, ২০২০ / ১০:৩৬পূর্বাহ্ণ
শাসকদলের অনেকের মনোরঞ্জন করতেন পাপিয়া, ডিএনএ টেস্ট করা হোক: আলাল

বিএনপির যুগ্ম-মহাস’চিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘পাপিয়া শাসকদলের অনেকের মনোরঞ্জন করতেন। তাই পাপিয়া ও তার সাথে থাকা নারী নেত্রীদের ডিএনএ টেস্ট করা হোক। তাদের এইচআইভি পজেটিভ কিনা সে প‌রীক্ষা করা হোক।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বেগম খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলাল বলেন, জাতিকে ধ্বং’স করে সেই ধ্বং’সস্তুপের ও’পর প্রমোদভবন তৈরি করবেন সেই প্রমোদভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সুতরাং খালেদা জিয়া মুক্তি না পেলে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস‌্য ড. খন্দকার মোশাররফ হো‌সেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, তাঁতী দলের যুগ্ম আহবায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ। সূত্র : বিডি প্রতিদিন

আমার লাইফটা শেষ, আদালতে দাঁড়িয়ে পাপিয়া

রাজনিতিঃ আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। জমজমাট নারী ব্যবসাসহ ভ’য়ঙ্কর সব অ’পরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচনায় তিনি। রাজনীতির আড়ালে অ’স্ত্র, মা’দক ও দেহব্যবসা করে বিশাল সম্পদের মালিক বনে যান তিনি। তার সব অ’পরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতেন তার স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন ওরফে মতি সুমন। বার্তা২৪, বিডিজার্নাল

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন ও অ’বৈধ টাকা পাচারের অভিযোগে শামিমা নূর পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রে’ফতার করে র‌্যা’ব-১। গ্রে’ফতারকৃত অন্যরা হলেন- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)।

গ্রে’ফতার চারজনকে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতে হাজির করা হয়। এসময় তিন মা’মলায় পাপিয়া ও সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩০ দিনের রি’মান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। মেট্রোপলিটন ম্যজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের আ’দালতে এক মা’মলায় ৫ দিন ও মেট্রোপলিটন ম্যজিস্ট্রেট জসীম উদ্দিন দুই মা’মলায় ১০ দিন রি’মান্ড মঞ্জুর করেন। অর্থ্যাৎ তিন মা’মলায় দুইজনের ১৫ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন। আর অন্য দুই আ’সামি সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে এক মা’মলায় ৫ দিন করে রি’মান্ড দেন আ’দালত।

আ’দালতে পাপিয়া সালোয়ার কামিজ পড়ে এসেছিলেন। তার মাথায় ওড়না ছিল। আ’দালতে শুনানি চলাকালে পাপিয়া ও সুমন নিশ্চুপ ছিলেন। কিন্তু শুনানি শেষে বের হওয়ার সময় স্বামীকে লক্ষ্য করে অনুচ্চ স্বরে বলেন ‘আমার লাইফটাই শেষ’।

রাজধানী ও নরসিংদীতে পাপিয়ার বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ নামে-বেনামে বিপুল অর্থের সন্ধান পায় র‍্যাপিড অ্যা’কশন ব্যা’টালিয়ন (র‍্যা’ব)। রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে নারীদের অ’নৈতিক কাজে বাধ্য করে অর্থ আয় করতেন তিনি। এছাড়া, রেলওয়ে ও পুলিশে এসআই পদে চাকরির কথা বলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি।

প্রাথমিক ত’দন্তে ফার্মগেটে পাপিয়ার ২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নরসিংদী শহরে ২টি ফ্ল্যাট, ২ কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট, চারটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং গাড়ি ব্যবসায় প্রায় দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে নামে-বেনামে অনেক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত থাকার কথা জানা গেছে।

পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন রেলওয়ে ও পুলিশের এসআই’তে চাকরির প্রলোভনে ১১ লাখ টাকা, একটি কারখানায় অ’বৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা, একটি সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ২৯ লাখ টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বাইরে নরসিংদী এলাকায় চাঁ’দাবাজি, মা’দক ও অ’স্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অ’পরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছে বলে জানা গেছে।

আরো জানা যায়, পাপিয়ার আয়ের আরেকটি অন্যতম উৎস নারীদের দিয়ে জো’রপূর্বক অ’নৈতিক কাজ করানো। ঢাকার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করে কম বয়সী মেয়েদের দিয়ে জো’রপূর্বক অ’নৈতিক কাজে বাধ্য করা হত। যাদের অধিকাংশই নরসিংদী এলাকা থেকে চাকরির প্রলোভনে ঢাকায় আনা হয়েছিলো। অ’নৈতিক কাজে বাধ্য না হলে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নি’র্যাতন করা হত।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গ্রে’ফতারের পর রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ফার্মগেট ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার বাসায় অ’ভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশি পি’স্তল, ২টি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গু’লি, ৫ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উ’দ্ধার করেছে র‌্যা’ব।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন