স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাসেল তরুণীসহ ধ’রা পড়লেন

প্রকাশিত: ফেব্রু ২৫, ২০২০ / ০১:২৯পূর্বাহ্ণ
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাসেল তরুণীসহ ধ’রা পড়লেন

কক্সবাজারে দে’হ ব্যবসা ও ই’য়া’বা কারবার বন্ধের ডাক দেওয়ার এক দিন পরই ধরা পড়লেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল আহমদ। ঘটনাস্থল থেকে উ’দ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ যৌ’ন উ’ত্তে’জক ট্যাবলেট ও সরঞ্জাম।

পুলিশ তাঁর সঙ্গে এক তরুণীকেও আ’ট’ক করেছে। তবে পুলিশি অ’ভি’যানের সময় আরো ১০-১২ জন তরুণী পা’লি’য়ে যায়। কাজী রাসেল কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য।

সাগরপারের আণবিক শক্তি কমিশন অফিসসংলগ্ন এলাকায় ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাসায় আয়োজিত ই’য়া’বা সেবনের জলসায় গতকাল সোমবার ভোরে এ অ’ভি’যান চালায় পুলিশ।

অ’ভি’যোগ রয়েছে, রাজধানী ঢাকায় আটক যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়ার মতোই নানা অ’প’রাধে জ’ড়িত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল।

পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার সাগরপারে রোহিঙ্গাসহ দুই শতাধিক তরুণীকে আ’ট’কে রেখে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতেন এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। তাঁর দাপটে সাগরপারের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও অতিষ্ঠ ছিলেন।

কাজী রাসেলের এমন অ’বৈ’ধ কারবারের সঙ্গী কয়েক শ দালাল। এসব দালাল হোটেলে ইয়াবা ও নারী সরবরাহ করত বলে অ’ভি’যোগ রয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, সাগরপারের হোটেল-মোটেল জোনে জমির প্লট ও ফ্ল্যাট দ’খল করে দীর্ঘদিন ধরে দে’হ ব্যবসা ও ই’য়া’বার কারবার চলে আসছে। এসব অ’প’রাধে জড়িত রয়েছে দুটি বাহিনী। এদের একটি ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক, অন্যটি বিএনপি সমর্থিত স’ন্ত্রা’সী বাহিনী।

ক্ষমতাসীন দলের বাহিনীটি নিয়ন্ত্রক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল। অ’ভি’যোগ রয়েছে, সাগরপারের পর্যটন এলাকায় সব ধরনের অ’প’রাধের নিয়ন্ত্রণ করে আসছে তাঁর বাহিনীর স’ন্ত্রা’সীরা।

অন্যদিকে ‘মুনিয়া বাহিনী’ নামের অন্য স’ন্ত্রা’সী দলের বি’রু’দ্ধে রয়েছে ভ’য়ং’কর অ’প’রাধের অ’ভি’যোগ। বাহিনীটির প্রধান শাহাদত হোসেন মুনিয়া স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

অ’ভি’যোগ রয়েছে, স’ন্ত্রা’সী মুনিয়ার বড় বোন এবং কক্সবাজার মহিলা দলের সভানেত্রী নাসিমা আকতার বকুল সন্ত্রাসী বাহিনীটির অন্যতম মদদদাতা।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাসুম খান জানান, সাগরপারের স’ন্ত্রা’সী কর্মকাণ্ড দ’মনে পুলিশি অ’ভি’যান শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগেই। পুলিশি অ’ভি’যানের মুখে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল নিজেকে ‘পরিচ্ছন্ন নেতা’ দেখাতে গত শনিবার রাতে কটেজ ব্যবসায়ী সমিতির নামে একটি সভা ডাকেন।

এতে তিনি সমিতির সভাপতি পরিচয় দিয়ে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সুরক্ষার ডাক দিয়ে বলেন, পর্যটন এলাকায় কোনো দে’হ ব্যবসা এবং ই’য়া’বা কারবারির স্থান হবে না। এর এক দিন পর ওই নেতা ইয়াবার জলসা থেকে তরুণীসহ আ’ট’ক হলেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির বলেন, কাজী রাসেলের নামে মানবপা’চা’রের অ’ভি’যোগে থানায় মা’ম’লা করে কা’রা’গারে পাঠানো হয়েছে।

তাঁকে আ’ট’কের পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সব কিছু আমলে নিয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কাজী রাসেলের বড় ভাই কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর কাজী মোর্শেদ আহমেদ বাবু জানান, পারিবারিক কলহের একটি ঘটনার জের ধরে পুলিশ তাঁকে আ’ট’ক করেছে।

কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল বলেন, ‘কোনো অ’প’রাধী দলের নেতা হতে পারে না। ‘অ’পরাধ করলেই শা’স্তি পেতে হবে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন