মহিলা কলেজের ক্লাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢুকে হা’মলা করল শিক্ষক

প্রকাশিত: ফেব্রু ২৫, ২০২০ / ১০:২৭অপরাহ্ণ
মহিলা কলেজের ক্লাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢুকে হা’মলা করল শিক্ষক

বগুড়ায় মিজানুর রহমান নামে এক শিক্ষক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মহিলা কলেজের ক্লাস রুমে ঢুকে খণ্ডকালীন শিক্ষক আলমগীর কবির পলাশকে বেদম মা’র’পি’ট করেছে বলে অ’ভি’যোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার শহরতলির গোদারপাড়ায় জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। প্র’তি’বাদে ছাত্রীরা কলেজের সামনে বগুড়া-নওগাঁ সড়ক অ’ব’রোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনে।

আ’হ’ত ওই শিক্ষক বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুব আলম ও কয়েকজন শিক্ষক অ’ভি’যোগ করেন, শিক্ষক মিজানুর রহমান ছাত্রলীগের ‘স’ন্ত্রা’সীদের সঙ্গে নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় জানান, ওই হা’ম’লা’র ঘটনা কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তার দলের কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের সভাপতি নিয়োগের চিঠি আনতে গিয়েছিলেন।

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, ডিগ্রি শাখায় নিয়োগকৃত ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান গত ৩-৪ মাস ক্লাস নেন না। শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে মাসিক দুই হাজার টাকা বেতনে আলমগীর কবির পলাশ নামে একজনকে খণ্ডকালীন শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

তারা অ’ভি’যোগ করেন, শিক্ষক মিজানুর রহমান মঙ্গলবার বেলা ১০টার দিকে কলেজে আসেন। বেলা ১২টার দিকে ১৬টি মোটরসাইকেলে ছাত্রলীগের ৪৫-৪৮ জন ক্যা’ডা’র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে। মিজানুর তাদের নিয়ে দোতলায় ক্লাস চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে ঢোকেন। তখন তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক পলাশকে গা’লি’গা’লাজের পর মা’র’ধ’র করেন।

এ সময় ক্লাসে থাকা ছাত্রীরা ভয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তখন শিক্ষক মিজানুর রহমান তার সঙ্গীদের নিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান। এর প্রতিবাদে ছাত্রীরা কলেজের সামনে সড়ক অব’রো’ধ করার চেষ্টা করলে সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম তাদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হতে না পেরে তার সংগঠনের সাবেক কর্মী শিক্ষক মিজানুর রহমানের পক্ষ নেন।

এ প্রসঙ্গে কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত সমর্থিত অধ্যক্ষ মাহবুব আলম কলেজকে পরিবারতন্ত্র বানিয়েছেন। কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক জামায়াত-বিএনপির।

মিজানুর আরও বলেন, তিনি গত ১৬ বছর বেতন ছাড়াই চাকরি করছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত হওয়ায় অধ্যক্ষ তাকে সরিয়ে জামায়াত সমর্থক সাবেক শি’বি’র নেতা, জামায়াত পরিচালিত ইউনিক কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আলমগীর কবির পলাশকে কলেজে ঢোকানোর চেষ্টা করে আসছেন। তনছের আলী নামে এক জামায়াত শিক্ষক এর নেপথ্যে রয়েছেন।

অ’ভি’যুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান দাবি করেন, অধ্যক্ষ তাকে কলেজে না আসতে হু’ম’কি দেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে বাধা দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ক্লাস নেবার জন্য রুমে গেলে সেখানে সাবেক শিবির নেতা আলমগীর কবির পলাশকে দেখতে পান। তখন পলাশ তার সঙ্গে দু’র্ব্য’বহার করলে বা’ক’বিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ ছিল না।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় জানান, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান তাকে জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হতে ডিও লেটার দেন। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অ’জ্ঞাত কারণে বগুড়া সদর আসনে বিএনপি দলীয় এমপি জিএম সিরাজকে সভাপতি করেছে।

এ সংক্রান্ত চিঠি আনতে তিনি মঙ্গলবার দুপুরে তার সংগঠনের কয়েকজনকে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলেন। শিক্ষককে মা’র’পি’টের ঘটনা কলেজের অভ্যন্তরীণ। এর সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আহত শিক্ষক আলমগীর কবির পলাশ জানান, তিনি কখনও জামায়াত-শি’বি’রের রাজনীতি করতেন না বা এখনও করেন না। দুপুরে কলেজে ক্লাস নেবার সময় এক ব্যক্তি তার ওপর হা’ম’লা করেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা বেশ কয়েকজন সেখানে ছিলেন। পরে জেনেছেন, হা’ম’লা’কারী কলেজের ইংরেজি শিক্ষক মিজানুর রহমান ও তারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, কলেজ থেকে মা’ম’লা দিলে তদন্ত সাপেক্ষে জ’ড়ি’তদের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুত্রঃ যুগান্তর

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন