সেই পাপিয়া দামি হোটেলের দামি রুমে রাখতেন বেতনভুক্ত নারী

প্রকাশিত: ফেব্রু ২৩, ২০২০ / ০৫:০৯অপরাহ্ণ
সেই পাপিয়া দামি হোটেলের দামি রুমে রাখতেন বেতনভুক্ত নারী

নরসিংদী জে’লা যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া রাজধানীর গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের বিলাসবহুল রুম ভাড়া করে অসামাজিক কার্যক্রম চালাতেন। শনিবার তাকে গ্রে’প্তারের পর ওই পাঁচ তারকা হোটেলের দামি রুমে অ’ভিযান চালিয়ে চার নারীকে আ’টক করে র‌্যা’ব।

এই চারজনসহ সাতজনকে ওই রুমে রেখে মোটা অঙ্কের টাকায় তাদের দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন তিনি। পাপিয়াকে গ্রে’প্তারের পর শনিবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যা’ব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নরসিংদী জে’লা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়ার প্রকাশ্য আয়ের উৎস গাড়ি বিক্রি ও সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা। তবে এর আড়ালে তিনি মূলত অ’বৈধ অ’স্ত্র ও মা’দকের ব্যবসা করতেন। কোনো কাজ বাগিয়ে নিতে পাঁচ তারকা হোটেলে সুন্দরী তরুণীদের পাঠিয়ে মনোরঞ্জন করতেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

গত তিন মাসে তিনি শুধু ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলেই বিল পরিশোধ করেছেন এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। ওই হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুট সবসময় তার নামে বরাদ্দ থাকত। হোটেলটির বারে তিনি প্রতিদিন বিল দিতেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

অথচ বৈধভাবে তার বার্ষিক আয় মাত্র ১৯ লাখ টাকা। গো’য়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যাপারে অনুসন্ধান করছিল র‌্যা’বের একটি দল। বি’ষয়টি আঁচ করতে পেরে শনিবার সকালে তড়িঘড়ি করে দেশত্যাগের চেষ্টা চালান পাপিয়া। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩ সহযোগীসহ তাকে গ্রে’প্তার করেছে র‌্যা’ব-১। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই পাঁচ তারকা হোটেল থেকে চার নারীকে আ’টক করা হয়। মোটা অঙ্কের টাকায় তাদের দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কাজ করিয়ে আসছিলেন পাপিয়া ও তার স্বামী।

গ্রে’প্তার অন্য তিনজন হলেন- পাপিয়ার স্বামী ও তার অ’বৈধ আয়ের হিসাবরক্ষক মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার। তাদের কাছে পাওয়া গেছে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ জাল টাকা, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলংকান মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ মার্কিন ডলার ও সাতটি মোবাইল ফোন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যা’ব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফীউল্লাহ বুলবুল বলেন, গাড়ির ব্যবসার আড়ালে পাপিয়া অ’বৈধ অ’স্ত্র, মা’দক ব্যবসা ও চাঁ’দাবাজিসহ বিভিন্ন অ’নৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সমাজসেবার নামে তিনি নরসিংদীর অনেক অ’সহায় নারীকে অ’নৈতিক কাজে লিপ্ত করে আসছিলেন।

অধিকাংশ সময় তিনি নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করেন। সেখানে তার ও তার স্বামীর ব্যবসায়িক অংশীদারদের অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য নারী সরবরাহ করাই ছিল তার মূল কাজ। নরসিংদীতে চাঁ’দাবাজির জন্য তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে।

স্বামীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অ’বৈধ অ’স্ত্র-মা’দক ব্যবসা ও চাঁ’দাবাজির মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ে নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের মালিক হয়েছেন। তিনি গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুট নিজের নামে বুক করে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন। সেখানে তার অধীনে থাকা সাত নারীর কথা জানতে পেরেছে র‌্যা’ব। তাদের তিনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার করে টাকা দিতেন।

মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যা’ব জানায়, দেশে স্ত্রীর ব্যবসায় সহযোগিতার পাশাপাশি থাইল্যান্ডে তার বারের ব্যবসা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অ’বৈধ অ’স্ত্র-মা’দক ব্যবসা ও চাঁ’দাবাজিসহ বিভিন্ন অ’নৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বি’রুদ্ধে একাধিক মা’মলা বিচারাধীন।

তিনি স্ত্রীর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অ’সহায় নারীদের অ’নৈতিক কাজে ব্যবহার করেন। নরসিংদীর ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামের প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে চলে মা’দক ব্যবসা। জে’লা শহরের বাইরে গেলে ক্যাডার বাহিনী তাকে বিশাল গাড়িবহরের মাধ্যমে মহড়া দিয়ে থাকে। অ’পরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অ’বৈধভাবে আয় করা টাকায় নরসিংদী ও ঢাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে।

পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা সবসময় পাপিয়ার সঙ্গে থাকতেন। তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। পাশাপাশি তার সব অ’বৈধ ব্যবসা, অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহযোগিতা করতেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নরসিংদী জে’লা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জে’লা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভুইয়া সমকালকে বলেন, অনেক দিন ধরেই পাপিয়া নানা অ’পকর্মে জড়িত। এলাকার এক এমপি তাকে হঠাৎ যুব মহিলা লীগে ভিড়িয়েছেন। এর দায় তাকেই নিতে হবে।

নরসিংদী জে’লা যুব মহিলা লীগের সভাপতি তৌহিদা সরকার রুনা সমকালকে বলেন, ছয় বছর ধরে পাপিয়া কমিটিতে রয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য তার জানা ছিল না।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন