ইসলামে নারীর প্রতি সম্মান আমাকে মুগ্ধ করেছেঃ নওমুসলিম

প্রকাশিত: ফেব্রু ২০, ২০২০ / ০৩:২৮পূর্বাহ্ণ
ইসলামে নারীর প্রতি সম্মান আমাকে মুগ্ধ করেছেঃ নওমুসলিম

আমি নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী। প্রথম যৌবনেই আমি ইসলামের প্রতি আগ্রহী হই। ভিক্টোরিয়ায় থাকাকালীন আমার একজন শিক্ষার্থী ছিল। সে ছিল সোমালিয়ার অধিবাসী। তাকে আমার অধীনে ‘কনজাম্পশন’ বিষয়ক একটি অ্যাসাইনমেন্ট করতে দেওয়া হয়।

তার উত্তরটি আমার চেনাজানা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না। তাই আমি তাকে বলি, তুমি ভালো করেই জানো এই প্রশ্নের উত্তর এটি নয়। তখন সে তার পারিবারিক নি’র্ম’মতার কথা ব্যাখ্যা করে, যা ছিল আমার চিন্তারও বাইরে।

এরপর আমি জাপানে যাই এবং সেখানে বহু মুসলিম শিক্ষার্থী ছিল। তাদের সঙ্গে আমার ইসলাম বিষয়ে কথা হয়। তাদের বক্তব্য ছিল আমার চিন্তা-চেতনা ও জানাশোনার বিপরীত। তখন মনে হলো, ইসলাম সম্পর্কে আমার জানা প্রয়োজন।

সেখানে একটি ইসলামিক সেন্টার ছিল। আমি ইসলামী বই পড়তে আরম্ভ করলাম। বিশেষত মানুষের সঙ্গে ত’র্ক করতে, যা প্রয়োজন মনে করেছিলাম।

মুসলিম হওয়ার আগে আমি ছিলাম একজন নারীবাদী। বাস্তবতা হলো, নারীরা ইসলামেই সবচেয়ে বেশি অধিকার ভোগ করে। পূর্বাপর অধ্যয়নের পর আমার মনে হয়েছে, নারীবাদের পুরো ধারণাটাই নারীর জীবন আরো সংকীর্ণ করে ফেলারই একটি পথ।

নারীবাদ—যা আধুনিকতার যুক্তিতে আ’বদ্ধ তার চেয়ে ইসলামে নারীর অবস্থান আরো মর্যাদাপূর্ণ, আরো বেশি উষ্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ। সাধারণ একজন নারীকে ইসলাম বোনের যে মর্যাদা ও সম্মান দিয়েছে, সেটাই কিন্তু নারীর জন্য নারীবাদীদের প্রধান দাবি। কিন্তু তারা তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে এই নারীর বর্তমান অবস্থা ও অবস্থানের জন্য ইসলামকে দোষারোপ করা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।

আমার বিশ্লেষণ হলো, ইসলামে নারীর প্রকৃত অবস্থান ও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সহায়ক ও সহযোগিতাপূর্ণ। সেটা আমি নিজেকে দিয়েই অনুভব করি। মুসলিম হওয়ার আগে আমি ভাবতাম, আমার শিক্ষা ও পরিবার যদি ভালো হয় এবং আমি যদি জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হই, তা হলেই ঠিক আছে।

আমি বিয়ে করলাম কি না বা আমার সন্তান হলো কি না সেটা কোনো বিষয় নয়। কিন্তু মুসলিম হওয়ার পর বিয়ে জীবনের গুরুপূর্ণ বিষয় এবং বিয়ের পর সন্তান গ্রহণ করা আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পেল। বিয়ের আগে আমি ভাবতেই পারিনি একজন মানুষের সঙ্গে আমার এত সুন্দর সম্পর্ক হতে পারে।

বিয়ে, স্বামী, সন্তান ও সংসার আমার জীবনে স্বস্তি ও পূর্ণতা এনেছে। আমার স্বামী নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী নন। আমাদের সংস্কৃতিও ভিন্ন। হ্যাঁ, আমরা উভয়ে মুসলিম। আমাদের সব কাজের ভিত্তি ইসলাম, যা আমাদের বেশির ভাগ দূরত্ব দূর করে দিয়েছে। ইসলামের বিধি-বিধানকে প্রাধান্য দেওয়ায় অনেক বিষয় আমাদের বিবেচনায় নিতে হয়নি।

ব্যক্তিস্বাধীনতার ব্যাপারে নিউজিল্যান্ডের অবস্থান স্পষ্ট। এখানে মানুষ যা ইচ্ছা পরিধান করার অধিকার রাখে। তাহলে কেন আমি হ’য়’রা’নি ছাড়া হিজাব পরিধান করতে পারব না? তার চেয়েও বড় কথা হলো, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের মূল কথা ব্যক্তিজীবনের স্বাধীনতা। সে হিসেবে আমি স্বাধীন, যতক্ষণ না আমি কোনো আইন ভঙ্গ করছি বা কাউকে ভয় দেখাচ্ছি। আমি শুধু শপিং করছি এবং নিজের ব্যবসা নিয়ে চিন্তা করছি। তবে বাস্তবে কি আমি এই স্বাধীনতা ভোগ করছি?

ইসলাম আপন সত্তায় পরিপূর্ণ। এটি কথিত আধুনিকতা বা উগ্রতা কোনোটিই ধারণ করে না। বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের পথ দেখায় তা। তবে হ্যাঁ, ইসলাম অনুসারীদের অনেকেই পরিপূর্ণভাবে ইসলামকে ধারণ করে না। ফলে তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে উগ্রতার অ’ভি’যো’গ আসছে।

অন্যদিকে মিডিয়া তাদের দায় ইসলামের ওপর চাপাচ্ছে এবং ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলিম’ শব্দ ব্যবহার করছে। একজন পেশাদার গবেষক হিসেবে আমি বলব না এর পুরোটাই উদ্দেশ্যমূলক, তবে আমার সঙ্গে অনেকেই একমত হবেন যে, এই অপপ্রচারের বড় অংশই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

যেমন—তারা কোরআনে নারীবিষয়ক কয়েকটি উদ্ধৃতি একত্র করবে। কিন্তু এসব উদ্ধৃতির আগে বা পরে পুরুষদের ব্যাপারে বলা কথাগুলো উল্লেখ করবে না। ফলে মনে হবে তা নারীকে পর্দাবৃত করতে চায়, তার শরীর নিয়ে ল’জ্জা’বো’ধের জায়গা থেকে।

অথচ কোরআনে পুরুষকেও শালীন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মিডিয়ার এই অ’প’প্র’চারের কারণে মানুষ ইসলাম সম্পর্কে নে’তি’বাচক ধারণা নিয়ে জানতে শুরু করে। কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহ বিপুলসংখ্যক মানুষ কিছুদিন না যেতেই তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং আমার মতো ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন