শাবনূরকে নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে আত্মহ’ত্যা করেন সালমান : পিবিআই

প্রকাশিত: ফেব্রু ২৪, ২০২০ / ০২:০৬অপরাহ্ণ
শাবনূরকে নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে আত্মহ’ত্যা করেন সালমান : পিবিআই

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সর্বকালের জনপ্রিয় নায়কদের অন্যতম সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি। চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে এবং মানসিক বিষণ্ণতায় তিনি আত্মহ’ত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। সালমানের রহস্যঘেরা মৃত্যু নিয়ে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন পিবিআইয়ের মহাপরিচালক ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। মনোজ কুমার মজুমদার বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহ’ত্যা করেছেন।

দীর্ঘ তদন্তের বিষয়ে পিবিআইপ্রধান বলেন, ২০১৬ সালে পিবিআই তদন্ত শুরু করে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জবানবন্দি গ্রহণ করতে বেশি সময় লেগেছে। ১৬৪ ধারায় ১০ জনের জবানবন্দি নিয়েছে পিবিআই। সালমানের তৎকালীন স্ত্রী সামিরাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে আরও কয়েকজনের সাক্ষ্য। নতুন করে আলামত হিসেবে একটি ফ্যান জব্দ করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, ওই ফ্যানে ঝুলেই আত্মহ’ত্যা করেছিলেন সালমান।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে সালমান শাহর। স্মার্টনেস-গ্লামার ও পারসোনালিটির কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত হয়ে ওঠেন এ নায়ক। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবি করেন। যার অধিকাংশই সুপারহিট। মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রাখলেও সালমানের বেশিরভাগ ছবির নায়িকা শাবনূর। এই জুটি তখন এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, যে কোনো ছবি মুক্তি পেলেই দর্শক প্রেক্ষাগৃহে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। একপর্যায়ে শাবনূরের সঙ্গে বিবাহিত সালমানের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। এর পর কলহ দেখা দেয় সালমানের পরিবারে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের মৃত্যু হয়। সেই থেকে তার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। হত্যা নাকি আত্মহ’ত্যা? অবশেষে পিবিআই জানাল, আত্মহ’ত্যা করেছিলেন সালমান।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের রহস্যজনক মৃত্যুর পর এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহ’ত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। প্রায় ১২ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তাতেও সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

মামলাটি এর পর র‌্যাব তদন্ত করে। তবে র‌্যাবের দ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‌্যাবকে মামলাটি আর না তদন্ত করার আদেশ দেন।

তার পর মামলাটির তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের হাতে। দীর্ঘ তদন্তের পর সোমবার পিবিআই জানাল সালমানকে হত্যা করা হয়নি। তিনি আত্মহ’ত্যা করেছেন।

সূত্র : যুগান্তর

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন