যুবলীগ নেত্রী পাপিয়া প্রতিদিন বারের বিলই দিতেন আড়াই লাখ টাকা

প্রকাশিত: ফেব্রু ২৩, ২০২০ / ১২:১২অপরাহ্ণ
যুবলীগ নেত্রী পাপিয়া প্রতিদিন বারের বিলই দিতেন আড়াই লাখ টাকা

প্র’তারণা, অর্থ পাচার, জাল টাকা সরবরাহ, মা’দক ব্যবসা ও অ’নৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রে’প্তার করেছে র‌্যা’ব। শনিবার তাদের গ্রেড্তার করা হয়। গ্রে’প্তার ব্যক্তিরা হলেন- নরসিংদী জে’লা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নুর পাপিয়া (২৮), তার স্বামী মফিজুর রহমান (৩৮), মফিজুরের ব্যক্তিগত সহকারী সাব্বির খন্দকার (২৯) ও পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা (২২)।

র‍্যা’ব জানায়, সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নয়াদিল্লিতে যাওয়ার সময় বহির্গমন গেট থেকে মফিজুর ও সাব্বিরকে গ্রে’প্তার করা হয়। এরপর তাঁদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিন থেকে পাপিয়া ও তায়্যিবাকে গ্রে’প্তার করে র‌্যা’ব-১–এর একটি দল। পরে এদের কাছ থেকে জাল টাকা, ডলারসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা জ’ব্দ করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যা’বের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান র‌্যা’ব-১–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল। তিনি বলেন, হোটেল ওয়েস্টিনের ২১ তলার প্রেসিডেন্ট কক্ষটি গত নভেম্বর মাসে ভাড়া নেন পাপিয়া। তিনি গত তিন মাসে ওই কক্ষের ভাড়া পরিশোধ করেছেন প্রায় ৮৮ লাখ টাকা।

১৯ তলায় একটি বার রয়েছে, যেটি তিনি পুরোটাই বুক করে নিতেন। সেখানে প্রতিদিন তিনি আড়াই লাখ টাকা মদের বিল পরিশোধ করতেন। সব মিলিয়ে দেখা যায় গত তিন মাসে তিনি প্রায় তিন কোটি টাকা বিল পরিশোধ করেছেন হোটেল কর্তৃপক্ষকে।

র‌্যা’ব কর্মকর্তা শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, পাপিয়ার আয়কর ফাইল তলব করে দেখা গেছে, সেখানে তিনি বছরে ২২ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। অথচ তাঁর প্রতিদিন বারের বিলই আসে আড়াই লাখ টাকা। এত টাকার উৎস কোথায়? জানতে চাইলে পাপিয়া র‌্যা’বকে জানিয়েছেন, যাঁরা হোটেলে আসতেন, তাঁদের কাছে ‘মেয়ে’ পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

এরপর অ’শ্লীল ভিডিও তুলে ওই সব ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। লোকলজ্জার ভ’য়ে কেউ মুখ খুলত না। এ রকম সাতজন উঠতি বয়সী তরুণীর সঙ্গে র‌্যা’বের কথা বলা সম্ভব হয়েছে। যাঁদের মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতেন পাপিয়া।

বিনিময়ে তাঁদের ব্যবহার করা হতো। কেউ রাজি না হলে তাঁদের লা’ঠি দিয়ে পে’টাতেন পাপিয়া। আবার কোনো কোনো মেয়ের আ’পত্তিকর ছবি ‘বড়লোক’ কাস্টমারদের মুঠোফোনে পাঠিয়ে দিয়ে আগ্রহ তৈরি করতেন। এরপর ওই লোকগুলো এলে তাঁদের জি’ম্মি করা হতো।

র‌্যা’বের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পাপিয়া পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তেজগাঁও এফডিসি গেটসংলগ্ন এলাকায় অংশীদারত্বে তাঁর একটি ‘কার এক্সচেঞ্জ’ নামক গাড়ির শোরুম আছে। এ ছাড়া নরসিংদী জে’লায় তাঁর ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামে একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার আছে।

এসব ব্যবসার আড়ালে তিনি অ’বৈধ অ’স্ত্র, মা’দক ব্যবসা, চাঁ’দাবাজিসহ বিভিন্ন অ’নৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি সমাজসেবার নামে নরসিংদী এলাকায় অ’সহায় নারীদের আর্থিক সহযোগিতার নামে তাঁদের অ’নৈতিক কাজে লিপ্ত করতেন। বছরের অধিকাংশ সময় তিনি নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করেন।

নরসিংদী এলাকায় চাঁ’দাবাজির জন্য তাঁর একটি ক্যাডার বাহিনী আছে। এ ছাড়া তাঁর স্বামীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অ’বৈধ অ’স্ত্র, মা’দক ও চাঁ’দাবাজির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের মালিক হয়েছেন।

শামীমা নুর পাপিয়ার রাজনৈতিক পরিচয় প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী জে’লা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুমি সরকার। তিনি বলেন, পাপিয়ার বি’ষয়গুলো লোকমুখে তিনি শুনেছেন।

নরসিংদী জে’লা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জে’লা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভুইয়া বলেন, অনেক দিন ধরেই পাপিয়া নানা অ’পকর্মে জড়িত। এলাকার এক এমপি তাকে হঠাৎ যুবলীগে ভিড়িয়েছেন। এর দায় তাকেই নিতে হবে।

নরসিংদী জে’লা যুব মহিলা লীগের সভাপতি তৌহিদা সরকার রুনা বলেন, ছয় বছর ধরে পাপিয়া যুবলীগের কমিটিতে রয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য তার জানা ছিল না।

সূত্র : সময়ের কণ্ঠস্বর

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন